বাণিজ্য সংবাদ

রমজানে দ্রব্যমূল্য বাড়ার সম্ভাবনা নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ী নেতারা। গতকাল রমজান মাসে দ্র্যব্যমূল্য সহনীয় ও পণ্যের গুণগত মান অক্ষুন্ন রাখাবিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় তারা এ দাবি করেন। ঢাকা চেম্বার অডিটোরিয়ামে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এ সভার আয়োজন করে। এতে বাণিজ্য সচিব মো. মফিজুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
সভায় স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি ওসামা তাসীর বলেন, বিগত বছরগুলোয় রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বিশেষ করে- ছোলা, চিনি, চাল, দুধ, ভোজ্যতেল, খেজুর, খেসারি প্রভৃতি পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। তিনি বলেন, ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যানুযায়ী, গত মার্চ থেকে এপ্রিল মাসের ব্যবধানে নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু পণ্যের দাম ২৬ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এর মূলে প্রথাগত বাজার সরবরাহ প্রক্রিয়া, অতিরিক্ত মজুদকরণের মাধ্যমে বাজারে পণ্যদ্রব্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অপর্যাপ্ত ও সমন্বয়হীন বাজার মনিটরিং, পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি, যানজট এবং অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয়ের মতো বিষয়সমূহ কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর উচ্চ সুদের হার এবং ঋণপ্রাপ্তি সংশ্লিষ্ট জটিলতা প্রভৃতির কারণে ব্যবসা পরিচালন ব্যয় বেড়ে যায়।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি এ অবস্থা নিরসনে দ্রুত খালাসকরণ, চাঁদাবাজি ও যানজট নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, নিয়মিত মূল্য তালিকা হালনাগাদ, প্রদর্শন ও মূল্যতালিকা কার্যকর করা, নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিন ও সান্ধ্যকালীন ব্যাংকিং সেবা প্রদানের জন্য গুরুত্বারোপ করেন। এ ছাড়াও জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে টিসিবির কার্যক্রম সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
বাণিজ্য সচিব মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, বাজার ব্যবস্থা স্থিতিশীল না হওয়ার কারণে রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। এ সময় তিনি ব্যবসায়ীদের পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি না করার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, এ বছর রমজানে ব্যবহƒত প্রতিটি পণ্যের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে, ফলে দাম বৃদ্ধির কোনো সম্ভাবনা নেই। কেউ যদি বাজারকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে, তাহলে সরকার তা কঠোরভাবে দমন করবে। এ সময় তিনি সবাইকে নীতি-নৈতিকতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান। এছাড়া ভোক্তাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য সামগ্রী কিনে মজুদ না করার প্রতিও গুরুত্ব দেন।
মুক্ত আলোচনায় বিশেষায়িত ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা অংশ নেন। এ সময় পাইকারি পর্যায়ে পণ্যের মূল্য এবং খুচরা পর্যায়ে পণ্যের দামের অসঙ্গতি, পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত ব্যয়, চাঁদাবাজি ইত্যাদি সমস্যার কথা তারা তুলে ধরেন।
এছাড়া সব প্রয়োজনীয় পণ্যের মজুদ পর্যাপ্ত রয়েছে জানিয়ে বাণিজ্য সচিবের মতামত ও আহ্বানের প্রতি তারা একাত্মতা জ্ঞাপন করেন। আলোচকরা পাইকারি ও খুচরা বাজারে মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি সরকারের পর্যবেক্ষণের আওতায় নেওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এ সময় ডিসিসিআই সহসভাপতি ইমরান আহমেদ, পরিচালক আলহাজ দ্বীন মোহাম্মদ, এনামুল হক পাটোয়ারী, মোহাম্মদ বাশীর উদ্দিন এবং বিশেষায়িত ব্যবসায়ী সমিতিসমূহের প্রতিনিধিরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ..