রফতানি আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ শতাংশ পিছিয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক শেষে দেশের সার্বিক রফতানি আয় গত বছরের এ সময়ের চেয়ে বেড়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে পণ্য রফতানি করে দেশের মোট আয় হয়েছে ৮৬৬ কোটি ২৭ লাখ ডলার। গত বছরের প্রথম প্রান্তিকের আয় ছিল ৮০৭ কোটি ৮৮ লাখ ডলার। সে হিসাবে গত তিন মাসে সাত দশমিক ২৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় তিন শতাংশ বাস্তবায়ন হয়নি রফতানির।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। গতকাল সংস্থাটি কৃষি ও শিল্পপণ্যের রফতানির তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন দিয়েছে। তবে সেবা খাতের রফতানি আয়ের প্রতিবেদন এখনও প্রকাশ করা হয়নি। আগের মাসে প্রকাশিত তথ্যমতে, প্রথম দুই মাসের রফতানি আয় ছিল ৬৬২ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। সে হিসাবে গত সেপ্টেম্বর মাসের রফতানি আয় হয়েছে ২০৩ কোটি ৪১ লাখ ডলার।

আগের মাসের তথ্য এবং গতকাল প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যের তুলনা করে দেখা যায়, অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে লক্ষ্যমাত্রার প্রায় আট শতাংশ বেশি রফতানি আয় হয়েছিল। কিন্তু প্রথম প্রান্তিকের হিসাবে দেখা যায়, লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়েছে দুই দশমিক ৮৪ শতাংশ। অর্থাৎ প্রথম দুই মাসে রফতানি আয় বাড়লেও সেপ্টেম্বর মাসে কমেছে। সেপ্টেম্বর মাসের কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৭৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এ মাসে আয় হয়েছে ২০৩ কোটি ৪১ লাখ ডলার। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার ৭৪ কোটি ১৯ লাখ ডলার রফতানি কম হয়েছে ওই মাসে।

সূত্রমতে, চলতি অর্থবছরে সেবা খাত বাদে রফতানির মোট টার্গেট হচ্ছে সাড়ে ৩৭ বিলিয়ন ডলার (তিন হাজার ৭৫০ কোটি ডলার)। সে হিসাবে প্রথম প্রান্তিকে রফতানি আয়ের কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৯১ কোটি ৬০ লাখ ডলার। আর অর্জিত রফতানি আয় হয়েছে ৮৬৬ কোটি ২৭ লাখ ডলার। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিংড়ি, তামাক, হালকা প্রকৌশল পণ্য বাইসাইকেল ও তৈরি পোশাকের নিটওয়্যার খাতের রফতানি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেড়েছে। বাকি প্রায় সব খাতেই রফতানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে দেখা যাচ্ছিল শীর্ষস্থানীয় রফতানি খাত হলেও তৈরি পোশাক খাতটি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারছে না। এবার প্রথম প্রান্তিকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে এ খাতটির মধ্যে ওভেন পোশাকে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হলেও নিটওয়্যার খাতে অর্জিত হয়েছে। তৈরি পোশাকের নিটওয়্যারে এক প্রান্তিকে রফতানি হয়েছে ৩৭৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার। অন্যদিকে ওভেন খাতে ৩৩৯ কোটি ৭২ লাখ ডলারের রফতানি হয়েছে। সার্বিকভাবে তৈরি পোশাক খাতের সম্মিলিত রফতানি আয় হয়েছে ৭১৪ কোটি ৪১ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় সামান্য কম। তবে গত বছরের এ সময়ের চেয়ে সাত দশমিক ১৭ শতাংশ বেশি। মোট রফতানিতে এ খাতের অবদান দেখা গেছে ৮২ শতাংশের বেশি।

এদিকে চামড়াকে প্রোডাক্ট অব দি ইয়ার ঘোষণা করা হলেও এ খাতের রফতানিতে তেমন অগ্রগতি দেখা যায়নি। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের মোট রফতানি আয় হয়েছে ৩২ দশমিক ৪৬ কোটি ডলার। এর মধ্যে চামড়ার জুতার রফতানি বাড়লেও সাধারণ চামড়া ও অন্যান্য চামড়াজাত পণ্যের রফতানি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম হয়েছে। চামড়া খাতের রফতানি আয়ের মধ্যে সাধারণ চামড়ায় চার কোটি ৬৪ লাখ ডলার, চামড়াজাত পণ্যে ১১ কোটি এবং চামড়ার জুতায় ১৬ কোটি ৬১ লাখ ডলারের রফতানি আয় হয়েছে।