রমজান ও ঈদ ঘিরে ব্যস্ত টুপি কারিগররা

পবিত্র মাহে রমজান ঘিরে রূপগঞ্জের টুপি পল্লিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন টুপি কারিগরেরা। রূপগঞ্জের কারিগরদের হাতে তৈরি করা টুপি দেশের বাজার ছাড়িয়ে এখন ওমান, সৌদি আরব, কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যে যাচ্ছে। কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ১৬ গ্রামের প্রায় ৮০ শতাংশ নারী ঘরে বসে নিপুণ হাতে টুপি তৈরি করছেন। টুপির মহাজনদের মতে, এবার রমজানে প্রায় কোটি টাকার টুপি রফতানি হয়েছে।
সরেজমিনে টুপি পল্লির গ্রামগুলো ঘুরে দেখা গেছে, রোজা ও ঈদ উপলক্ষে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে টুপি গ্রামে। কারিগরেরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছে। কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ইছাখালী, ছাতিয়ান, হনিরা, পাড়াগাও, মাঝিনা, নাওড়া, পূর্বগ্রাম, বড়ালু, পশ্চিমগাঁও, পূর্ব চনপাড়া, ভাওলিয়াপাড়া, কেওঢালা, খামারপাড়া, তালাশকুর, নগরপাড়াসহ ১৬টি গ্রামের প্রায় কয়েকশ’ নারী কারিগর প্রতিনিয়ত টুপি তৈরি করছেন। কায়েতপাড়া ইউনিয়নের এ গ্রামগুলো এখন এক কর্মমুখর জনপদ। অন্যদিকে রাজধানীর কোলঘেষা ডেমরা উপজেলার নড়াইপুর, মীরপাড়া, রাজাখালী, কামারপাড়া, আমুলিয়া, ঠুলঠুলিয়া, দুর্গাপুর, খলাপাড়া, ধিৎপুর প্রভৃতি গ্রামেও তৈরি হচ্ছে টুপি।
নগরপাড়া গ্রামের টুপি কারিগর রাহাতুর বেগম বলেন, ‘ভাই রোজা আইলে টুপির বাজার ভালাই অয়। পরে আর তেমন বাজার থাহে না।’ বড়ালু গ্রামের কারিগর গুলেনূর বেগম বলেন, এইবার চাহিদা অনেক। গত ১৫ দিনে আমি ৩০০ টুপি বানাইছি। ইছাখালী গ্রামের মাসুমা বেগম বলেন, ‘খারাপ না ভাই। ভালাই আছি। আমাগো বানানো টুপি সৌদিসহ অনেক দেশে যায়। হুইনা মনডা খুব ভালা লাগে।’
পাড়গাঁও এলাকার মহাজন আবদুল মতিন বলেন, ‘রোজা আর ঈদের সময় আইলে হুতার চাহিদা বাড়ে। এ সময়ডা টুপির বাজার ভালা অয়। মধ্যেপ্রাচ্যে যায় রূপগঞ্জের তৈরি হাতের টুপি।’
  রাসেল আহমেদ