হোম প্রচ্ছদ রণদার পিত্রালয় ও সাহাপাড়া সমাজ

রণদার পিত্রালয় ও সাহাপাড়া সমাজ


Warning: date() expects parameter 2 to be long, string given in /home/sharebiz/public_html/wp-content/themes/Newsmag/includes/wp_booster/td_module_single_base.php on line 290

অনাথ শিশুর মতো যার জীবনখানি নিস্তরঙ্গে নিথর হতে পারতোÑনিযুত জীবনের নিঠুর নিয়তিপাশে তিনি জুগিয়েছেন হƒৎস্পন্দনের খোরাক। দেশের জন্য লড়েছেন। শূন্য জমিনে গড়েছেন ব্যবসায় কাঠামো। জীবনের সব অর্জন লিখে দিয়েছেন মানুষের নামে। তিনিই দেশের সবচেয়ে সফল ট্রাস্টি প্রতিষ্ঠান ‘কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট’-এর জনক রণদা প্রসাদ সাহা। নারীশিক্ষা ও চিকিৎসায় নারী-পুরুষ কিংবা ধনী-গরিবের ভেদ ভেঙেছেন। তার জীবনেই রয়েছে সসীমকে ডিঙিয়ে অসীমে শক্তি সঞ্চারের কথামালা। এ জীবন ও কেতন যেন রোমাঞ্চিত হƒদয়েরই উদ্দীপ্ত প্রেরণা। পর্ব-০৬

মিজানুর রহমান শেলী: বাবুবাজার থেকে পশ্চিমে আন্ধরা যাওয়ার গলিপথ। এই পাড়া-পথে তিন-চারটি পাকা বাড়ি পেরোলেই রণদার পিত্রালয়। প্রথমেই চোখে বাধে চৌকাঠ ছিন্ন ফ্রেমে বাঁধা সদর দরজা। যদিও সেকালের গ্রাম্য দেউড়ির মতো করে এখানে কোনো হাতে বুনানো পর্দা বা চট, কিংবা পাটকাঠির কপাট বা আগল নেই। তবুও তা দেউড়ির মতোই দেখায়। দেউড়ি রেখাটি ভেদ করে সামনের ডান কোণে চোখে পড়ে পাথরে মোড়ানো অভিজাত এক মন্দির। মন্দিরের ঠিক চাঁদির ওপরে বড় অক্ষরে লেখা ১৩৫০। মানে মন্দিরটি বাংলা ১৩৫০ সালে প্রতিষ্ঠ পায়। খ্রিস্টীয় হিসাবে সময়টা ১৯৪৩। যখন বাংলায় চলছিল দুর্ভিক্ষ বা পঞ্চাশের মন্বন্তর।

যা হোক, সুউচ্চ মন্দিরের শ্বেতপাথরের ললাটে অঙ্কিত ১৩৫০ সংখ্যাটি আপনাকে পেছনের ইতিহাস-ঐতিহ্যে ফিরিয়ে নিতে পারে। তবে ভুল করলে চলবে না। মন্দিরের উচ্চতায় নজর কাড়লেও, দেউড়ি রেখাটি গলে ভেতরে ঢুকতেই ডান হাতে রয়েছে পাকা ইটে কোমর পর্যন্ত উঁচু টবে লাগানো একটি চারা গাছ। তুলসী চারা। এই তুলসী তলাকে সামনে করে উত্তর ভিটায় দাঁড়িয়ে রয়েছে ছনের তৈরি একখানি ঘর। ঘরটি গ্রাম্য ঐতিহ্যকে ধারণ করে।

ঘরখানি আগের রূপশোভায় দাঁড়িয়ে আছে। চারচালা ছনের ঘর। মূল ঘরের মাঝ বরাবর চালাটি নান্দনিকভাবে আকাশমুখী। চালাটির ঠিক চার ছত্রের নিচ থেকে বেরিয়ে এসেছে আরও চারটি ছত্র। যেন থরে থরে সাজানো আকাশচুম্বী বৃক্ষরাজির চেহারা। নিচের চালাটি বারান্দার ছানি। ঘরটি ছোট্ট হলেও তার চারদিকেই রয়েছে ঘোরানো বারান্দা। চারদিক থেকেই এই ঘরে প্রবেশ করা যায়। ঘরটির দিঘল দুটি পাশে যুক্ত হয়েছে দুটি করে দরজা, দুটি করে জানালা। আর আড়ের পাশে একটি করে দরজা। পুরোটা বারান্দা বাঁশের চটায় বানানো বেড়া দিয়ে কোমর পর্যন্ত ঘেরা হয়েছে। এই হালকা বেড়া ভেদ করে বারান্দায় উঠতে চার কোনায় বাসের তৈরি চারটি আগল ব্যবহার করা হয়েছে। বারান্দা থেকে দরজা ও ঘরের মূল মেঝের উচ্চতা খানিক বেশি। এ কারণে দরজার সম্মুখেই রাখা হয়েছে কাঠের তৈরি তিন ধাপে সিঁড়ি।

গাঁও-গেরামের ঐতিহ্য, প্রাচীনত্ব ও প্রাকৃতিক রূপশৈলী অক্ষুণœ রাখতে প্রতিবছরই এ ঘরটির ছনের ছাউনি পরিবর্তন করা হয়। সেক্ষেত্রে গড়ন কাঠামোয় প্রকৃত মাপজোক আর শৈলী অপরিবর্তিত থাকে। তবে সংরক্ষণে স্থায়িত্বের সুবিধা মাথায় রেখে ছনের নিচে টিনের কাঠামো ব্যবহার করা হয়। আবার শীতলপাটির ওপর বাঁশের চটায় কাঠামো দেওয়া বেড়াটি ছনের সঙ্গে জুতসই ঢং এনেছে। তবে এই বেড়ার পেছনে রয়েছে ইটের দেয়াল। দরজা-জানালায় সাধারণ নির্মাণশৈলীতে অতি সাধারণ নকশা ও তালা-কব্জা ব্যবহার করা হয়েছে। তবে সংরক্ষণ ও নিরাপত্তার খাতিরে তা আবার লোহার গ্রিলে তালাবদ্ধ রাখা হয়। দেখেই বোঝা যায় এটা পরবর্তী সংযোগ। ঘরটিকে গদি ঘর বলেই ডাকে সবাই। রণদা তার পরিণত জীবনে মির্জাপুর এসে এ ঘরেই সময় কাটাতেন।

এই ঘরের পেছনে চোখে পড়ে একটি নৌকা। বড় কুষ নৌকা। সংরক্ষণ কৌশল হিসেবে কংক্রিটের আয়তকার পাটাতনের ওপর থেকে উত্থিত সাতটি দেয়ালসদৃশ পাদানি উঁচু হয়ে নৌকাটিকে আগলে ধরে রেখেছে। ফলে নৌকাটি মাটির সংস্পর্শ পায় না, তাই সেলুলোজখাদক পোকামাকড় থেকেও নৌকাটি রক্ষা পায়। গাছগাছালিতে আবৃত ছায়াঘন চত্বরের মাঝে নৌকাটিকে রাখা হয়েছে। তাই ২০-৩০ শতাংশ আর্দ্রতা নৌকাকাষ্ঠে বেড়ে যাবে সেটা স্বাভাবিক। ০-৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এ কাঠ সাদা বাদামি বা রোটিÑহরেকরকম ছত্রাক বা ব্যাঙের ছাতায় আক্রান্ত হতে পারে। তাই নিয়মিত রঙ ও বাণিজ্যিক রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে তা সংরক্ষণ করা হয়। এই নৌকাটিতেই দুর্গা ডোবানোর আয়োজন সম্পন্ন হতো। পাশেই রয়েছে সেই পুরোনো রথ। তবে রথটি আর আগের কাঠামোয় অবিকল রাখা সম্ভব হয়নি। উচ্চতায় খাটো হয়ে এসেছে আগের চেয়ে। তবে পুরোনো বাড়ির আমেজখানি মোটা দাগে অক্ষুণœ রাখার প্রচেষ্টা নিয়ত নিয়ম মেনে চলছে।

যৌথ পরিবার হলো অদূর প্রাচীন বাংলার ঐতিহ্য। আর প্রতিটি যৌথ পরিবারে একটি উঠানকে ঘিরে টানা একটি বা দুটি ঘর থাকত। একইভাবে এখানে রয়েছে একটি পরিসরজুড়ে আলপনা সজ্জিত পাকা উঠান। উঠানের দুই পাশে টানা দুটি ঘর। পূর্ব পাশের ঘরটিও আগের ধাঁচেÑছন, টিন আর পোতা সানের ভিতের ওপর নির্মিত। আর পশ্চিমের পাশটিতে একটি দোচালা টিনশেডে আধুনিক পাকা বাড়ি। তবে এই ঘরটি প্রাচীন নয়; বরং একালেই নির্মাণ করা হয়েছে।

উঠানটি স্টিলের ছাদে আচ্ছাদিত। ঐতিহ্যকে অবিকল ধরে রাখতে এটা আধুনিক সংরক্ষণ পদ্ধতি। অনেক উঁচু স্টিলের খামের ওপর দোচালা টিনশেড। উচ্চতা এ পরিসরটিকে আভিজাত্য দিয়েছে। দিয়েছে একটি সাইট মিউজিয়ামের অনুভূতি। তাছাড়া মন্দিরকে ঘিরে বিভিন্ন পূজা-পার্বণের আয়োজন এ চালার নিচেই হয়। চালাখানি দর্শনার্র্থীদের জন্য বৃষ্টিতে কিংবা রোদে স্বস্তির ছানি অথবা এক দণ্ড জিড়িয়ে নেওয়ার উপলক্ষ। পূর্ব পাশের ঘরটিকে পেছন থেকে দেখলে ছনের তৈরি পুরোনো ঘর বলে মনে হয় না। এটিও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে সংরক্ষিত হয়েছে। প্রসঙ্গত বাংলাদেশে শতবর্ষের পুরোনো ঘরবাড়ি আর আঙিনা জাদুঘরের আদলে সাজিয়ে রাখার চল খুব কমই। ফরিদপুরের মধুখালীতে কবি জসিমউদ্দীনের বাড়িটি অবিকল আগের ধাঁচে সংরক্ষণ করার একক অনুপম দৃষ্টান্ত। দেখে মনে হয়, পল্লিকবি যেন এইমাত্র বাড়িটি ছেড়ে পরলোকে গিয়েছেন। যা হোক, লৌহজং নদীর কুলঘেঁষা আধুনিকতায় মোড়ানো রণদার এই পিত্রালয় ছিল সেকালে এক দারিদ্র্যে চাপা শান্ত নিলয়। আজকের মতো নয়। ছোট্ট দুটি কুঁড়েঘর। তাতে শীতল বাসের বেড়া। কাঠের দরজা-জানালায় ছিল না তেমন কোনো পেটের চাহিদা অতিক্রান্ত অভিলাষ। ছনের ছাউনিতে চাপা বাড়ন্ত বারান্দা; তাকে ঘিরে রাখত বাসের বেড়া। আড়াআড়ি ভঙ্গিতে বাসের চটায় বুনানো বেড়া। সামনে উঠান। উঠানটি যেন পিঠ উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা লৌহজংয়ের একটি ডানা। এই ডানায় নানা রকম ফুল-ফলের গাছে বাড়িটি ছিল আচ্ছাদিত। আঙিনা থেকে কয়েকটি আম গাছের গুঁড়ির ফাঁক গলে শান বাঁধানো ঘাট সিঁড়ি ভেঙে নেমেছিল লৌহজংয়ের পেটে। দেবেন্দ্র পোদ্দারের সংসারে তেমন আভিজাত্য ছিল না বটে, পোদ্দার বাড়ির আভিজাত্য স্থিতি পেয়েছিল শান বাঁধানো এ নদী ঘাটটির ছোঁয়ায়।

উত্তরের ঘরটিতে রণদা প্রসাদ সাহার শৈশব কেটেছে। তার বাবা দেবেন্দ্র পোদ্দারের ঘর এটি। মা কুমুদিনীরও আমৃত্যু যৌবন আর মাতৃত্ব কেটেছে এই ঘরে। গ্রামের বাড়িগুলোর মাঝ দিয়েই পা চলাচল পথের চল ছিল আগেকার গ্রাম্যরীতিতে। রণদার এ পিত্রালয়েও দেউড়ির ভেতর দিয়ে ঢুকে মন্দিরের সামনে দিয়ে লৌহজং নদীর পাকা শানের ঘাটকে ডান পাশে ফেলে একটি পা-রাস্তা চলে গেছে সোজা পশ্চিমে। পাকা এ রাস্তাটি আন্ধরাকে পাশ কেটে চিরহরির দিকে ছুটেছে। একটু এগিয়ে গেলেই কুতুববাজার। বাজারে পৌঁছার আগেই রাস্তাটিতে এক ঝুলন্ত ঢেউ খেলানো প্রান্তরের অনুভূতি পাওয়া যায়; যা টাঙ্গাইলের ভূ-শৈলীর নান্দনিকতা।

আন্ধরায় অন্তত ৭০ বা ৮০টি ঘরে রাজবংশীদের বসবাস। প্রায় পৌনে ২০০ লোক। মাছ ধরা, জাল বুনানো, আবার জাল মেরামতই এ রাজবংশীদের হাজার বছরের পেশা। আগের দিনে সবাই নদীতে মাছ ধরত। তবে এখন চক, পুকুর কিংবা নদীতে খুব কমসংখ্যক রাজবংশী মাছ ধরে। মাছ ধরার রেওয়াজ ইদানীং অনেক কমে এসেছে। এখন অনেকেই ভিন্ন ভিন্ন পেশায় যাচ্ছে। বেশিরভাগই চাকরি করেন। কেউ কেউ আবার রাজমিস্ত্রির কাজ করছেন। মাছের ব্যবসায় যারা এখনও আছেন, তাদের বেশিরভাগই মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসা করে থাকেন। ঢাকা কিংবা মির্জাপুর ও টাঙ্গাইলের বড় বাজারগুলোয় তাদের আনাগোনা।

আন্ধরাবাসীদের মাঝে যারা রাজবংশী হিন্দু, তুলনামূলক তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা দুর্বল। আন্ধরার নদীকূলের পাশঘেঁষা লোকদের জীবন প্রণালিতেও তেমন সাহাপাড়ার মতো আধুনিকতার ছোঁয়া স্পষ্ট হয়নি এখনও। তবে এক ধরনের শান্ত নীরবতা এখানে রয়েছে। এ পাড়াটির পশ্চিমে ঠিক নদী তটে একটি মন্দির দেখা যায়। মন্দিরটিতে ধর্মের আবাদে যে ভাটা পড়েছে, তা স্পষ্ট। যদিও সাহাপাড়ার মন্দিরগুলোয় নিয়ম মেনে পূজা-অর্চনা চলে; এমনকি ব্যবস্থাপনা ও আভিজাত্যেও রয়েছে সাধ্যমতো নিবেদন। আন্ধরার হিন্দুদের মাঝে রাজবংশী ছাড়াও রয়েছে সূত্রধর ও কায়স্ত। সূত্রধররা কাঠমিস্ত্রিও কাজ করে। আর কায়স্তরা বিভিন্ন চাকরি-বাকরির দিকে এখন ঝুঁকে পড়েছে।

আন্ধরায় দশ বা বারোখানি মুসলিম আবাস রয়েছে। আন্ধরা ও আশপাশের মুসলিমরা মিলে একটি মসজিদ স্থাপন করেছেন। মসজিদটি দক্ষিণের মাঠের মাঝে। কুতুববাজারকে পাশ কেটে পাড়া-পল্লির মাঝ দিয়ে একটি অসমতল মেঠো আঁকাবাঁকা পা চলাচল গলিপথে মসজিদে পৌঁছা যায়। আধুনিক দারুশিল্পীদের হাতে সজ্জিত হয়েছে মসজিদটির দরজাখানি। তবে মসজিদটির গাঠনিক ভঙ্গিমা আর অলঙ্কারিক রূপ শোভায় গ্রাম্য সাধারণ মুসলিমদের প্রচেষ্টা আর প্রণোদনা লক্ষ করা গেলেও আর্থিক দৈন্যতা স্পষ্ট। মসজিদটির উঁচু ঢিবি কিংবা বারান্দায় দাঁড়িয়ে চারদিকে তাকালে বিস্তীর্ণ এক ফসলি মাঠের শুভ্রতা ও সমৃদ্ধি অনুভব করা যায়।

চৈতালির মৌসুমজুড়েই এখানে সরিষার আবাদ হয়। তবে নামেমাত্র কয়েক জমিতে ইঞ্জিনচালিত সেচের পানিতে ধান রোপণ করা হয়। বর্ষায় এই মাঠে রাস্তা পর্যন্ত পানি ওঠে। কানায় কানায় পানি ভরে গেলে কলামোচা, শিশুমতি, রাতুলবোরো, বাশিরাজ, কাদোমণি, বিলকাঁকো, হলুদযাকোনের মতো আমন ধানও রাস্তাকে ছুঁয়ে যায়। এ সময় মসজিদে যাওয়ার জন্য ভেলা বা নৌকাই একমাত্র উপায়। তবে বিষধর সাপের উৎপাত এ সময় বেড়ে যায়। এই কারণে মুসল্লিরা এ সময় বেশ সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে মসজিদে নামাজ আদায় করেন।

সাহাপাড়ার পূর্বপাশে পাহারপুর। সেখানে হিন্দু ও মুসলিমদের বাস। ওখানের হিন্দুদের মধ্যে রয়েছে শিল ও সূত্রধর। শিলদের পেশা চুল কাটা। আর সূত্রধররা পেশায় কাঠমিস্ত্রি। বাজার থেকে দক্ষিণে সোজা এগিয়ে গেলেই সরিষাবাড়ী। এখানে রয়েছে জমিদার সদয় পোদ্দারের বাড়ি। তারপরে একটুখানি এগিয়ে গেলেই আশ্রম ও বিদ্যালয়। ১৯৩০ সালে এ আশ্রমটি সদয় পোদ্দারের ছেলের হাতে নির্মিত হয়।

এই পাড়া পাঁচটির মাঝে সাহাপাড়াটিই যেন কেন্দ্র। আর এ কেন্দ্রীকতার জš§ হয়েছে রণদা প্রসাদ সাহার পিত্রালয়কে কেন্দ্র করে। এ পিত্রালয়ে আগে থেকেই ছিল একটি মন্দির। টিনের ছাপরা আর বাঁশের বেড়ায় নির্মিত। ১৩৫০ বঙ্গাব্দে বা ১৯৪৩ সালে রণদা প্রসাদ মন্দিরটির অবকাঠামো ও নান্দনিক কাজে হাত দেন। মন্দিরটিতে দুর্গার পূজা হয়। তাই দুর্গা মন্দির বলে ডাকলে ভুল হবে না। পুরো বাংলা তথা টাঙ্গাইল এবং বিশেষত এই মির্জাপুর গ্রামের হিন্দুদের মাঝে দুর্গা দেবীর জনপ্রিয়তা বেশি। তাছাড়া রণদার এই মন্দিরের আভিজাত্য ও প্রয়োজনীয় সুবিধাও অধিক। বাবুবাজারের সন্নিকটে ইদানীং আরেকটি মন্দির নির্মিত হয়েছে। মন্দিরটিতে শিব ও কালির পূজা হয়। মন্দিরটি প্রতিষ্ঠায় রণদার ছোট কন্যা জয়পতি সাহার অবদান ছিল। তবে এ এলাকার সেরা দুর্গামন্দির হিসেবে রণদার পিত্রালয়ের মন্দিরই বেশি সমাদৃত। সে হিসেবে সাহাপাড়া ও রণদার পিত্রালয়ের গুরুত্ব স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে বিশেষায়িত। মন্দিরটির ঠিক গাত্রঘেঁষা দক্ষিণমুখী ঘরখানিতে বাবা দেবেন্দ্র পোদ্দার আর মা কুমুদিনী দেবীর সংসার তাই সমাজেরই বাড়ন্ত এক অধ্যায়।

সময়টা উনিশ শতকের শেষ দশকে। তখন সারা ভারতের মতো বাংলার এই টাঙ্গাইলের মির্জাপুর ছিল আর্থসামাজিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া। সাহাপাড়ার প্রতিটি সংসারের মতো দেবেন্দ্র পোদ্দারের সংসারেও ছিল অভাব-অনটন। অভাব-অনটনের এ সংসারে মা কুমুদিনী দেবীর পেটে আসেন রণদা। সে সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রেক্ষিতে রণদার জীবনখানি এই বয়ানে বিধৃত হবে।

গবেষক, শেয়ার বিজ

mshellyjuÑgmail.com