সম্পাদকীয়

রফতানি বাড়াতে খাত বহুমুখীকরণ করা হোক

প্রায় অর্ধশত খাতে গত ১০ মাসের প্রকৃত রফতানি আয় কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। সামগ্রিক হিসেবে এটা সুখের কথা হলেও একক মাস হিসেবে চলতি বছরের এপ্রিলে রফতানি আয়ে এসেছে হতাশাজনক চিত্র। একই সঙ্গে চামড়াজাত ও পাটজাত পণ্য রফতানিতে লাগাতার ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি শঙ্কা সৃষ্টি করছে। তাছাড়া ২০২১ সালের লক্ষ্যমাত্রা থেকে বর্তমানের এই রফতানি আয়ের অঙ্ক বহুদূর পিছিয়ে। তবে পোশাক খাতের ৫০ বিলিয়ন লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছতে প্রতি বছর ১২ দশমিক ২৫ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখার কথা। সেখানে ইপিবির এবারের অর্থবছরের চিত্রে পোশাক খাতে রফতানি আয় প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এটি আশার সঞ্চার করে। তবে দীর্ঘমেয়াদে লক্ষ্য অর্জন করতে হলে পণ্যের বহুমুখীকরণের বিকল্প নেই।
দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ‘১০ মাসে রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ১১ দশমিক ৬১ শতাংশ’ শীর্ষক প্রতিবেদন ছাপা হয়। সেখানে এমন তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের তথ্য মতে, তৈরি পোশাক রফতানি সন্তোষজনক হলেও মৎস্য ও হিমায়িত খাদ্য খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র দুই দশমিক ৬৫ শতাংশ। আর দ্বিতীয় বৃহত্তর রফতানি পণ্য চামড়া খাতে খরা কাটেনি। চলতি অর্থবছরে আট দশমিক ৬৯ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়েছে চামড়াশিল্পে। আবার পাটজাত পণ্য রফতানি খাতেও দেখা দিয়েছে প্রায় ২২ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি। তাছাড়া চলতি বছরের এপ্রিলে রফতানি আয়ে ৩০৮ কোটি ১০ লাখ ডলার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ৩০৩ কোটি ৪২ লাখ ডলার অর্জিত হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অব্যাহত রাখার ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে চোখের সামনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ২০২১ সালের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে সরকারের নীতিসহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে। সর্বোপরি দেশীয় উদ্যোক্তাদের অদম্য স্পৃহা নষ্ট করে দিতে পারে এমন যে কোনো অনুঘটনা থেকে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার যদি ব্যর্থ হয়, তবে ২০২১ সালের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানোর বিস্তর দূরত্বের স্বপ্ন স্বপ্নই রয়ে যাবে। ২০২১ সালের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছতে রফতানি আয় আরও বাড়িয়ে তোলার বিকল্প নেই। সে ক্ষেত্রে প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি আরও নতুন বাজারের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। সে ক্ষেত্রে বেশি মূল্য সংযোজন করা সম্ভব হয় এমন বহুমুখী পণ্যের দিকে সরকারকে অবশ্যই নীতিসহায়তা ও প্রণোদনা দেওয়া উচিত। গ্যাস-বিদ্যুতের মতো বিভিন্ন পরিষেবায় সংযোগের ক্ষেত্রে সংকট মিটমাট করার মধ্য দিয়ে সরকার দেশের রফতানি খাতের সেই পরিস্থিতি নিশ্চিতে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।

সর্বশেষ..