রাজশাহীতে লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন

আসাদুজ্জামান রাসেল, রাজশাহী: রাজশাহীতে লোডশেডিংয়ে জনজীবন অনেকটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। লোডশেডিংই এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কবলে দিনরাত পার করছেন রাজশাহীবাসী। মহানগরীসহ গোটা জেলা এমনকি আশপাশের জেলাগুলোতেও চরম লোডশেডিংয়ে নাকাল হয়ে পড়েছেন মানুষ। দিনরাত মিলে ৯ ঘণ্টাও বিদ্যুতের দেখা মিলছে না।

বিদ্যুৎ না থাকায় অধিকাংশ সময় বন্ধ রাখতে হচ্ছে রাজশাহীর কলকারখানাসহ দোকানপাটও। বিশেষ করে ইলেক্ট্রনিক্সনির্ভর দোকানগুলো নিয়ে চরম বিপাকে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। ঠিকমতো খুলতেই পারছেন না কেউ কেউ। এই অবস্থায় কেনাকাটায়ও নেমেছে ধস। বিদ্যুতের অভাবে থমকে যাচ্ছে অফিস আদালত, ব্যাংক-বিমা কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম। চার্জ দিতে না পারায় অনেক মানুষের অতি প্রয়োজনীয় মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অফিসিয়াল কাজের ল্যাপটপটিও।

রাজশাহী নগরীর সাধুর মোড়ের বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিন ধরেই বিদ্যুতের বিপর্যয়ে চরম অস্থিরতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তারা। শিক্ষানগরীখ্যাত রাজশাহীতে বিদ্যুতের এমন বিপর্যয়ে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক জীবনেও প্রভাব পড়ছে বলে অনেকের অভিযোগ। নোট, বইসহ অন্যন্য জিনিসপত্র ফটোকপি করতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা নষ্ট করছেন অনেকেই। তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সামান্য সময় বিদ্যুৎ না থাকলেই পড়তে হয় বিভিন্ন রকম বিড়ম্বনায়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী জানান, কয়েক দিন থেকে দিনেই ৮-১০ বার করে লোডশেডিং হচ্ছে। আবার রাতের অধিকাংশ সময় দেখা মিলছে না বিদ্যুতের। দিনে যেমন গরমের দাপটে পড়তে বসা যাচ্ছে না, তেমনি রাতে পড়া তো দূরের কথা, তারা ঠিকমতো ঘুমাতেও পারছেন না। এতে পড়ালেখায় ক্ষতি হচ্ছে। ঠিকমতো পড়তে বসতে পারছেন না বিদ্যুৎ না থাকায়। রাতে বাইরে বাইরে ঘুরেই সময় পার করতে হচ্ছে কখনও কখনও।

নগরীর সাহেববাজার এলাকার কাপড় ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎ তো দিনের অধিকাংশ সময় থাকে না, ব্যবসা করবো কীভাবে? বিদ্যুৎ না থাকলে দোকানে ক্রেতারা এসে দাঁড়াতেই চায় না। তাহলে কেনাকাটা তারা করবেন কীভাবে, তাই অধিকাংশ সময় দোকান বন্ধই রাখছেন।

বিদ্যুতের এমন লোডশেডিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী নাসরিন ইয়াসমিন জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ চাহিদামতো না পাওয়ায় লোডশেডিং হচ্ছে। জাতীয় গ্রিড থেকেই বিদ্যুৎ কম পাওয়া যাচ্ছে। চাহিদার প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ মিলছে। আবার লাইনের মাঝে মাঝে সমস্যা হচ্ছে বৃষ্টির কারণে। ফলে নগরীতে লোডশেডিং দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। আবার কখনও কখনও জাতীয় গ্রিড থেকেই লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। এতে আমরা নিজেরাও বিপাকে আছি। তবে আশা করছি, দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে।