সম্পাদকীয়

রাজধানীর অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদে ব্যবস্থা নেওয়া হোক

 

রাজধানীর প্রধান সড়ক কিংবা ফুটপাত সবখানেই চলছে অবৈধ দখলদারিত্ব। যান চলাচল কিংবা পায়ে হাঁটা উভয়ই হচ্ছে বাধাগ্রস্ত। এ সংকটে ব্যস্ত নগরী ঢাকা প্রতিদিনই তার গতি হারায়। স্থবির হয়ে যায় রাজধানীর অফিস-আদালত কিংবা ব্যবসা-বাণিজ্যের চাকা। রাজধানীর ব্যস্ততম ও অভিজাত এলাকা গুলশানের সাধারণ মানুষ যানজটের এই ভোগান্তি নিরসনে সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের নির্লিপ্ততায় অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছে। এর সমাধানে সিটি করপোরেশন, ট্রাফিক বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কীভাবে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে পারে, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন রাষ্ট্রজনের দায়িত্বশীল হস্তক্ষেপ অত্যাবশ্যকীয়।
বর্তমানে রাজধানীতে একটি গাড়ি ঘণ্টায় চলছে পাঁচ কিলোমিটার এক যুগ আগে চলেছে ২১ কিলোমিটার। এই গতিজড়তায় নানা কাজের চাপ মাথায় নিয়ে ছুটে চলা যাত্রীদের মানসিক চাপ বাড়ছে। সৃষ্টি হচ্ছে রোগবালাই। প্রতিদিন নষ্ট হচ্ছে ৫০ লাখ কর্মঘণ্টা, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকা। এর চক্রাকার ক্ষতির পরিমাণ সামনের দিনে আরও বাড়বে। যানজটের কারণগুলো বহু আগেই চিহ্নিত হয়েছে। হকার বা অস্থায়ী বিভিন্ন দোকানি ফুটপাতের পর প্রধান সড়কেরও একটি অংশ দখল করেছে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায়। পথচারী বাধ্য হয়ে রাস্তায় নামায় যান চলাচল যেভাবে বিঘিœত হচ্ছে, তেমনই দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। অধিকন্তু রাজধানীর অন্যান্য এলাকার মতো পুলিশ প্লাজা, গুলশান-১ থেকে গুলশান-২ পর্যন্ত এভিনিউ রোডে প্রাইভেটকার, সিএনজি ও মোটরসাইকেলের যত্রতত্র পার্কিং রাস্তাগুলোকে যেভাবে সংকুচিত করেছে, তার এক সরেজমিন চিত্র উঠে এসেছে গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে। ব্যক্তিগত কিংবা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই চালকেরা বিভিন্ন স্থাপনা, সড়ক ও ফুটপাতে পার্ক করলে ট্রাফিক পুলিশের সময়িক নজরদারিতে কোনো সুফল আসে না। তবে এই সংকট নিরসনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, ট্রাফিক পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে একে অন্যের ওপর দায় চাপিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার চর্চা রয়েছে। কখনও কখনও দায়িত্বশীল পক্ষ থেকেই এসব অবৈধ পার্কিংয়ে চাঁদা তোলার মতো নষ্ট বাণিজ্য হতে দেখা যায়। ট্রাফিক বিভাগ কেবল মামলা ও জরিমানা দিয়েই সন্তোষের ঢেঁকুর তোলে। এই সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্তাব্যক্তিদের যারা বিপথগামী তাদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা এবং সিটি করপোরেশন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও ট্রাফিক বিভাগকে সমন্বিত করার বিকল্প নেই। সমস্যা নিরসনে সিটি করপোরেশনের স্মার্ট পার্কিংয়ে সফটওয়্যার উন্নয়ন কতটা কার্যকর হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
তবে সব পক্ষের সমন্বয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে ঢাকার সার্বিক যানজট সমস্যা সমাধানে এই অবৈধ পার্কিং ও ফুটপাতের দখলদারিত্ব মুক্ত করতে সরকার সচেষ্ট হবে বলে আমরা প্রত্যাশা করি।

সর্বশেষ..



/* ]]> */