সারা বাংলা

রাঙামাটিতে পাহাড়ধসে নিহত ২

প্রতিনিধি, রাঙামাটি: রাঙামাটিতে গত কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ায় পাহাড়ে বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে প্রশাসন তৎপরতা চালাচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে চলছে মাইকিং। তৈরি রাখা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র। এর মধ্যে গতকাল সোমবার দুপুরে কাপ্তাই উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের কলাবাগান এলাকায় পাহাড় ধসে শিশুসহ দুজন নিহত হয়েছে। নিহতরা হলেন- তাহমিনা আক্তার (২৫) এবং উজ্জ্বল মল্লিক (৩)।
জানা গেছে, গতকাল দুপুরে প্রচুর বৃষ্টিপাতে উপজেলার চন্দ্রঘোনা ইউনিয়নের কলাবাগান এলাকায় হঠাৎ করে পাহাড় ধসে পড়লে শিশুসহ দুজন নিহত হন। স্থানীয় লোকজন, প্রশাসন এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্তারা মাটি সরিয়ে নিহত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে। কাপ্তাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নুরুল আনোয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
রাঙামাটির পাহাড়ে হাজার-হাজার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ায় বেড়েছে পাহাড় ধসের শঙ্কাও। কিন্তু ঝুঁকি থাকলেও তারা পাহাড় ছাড়তে নারাজ। তবে প্রশাসনও আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে তাদের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সরিয়ে নিতে।
পাহাড়ে বসবাসকারীরা জানান, ২০১৭ সাল ছাড়া রাঙামাটিতে বড় ধরনের পাহাড় ধস হয়নি। এছাড়া রাঙামাটি পুরো শহর গঠিত হয়েছে পাহাড়কে ঘিরে। কোনো জায়গায় সমতল নেই। পাহাড়ি অঞ্চল রাঙামাটি। তাই পাহাড়ে বসবাস করেন তারা। কোনো ঘর ভাড়া করে থাকা তাদের পক্ষ সম্ভব নয়। কারণ ঘর ভাড়া করে থাকার মতো সামর্থ্য নেই তাদের। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ে ঘর বেঁধে বসবাস করেন তারা।
জেলা শহরের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ির এলাকা শিমুলতলীর মো. শাহজাহান জানান, দীর্ঘ বছর ধরে এ এলাকায় বসবাস করছেন। কোনদিন পাহাড়ধস দেখার অভিজ্ঞতা হয়নি। তবে ২০১৭ সালে যে পাহাড়ধস হয়েছে তার কথা আমরা কোনোদিন ভুলব না। কতশত মানুষ যে মাটি চাপা পড়েছে তার কোনো হিসাব নেই।
ভেদভেদীস্থ পশ্চিম মুসলিমপাড়ার আবদুল করিম জানান, বর্ষা আসলে আমাদের ভয় বেড়ে যায়। প্রতিনিয়ত ভয়ে থাকেন কখন পাহাড় ধসে তাদের ঘরকে চাপা দেয়।
ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও কেন পাহাড়ে বসবাস করছেন এমন প্রশ্নে তিনি জানান, তাদের থাকার কোনো জায়গা নেই। ঘর ভাড়া করার মতো সামর্থ্য নেই। পাহাড়ে না থাকলে কোথায় থাকবেস।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) রাঙামাটি সদর জোন কমান্ডার রফিক জানান, পাহাড় ধসের মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ টিমকে তৈরি রাখা হয়েছে। এছাড়া যান্ত্রিক সহায়তায় সেনাবাহিনী সবকিছু প্রস্তুতি সেরে রেখেছে বলে জানানা সেনাবাহিনীর এ কর্মকর্তা।
জেলা প্রশাসক (ডিসি) একেএম মামুনুর রশীদ জানান, ঝুঁকি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে ২১টি আশ্রয়কেন্দ্র। গত রোববার রাত থেকে তিনি সরেজমিনে বের হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সরিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছেন। সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, আনসার, ফায়ার সার্ভিস, হাসপাতাল, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ স্থানীয়দের একটি তালিকা করা হয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে তাদের কাজে লাগানো হবে। প্রত্যেক এলাকায় স্থানীয় কাউন্সিলরদের মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবী কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো। জেলা প্রশাসন মাইকিং, পোস্টারিং এর মতো সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১৩ জুন রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে সরকারি হিসেবে মতে ৯৮ এবং বেসরকারি হিসাবে শতাধিক মানুষ নিহত হন। এছাড়া গত বছরের ১২ জুন নানিয়ারচর উপজেলার সাবেক্ষং ইউনিয়নে ১১ জন পাহাড় ধসে নিহত হন।

সর্বশেষ..