সম্পাদকীয়

রাজউক উত্তরা প্রকল্পে দুর্নীতি রোধ করুন

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলোয় জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমেই বাড়ছে। ফলে মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন আয়ের মানুষের শহরে জীবিকার তাগিদেই বেশি সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয়। এক্ষেত্রে মাথাগোঁজার ঠাঁই বলতে ভাড়া বাসা সম্বল তাদের। নিজের বাসা কিংবা ফ্ল্যাটের কথা চিন্তাও করেন না অনেকে। এ শ্রেণির মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে ফ্ল্যাট তৈরির প্রকল্প হাতে নেয় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এতে আশাবাদী হয়ে অনেকেই ওই ফ্ল্যাট কেনার সিদ্ধান্ত নেন, অর্থও দেন। কিন্তু সেই প্রকল্পে অনিয়ম এবং হয়রানির অভিযোগের পাশাপাশি তা এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে এমনটা বলা হচ্ছে। সরকারি সংস্থার এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ অপ্রত্যাশিত।
গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। এতে বলা হয়, উত্তরা-১৮ নম্বর সেক্টরের ‘এ’ ব্লকে নির্মাণাধীন ‘রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্প’ নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন ফ্ল্যাট বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তিরা। অনিয়মের তথ্য তুলে ধরে ‘রিয়েল এস্টেট আইন ২০১০’ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ বাবদ মাসিক বাসা ভাড়ার অর্থ দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ গুরুতর বলেই মনে করি।
ঢাকা এবং অন্য বড় শহরগুলোর মধ্যবিত্ত কিংবা নিম্ন আয়ের মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মিটিয়ে বাড়তি অর্থ থাকে না বলতে গেলে চলে। এরপরও কষ্টে অনেকেই কিছু টাকা জমিয়ে রাখেন ভবিষ্যতের প্রয়োজনের কথা চিন্তা করে। সে টাকা ভালো কোনো সুযোগ পেলেই কেবল তারা কাজে লাগানোর চিন্তা করেন। রাজউক-উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পও তেমন সুবিধাজনক প্রকল্প ছিল নিঃসন্দেহে। বেসরকারি ডেভেলপাররা এমন প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেও এ প্রকল্পে সরকারি সংস্থা থাকায় অনেকেই ভরসা পেয়েছিলেন। কিন্তু সেই প্রকল্পেও অনিয়ম-দুর্নীতি তাদের হতাশই করবে বৈকি।
প্রকল্পের অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে তারা বলেছেন, জেনারেটর সেট ইউএসএ, জাপান, ইউকে কিংবা জার্মানি চার দেশের যে কোনো একটি দেশ থেকে অ্যাসেম্বল্ড ও পরীক্ষিত হওয়ার কথা থাকলেও চায়নিজ লাগানো হয়েছে। ব্যবহার করা হচ্ছে, নিম্নমানের সামগ্রী। কিস্তি নিয়েও নানা কথা তারা বলেছেন। সবচেয়ে গুরুতর ব্যাপার ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও এখনও তা করা হয়নি। অভিযোগগুলো গুরুতরই বটে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলে আমরা মনে করি। অভিযোগুলো খতিয়ে দেখে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। এছাড়া কেউ অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়ালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। সরকারি প্রকল্পে জনগণের হয়রানির মুখে পড়া কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।

সর্বশেষ..



/* ]]> */