রণদা প্রসাদ সাহা স্বর্ণপদক পেলেন চার গুণীজন

শেয়ার বিজ ডেস্ক: দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা স্বর্ণপদক পেয়েছেন চার গুণীজন। গতকাল টাঙ্গাইলের মির্জাপুর কুমুদিনী কমপ্লেক্সে কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গল (বিডি) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ পদক তুলে দেন।
এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা প্রতিষ্ঠিত কুমুদিনী ট্রাস্ট মানবসেবার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তা অনুসরণ করে বাংলাদেশের বিত্তশালীরা এগিয়ে এলে দেশের মানুষের কষ্ট থাকবে না। তিনি বলেন, দানবীর রণদা প্রসাদ সাহা মানুষের কল্যাণে কাজ করতেন।
তিনি এক হাতে যেমন অর্থ আয় করতেন অন্য হাতে সাধারণ মানুষকে তা বিলিয়ে দিতেন। সারা জীবন নির্যাতিত মানুষের কথা তিনি ভেবেছেন। আজকে এ কুমুদিনী ট্রাস্ট আমি মনে করি, আমাদের দেশে নারী শিক্ষার প্রসার ঘটানো থেকে শুরু করে মানবসেবার যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, সে দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে আমাদের দেশে অনেক বিত্তশালী আছেন, তারাও করতে পারেন। তাহলে আমাদের দেশের মানুষের আর কোনো কষ্ট থাকবে না।
স্মারক স্বর্ণপদক বিতরণ শেষে তিনি কুমুদিনী হাসপাতাল ও ভারতেশ্বরী হোমস পরিদর্শন করেন এবং ভারতেশ্বরী হোমসের শিক্ষার্থীদের মনোমুগ্ধকর ডিসপ্লে উপভোগ করেন। বেলা ১১টার পর হেলিকপ্টারে করে ঢাকা থেকে মির্জাপুরে পৌঁছেই কুমুদিনী কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে পৌঁছেই প্রধানমন্ত্রী ফলক উšে§াচনের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আনুষ্ঠানিকতা সারেন। ছোট বোন শেখ রেহানাও এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন। পরে কুমুদিনী ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী (মরণোত্তর), জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম (মরণোত্তর), জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ও শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদকে ২০১৯ সালের রণদা প্রসাদ স্মারক স্বর্ণপদক দেওয়া হয়। সোহরাওয়ার্দীর পক্ষে জাতির জনকের ছোট মেয়ে শেখ রেহানা এবং নজরুলের পক্ষে কবির নাতনি খিলখিল কাজী পদক গ্রহণ করেন।
মানবহিতৈষী কাজে ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত থাকায় ব্রিটিশ সরকার রায় বাহাদুর খেতাব দিয়েছিল রণদা প্রসাদ সাহাকে। মানবসেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে স্বাধীনতার পর ১৯৭১ সালে সরকার তাকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক দেয়। রণদা প্রসাদ তার সব ব্যবসা, কলকারখানা, সম্পত্তি এবং দাতব্য প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য ১৯৪৭ সালে গঠন করেন ‘কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট অব বেঙ্গল’। সে সময় ট্রাস্টের প্রধান কার্যালয় ছিল নারায়ণগঞ্জে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ৭ মে পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীর সহযোগীরা কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট থেকে রণদা প্রসাদ সাহা ও তার ছেলে ভবানী প্রসাদ সাহাকে ধরে নিয়ে যায়। পরে তাদের আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। অন্যদের মধ্যে কুমুদিনী ট্রাস্টের পরিচালক ভাষাসৈনিক প্রতিভা মুৎসুদ্দি, কুমুদিনী উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক এমএ জলিল, কুমুদিনী উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল হালিম, ভারতেশ্বরী হোমসের অধ্যক্ষ মো. আনোয়ারুল হক উপস্থিত ছিলেন।