সম্পাদকীয়

রাইডশেয়ারিংয়ে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় ব্যবস্থা নিন

যানজটের কারণে যথাসময়ে গন্তব্যে যাওয়া-আসায় নিত্য ভোগান্তির শিকার রাজধানীর বাসিন্দারা। এ অবস্থায় ক্রমেই জনপ্রিয় উঠেছে মোবাইল অ্যাপভিত্তিক রাইডশেয়ারিং সেবা। গণপরিবহন ব্যবহারের ঝামেলা থেকে মুক্তির পাশাপাশি এটি বাইকারদের অতিরিক্ত উপার্জনের সুযোগ করে দেয়। এখন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে চালকদের সংখ্যা। উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী চালকও আছেন। কিন্তু রাইডশেয়ারিংয়ে বিড়ম্বনারও শিকার হন সেবাগ্রহীতা। পাশাপাশি অতিরিক্ত বাইকের কারণে সড়কে বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে নিয়মিত।
ইদানীং রাইডশেয়ারিং চালকসংখ্যা এতই বেড়েছে যে, তারা রীতিমতো যাত্রী ডেকে তোলেন। বিভিন্ন মোড়ে তারা যাত্রীদের ডাকেন। অ্যাপ ব্যবহার করলে মূল কোম্পানি ভাড়ার একটি অংশ পায়। এতে নির্দিষ্ট গন্তব্যের জন্য ভাড়া নির্ধারিত, কিন্তু অ্যাপ না ব্যবহার করলে চালক ও যাত্রী দর কষাকষি করেন। মূল কোম্পানি ভাড়ার অংশ পায় না বলে দুজনই লাভবান হন। তাই বর্তমানে অ্যাপের বাইরে চুক্তিতে যাত্রী পরিবহনে আগ্রহী চালক-যাত্রী; কিন্তু তাতে যাত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থাকে।
অ্যাপ ব্যবহার করলেই যাত্রী নিরাপদ, সেটি ভাবার সুযোগ নেই। রাইডশেয়ারিং চালকেরা ভুয়া পরিচয়পত্র ও ঠিকানা দিয়ে নিবন্ধিত হন। গত ২৫ এপ্রিল রাজধানীতে উবার পরিচালিত ‘উবার মোটো’র দুর্ঘটনায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ফাহমিদা হক লাবণ্য নিহত হন। এরপর পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, উবারচালক যে ঠিকানা দিয়ে নিবন্ধন করেছিলেন, তা ছিল ভুয়া। অর্থাৎ রাইডশেয়ারিং কোম্পানিগুলো জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে দেখে না।
অ্যাপের মাধ্যমে রাইডশেয়ারিং যান ডাকলেই তা নির্ভরযোগ্য সেটি যখন প্রশ্নবিদ্ধ, ঠিক সে সময়ই গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘নিয়ন্ত্রণহীন বাইক রাইডশেয়ারিং: ঢাকায় দৈনিক নামছে ২৫২ মোটরবাইক’ শীর্ষক প্রতিবেদন সাধারণ মানুষকে হতাশ করবে। খবরে বলা হয়, আগের ছয় বছরে এ সংখ্যা ছিল প্রতিদিন গড়ে ১০৩টি এবং বাইক দুর্ঘটনা বাড়লেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদাসীন।
আমাদের দেশে নাগরিকদের আইন মেনে চলার প্রবণতা কম। কর্তৃপক্ষ উদাসীন থাকলে এটি আরও ব্যাপকতা পায়। এর অবসান দরকার। রাইডশেয়ারিং সাধারণ মানুষের জন্য যেন দুর্ভোগের কারণ না হয়, সে লক্ষ্যে ব্যবস্থা নিতে হবে। এখন বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে যাত্রী ডাকেন রাইডশেয়ারিং যানের চালকেরা। অনেক সময় সাধারণ মানুষ বাসে উঠতে পারে না। আবার ফাঁক পেলেই গাড়ি ঢুকিয়ে দেয় চালকেরা। এতে যানজট বাড়ে। রাইডশেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে আইনি কাঠামোয় এনে এ ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা হবে বলেই প্রত্যাশা।

সর্বশেষ..



/* ]]> */