রমজানে ছোলার বাজার কিছুটা স্থিতিশীল

সাইফুল আলম, চট্টগ্রাম: পবিত্র রমজানে ভোগ্যপণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকে ছোলার। আমদানির সঙ্গে চাহিদার সামান্য হেরফের হলেই অস্থির হয়ে ওঠে বাজার। কিন্তু এবার অতিরিক্ত ছোলা মজুদ থাকায় বাজার অনেকটায় ভারসাম্যপূর্ণ। সংশ্লিষ্টরা রমজানে করছেন- এবার ছোলার বাজার স্থিতিশীল থাকবে। কারণ গত বছরের অবিক্রীত ছোলা এবং চলতি অর্থবছরেই আমদানিকৃত বিপুল পরিমাণ ছোলা বাজারে রয়েছ। যদিও রমজান শুরুর আগেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাইকারি ও খুচরা বাজারে প্রতিদিনে সর্বোচ্চ বিক্রয়মূল্য পার্থক্য ১৫ টাকা।
ট্যারিফ কমিশন ও সরকারি হিসাব থেকে জানা যায়, প্রতি মাসে ছোলার চাহিদা ১২ হাজার টন হলেও রমজান মাসে চাহিদা বেড়ে ৫০ হাজার টনে উন্নীত হয়। অপরদিকে চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমসের আমদানির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ছোলা আমদানি হয়েছিল এক লাখ ৬৯ হাজার টন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসেই আমদানি হয়েছে এক লাখ ২২ হাজার টন; অর্থবছরের বাকি এখনও তিন মাস। ফলে চাহিদার অতিরিক্ত ছোলা আমদানি হবে নিশ্চিত। বিগত অর্থবছরের চেয়ে অনেক বেশি ছোলা এবার আমদানি হয়েছে। এটি শুধু চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ছোলা আমদানির তথ্য; এর বাইরে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে মিয়ানমার থেকেও প্রচুর ছোলা আমদানি হচ্ছে। ছোলার চাহিদার তুলনায় আমদানি বেশি হওয়ায় রমজানের শুরুতে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টির সুযোগ নেই।
খাতুনগঞ্জ এলাকার ব্যবসায়ীরা বলেছেন, খাতুনগঞ্জের পাইকারিতে রমজানের ভোগ্যপণ্য বিক্রি শুরু হয় মূলত শবেবরাতের পর। অর্থাৎ ১ মে থেকে অন্তত ১০ দিন দেশের বিভিন্ন স্থানের ব্যবসায়ীরা পাইকারের কাছ থেকে পণ্য কিনে খুচরা বাজারে নিয়ে যায়। রমজান শুরুর দু-এক দিন আগে থেকে ১০ রমজান পর্যন্ত সেগুলো বিক্রি করবে। ফলে বাজারে দাম কেমন হবে তা সেই সময়ের ওপর নির্ভর করছে।
তারা জানান, গত মার্চের শেষ দিকে খাতুনগঞ্জে প্রতি মণ অস্ট্রেলিয়ার ছোলা বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার ২৫০ টাকায়, কেজিপ্রতি দাম ৬০ টাকায়। মঙ্গলবার বিক্রি হয়েছে মানভেদে মণপ্রতি এক হাজার ৯০০ থেকে দুই হাজার টাকায়। ফলে এক সপ্তাহ আগের চেয়ে দাম এখন কম। অথচ গত রমজানের প্রথম সপ্তাহে ছোলা বিক্রি হয়েছিল ৭০ থেকে ৮৫ টাকায়! অপরদিকে শহরের বিভিন্ন বাজার ও ডিপার্টমেন্ট স্টোরগুলোতে এ ছোলা বিক্রয় হচ্ছে ৭৫ টাকায়।
কয়েকজন ছোলা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক বাজার গত কয়েক মাস যাবৎ রমজানের ভোগ্যপণ্যের দাম যথেষ্ট সহনীয়, বন্দরে জাহাজজট, পরিবহন জটিলতা এড়াতে এবং আগের বছরের অবিক্রিত ছোলা বিক্রি ইত্যাদি বিবেচনায় রেখে আমদানি করা হয়। আর এবার যে পরিমাণ রমজানের পণ্য আমদানি হয়েছে এবং সরবরাহ পরিস্থিতি এভাবে থাকলে তাতে ছোলা কেজিতে গত বছরের চেয়ে ২০ থেকে ২৫ টাকা কম থাকবে। ফলে রমজানে দাম বাড়ার কোনো কারণ নেই। উল্টো কম দামে বিক্রয় হচ্ছে।
খাতুনগঞ্জের ডাল জাতীয় পণ্যের বিক্রেতা সোলায়মান বাদশা শেয়ার বিজকে বলেন, ‘পাইকারি বাজারে বেচাকেনা নেই, দামও কম। আড়তে পাইকারিতে মণপ্রতি বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৮৭০ টাকায় অর্থাৎ কেজিতে ৫০ টাকার মতো। ভালোমানের অস্ট্রেলিয়ার ছোলা ৫৫-৫৬ টাকা। রমজান পর্যন্ত বাজার এমনটাই থাকবে, বরং দাম আরও কমবে।
অপরদিকে পশ্চিম বাকলিয়া পিএম স্টোরের স্বত্বাধিকারী মানব পাল বলেন, মানভেদে ছোলা আমরা ৭০ থেকে ৭৫ টাকা বিক্রয় করছি। এক্ষেত্রে পাইকারি ও খুচরা মূল্যে পার্থক্য সামান্য থাকলেও এখনও বিক্রিই শুরু হয়নি। এবার বাজার মন্দা যাবে।
উল্লেখ্য, সারা বছরের ডালের চাহিদা পূরণ ও রোজা সামনে রেখে ১৭৬ জন আমদানিকারক ছোলা আমদানি করে। চলতি অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে দেশে মোট ছোলা আমদানি হয়েছে এক লাখ ২২ হাজার ২৭৩ টন। যার আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় ৬৯৭ কোটি দুই লাখ টাকা। এতে আমদানিকারকরা সরকারকে রাজস্ব প্রদান করে ৫৭ লাখ ৮২ হাজার টাকা। তাতে কেজিপ্রতি ছোলার মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৫৭ টাকা। এদিকে মোট আমদানির ৭৮ শতাংশই ছোলা আমদানি করে শীর্ষ ১০ আমদানিকারক।