রফতানি আয়ে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা তৃতীয় মাসের মতো রফতানি আয়ে ইতিবাচক ধারা ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। সদ্য শেষ হওয়া নভেম্বরে পণ্য রফতানি থেকে আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ১২ শতাংশ বেশি অর্থ দেশে এসেছে। রফতানি আয়ের এ পরিমাণ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি। অক্টোবরে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৩০ শতাংশের বেশি। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছিল ৩৩ শতাংশ। আর পাঁচ মাসের হিসাবে অর্থাৎ চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে আয় বেড়েছে সাড়ে ১৭ শতাংশের মতো।
গতকাল বুধবার রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) রফতানি আয়ের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) বিভিন্ন পণ্য রফতানি থেকে এক হাজার ৭০৭ কোটি ৩৭ লাখ (১৭.০৭ বিলিয়ন) ডলার আয় করেছে বাংলাদেশ। এ অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ১৭ দশমিক ২৪ শতাংশ বেশি। এ পাঁচ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ১২ দশমিক শূন্য সাত শতাংশ। জুলাই-নভেম্বর সময়ে রফতানি আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল এক হাজার ৫২৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার। গত বছরের এ পাঁচ মাসে আয় হয়েছিল এক হাজার ৪৫৬ কোটি ২৯ লাখ ডলার।
নভেম্বরে ৩৪২ কোটি ২০ লাখ ডলার রফতানি আয় দেশে এসেছে। এ মাসে লক্ষ্য ধরা ছিল ৩১০ কোটি ৮০ লাখ ডলার। গত বছরের নভেম্বরে আয় হয়েছিল ৩০৫ কোটি ৭১ লাখ ডলার। এ হিসাবে নভেম্বর মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় বেড়েছে ১০ দশমিক ১০ শতাংশ। আর পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট (মাসভিত্তিক) আয় বেড়েছে ১১ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
ইপিবির তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, জুলাই-নভেম্বর সময়ে মোট রফতানি আয়ের ৮৩ দশমিক ১০ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক রফতানি থেকে। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ। অর্থাৎ ১৭ দশমিক শূন্য সাত বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ১৪ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলারই এসেছে এ খাত থেকে। এর মধ্যে নিট পোশাক রফতানি থেকে এসেছে ৭৩০ কোটি ৬০ লাখ ডলার; প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭ শতাংশ।
উভেন পোশাক রফতানি করে আয় হয়েছে ৬৮৮ কোটি ডলার; প্রবৃদ্ধি ২০ দশমিক ৩৩ শতাংশ। নিটে লক্ষ্যের চেয়ে আয় বেড়ে গেছে ১১ দশমিক এক শতাংশ। আর উভেনে প্রায় ১২ শতাংশ।
অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ২০ শতাংশের মতো। কিন্তু দ্বিতীয় মাস আগস্টেই তা হোঁচট খায়। ওই মাসে গত বছরের আগস্টের চেয়ে আয় কমে ১২ শতাংশ। এর পরের মাস থেকে তৈরি পোশাকসহ সামগ্রিক রফতানিতে ভালো প্রবৃদ্ধি হচ্ছে।
বাংলাদেশের পোশাকশিল্প মালিকরা গত কয়েক বছরে তাদের কারখানার উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নেওয়ায় ক্রেতাদের আস্থা বৃদ্ধি রফতানি আয় বাড়াতে অবদান রেখেছে বলে মনে করেন পোশাক শিল্প মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ’র সহসভাপতি ফারুক হাসান। তিনি বলেন, অর্থবছরের শুরুটা খুব ভালো হয়েছিল। কোরবানির ঈদের কারণে কয়েকদিন কারখানা এবং রফতানি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আগস্ট মাসে কিছুটা ধাক্কা খেয়েছিল। সে ধাক্কা আমরা সামলে নিয়েছি। এখন প্রতি মাসেই রফতানি আয় বাড়ছে।
খুশির খবর হচ্ছে আমরা এখন অনেক বেশি দামের পোশাকও রফতানি করছি। আমরা ক্রেতাদের পছন্দ এবং ডিজাইনের পণ্য দিতে পারছি। আমাদের প্রতি তাদের আস্থা বাড়ছে। তবে ভারত, চীন, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশ মার্কিন ডলারের বিপরীতে তাদের মুদ্রার ব্যাপক দরপতন করায় বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে বলে মনে করেন তিনি।
অন্যান্য পণ্যের মধ্যে জুলাই-নভেম্বর সময়ে কৃষিপণ্য রফতানি করে আয় হয়েছে ৪৫ কোটি ৮৬ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেশি। তবে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতে রফতানি আয় ১৬ দশমিক ১১ শতাংশ কমেছে। এ খাতে আয় দাঁড়িয়েছে ৪৩ কোটি ৪৭ লাখ ডলার।
একইভাবে পাট ও পাটপণ্য রফতানি আয়ও কমেছে। এ খাতে আয় হয়েছে ৩৫ কোটি ১৫ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২২ শতাংশ কম।
গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বিভিন্ন পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ তিন হাজার ৬৬৬ কোটি ৮২ লাখ (৩৬.৬৬ বিলিয়ন) ডলার আয় করে। এর মধ্যে ৩০ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলারই এসেছিল তৈরি পোশাক রফতানি থেকে। অর্থাৎ মোট রফতানির ৮৩ দশমিক পাঁচ শতাংশই এসেছিল এ খাত থেকেই।
২০১৭-১৮ অর্থবছরের সার্বিক রফতানি পাঁচ দশমিক ৮১ শতাংশ বাড়লেও তা ছিল লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে দুই দশমিক ২২ শতাংশ কম।
চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পণ্য রফতানি করে ৩৯ বিলিয়ন (তিন হাজার ৯০০ কোটি) ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে সরকার, যা গত অর্থবছরের চেয়ে চার শতাংশ বেশি। এবার দেশের প্রধান রফতানি পণ্য তৈরি পোশাক খাত থেকে ৩২ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলার আসবে বলে ধরা হয়েছে, যা মোট রফতানি লক্ষ্যমাত্রার ৮৩ দশমিক ৮২ শতাংশ।