কোম্পানি সংবাদ

রাইট শেয়ার ইস্যু ও অনুমোদিত মূলধন বাড়াবে প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাইট শেয়ার ইস্যু এবং অনুমোদিত মূলধন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, কোম্পানিটি বিদ্যমান একটি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে দুটি রাইট শেয়ার ইস্যু করবে। প্রিমিয়ামসহ রাইট শেয়ারের ইস্যু মূল্য ১৫ টাকা। যেখানে পাঁচ টাকা প্রিমিয়াম।
রাইট শেয়ার ইস্যু করে বাজার থেকে অর্থ উত্তোলনের পাশাপাশি কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ২৫ কোটি টাকা থেকে ১০০ কোটি টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিদ্ধান্তটি কার্যকর করতে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও বিনিয়োগকারীদের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। বিনিয়োগকারীদের অনুমোদনের জন্য আগামী ২৫ আগস্ট বেলা ১১ টায় রাজধানীর কেআইবিসি অডিটরিয়ামে (কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ কমপ্লেক্স, সাউথ ব্লক, লেভেল-১, কৃষি খামার সড়ক, ফার্মগেট, ঢাকা-১২১৫) বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৮ জুলাই। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের অনুমোদনের পর রাইট শেয়ার সংক্রান্ত পরবর্তী রেকর্ড ডেটের তারিখ ঘোষণা করা হবে।
২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ও ১৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ডসহ সর্বমোট ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে বিমা খাতের কোম্পানি প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড। ঘোষিত লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের সম্মতিক্রমে অনুমোদনের জন্য আগামী ২৫ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ফার্মগেটে অবস্থিত কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ কমপ্লেক্স (কেআইবিসি) অডিটরিয়ামে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ জুলাই।
এদিকে প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ, ২০১৯) কোম্পানিটির প্রিমিয়াম আয় বেড়েছে চার কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এবং আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির লাইফ ফান্ডের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৫৯ কোটি ৯৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। যা আগের বছর একই সময় কোম্পানির প্রিমিয়াম আয় বেড়েছিল ১১ কোটি ৩১ লাখ টাকা। আর ওই সময়ে কোম্পানিটির লাইফ ফান্ডের পরিমাণ ছিল ৫৩২ কোটি ৯৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
এদিকে গতকাল ডিএসইতে কোম্পানিটির শেয়ারদর ১২ দশমিক ৯৫ শতাংশ বা ১৭ টাকা ২০ পয়সা বেড়ে প্রতিটি সর্বশেষ ১৫০ টাকায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ১৫০ টাকা ৭০ পয়সা। ওইদিন পাঁচ লাখ ২৮ হাজার ৪৬৩টি শেয়ার মোট এক হাজার ৮৭৬ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর সাত কোটি ৭৫ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনি¤œ ১৩৮ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৫৩ টাকা ৪০ পয়সায় ওঠানামা করে। এক বছরের মধ্যে শেয়ারদর ৮৯ টাকা থেকে ১৫৩ টাকা ৪০ পয়সায় ওঠানামা করে।
এর আগে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ১৫ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। আর তার আগের বছর অর্থাৎ ২০১৬ সালে আট শতাংশ নগদ ও ১৭ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল। বিমা খাতের এ কোম্পানিটি ২০০৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। ২৫ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ১৩ কোটি ৩৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির এক কোটি ৩৩ লাখ ৪৯ হাজার ১৭৫টি শেয়ার রয়েছে। ডিএসই থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্যমতে, কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৩৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ শেয়ার, প্রাতিষ্ঠানিক ২৮ দশমিক ১০ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৩২ দশমিক ৩১ শতাংশ শেয়ার।

সর্বশেষ..