রাজস্ব আদায় প্রবৃদ্ধি ২২-২৫% হতে পারে: এনবিআর চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক: চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আহরণ প্রবৃদ্ধি ২০ শতাংশ হবে। তবে জুন মাসের রাজস্ব আহরণ শেষে প্রবৃদ্ধি ২২ থেকে ২৫ শতাংশও হতে পারে বলে জানিয়েছেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। গতকাল আইডিইবি ভবনে বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ)-মূল্য সংযোজন কর আয়োজিত ‘এলটিইউ মোবাইল অ্যাপস এবং ভ্যাট-বিষয়ক তথ্যচিত্র উদ্বোধন’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) মো. আবুল কালাম আজাদ প্রধান অতিথি ছিলেন।
চেয়ারম্যান বলেন, সম্প্রতি খুবই উচ্চাবিলাসী একটি বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে উচ্চাবিলাসী বাজেট দেওয়ার উদ্দেশ্য হলোÑআমাদের লক্ষ্য যদি বড় থাকে, তাহলে সে লক্ষ্য অর্জনে খুবই চেষ্টা থাকবে। সরকার সে লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। সরকার অসম্ভবকে সম্ভব করছে। যখন প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুর মতো বড় প্রকল্প নিজস্ব অর্থায়নে করার পদক্ষেপ নেয়, তখন অনেকে মনে করেছে এর জন্য অন্যান্য বড় প্রকল্পগুলো বাধাগ্রস্ত হবে। কিন্তু কোনো প্রকল্প বাধাগ্রস্ত হয়নি। অর্থায়নের কারণে কোনো প্রকল্প পিছিয়ে নেই। আমাদের সে সক্ষমতা হয়েছে। সে সক্ষমতা অর্জনের ক্ষেত্রে এনবিআরের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এনবিআর অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ করে।
তিনি বলেন, এনবিআর গত এক দশকে যথেষ্ট সক্ষমতা অর্জন করেছে। চলতি অর্থবছরে গত অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব প্রবৃদ্ধি অনেক বেশি হবে। এ প্রবৃদ্ধি ২০ শতাংশের ওপরে হতে পারে। ২২ থেকে ২৫ শতাংশ হয়ে যেতে পারে। তবে জুন মাসের রাজস্ব আহরণের ওপর তা নির্ভর করবে। আমাদের রাজস্ব আহরণের মূল চালিকাশক্তি ভ্যাট। ভ্যাট থেকে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আসে। আগামী এক বছরের মধ্যে ভ্যাটকে আমরা সম্পূর্ণ অটোমেশনে নিয়ে যাব। ইলেকট্রনিক ফিসকেল ডিভাইস (ইএফডি) প্রবর্তন করা হবে। সেজন্য আমরা দরপত্র আহ্বান করছি। সব ব্যবসায়ীকে এর আওতায় নিয়ে আসা হবে। এর মাধ্যমে তাদের এনবিআরের মূল সার্ভারের সঙ্গে সংযুক্ত করব। এটি করতে পারলে ভ্যাট আদায় অটোমেটেড হবে। ব্যবসায়ীরা জনগণের কাছ থেকে যে ভ্যাট আদায় করবেন, তা সরকারি কোষাগারে জমা নিশ্চিত হবে। চেয়ারম্যান আরও বলেন, আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা প্রায় তিন লাখ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা আমাদের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ। আশা করি ব্যবসায়ী ও জনগণের সহযোগিতায় ভ্যাট, আয়কর ও শুল্ক আদায়ের মাধ্যমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হব।
মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, অ্যাপস কোনো কঠিন কাজ নয়, কঠিন কাজ হচ্ছে সাহস করে তা বানানো। আমরা অনেক সময় স্বচ্ছ হতে চাই না। ঝামেলা যদি বাধিয়ে রাখা যায়, তাহলে নানারকম সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায়। এলটিইউ সাহস নিয়ে স্বচ্ছ হতে অ্যাপ তৈরি করতে এগিয়ে আসায় তিনি ধন্যবাদ জানান। এলটিইউ’র মতো সাহস দেখাতে এনবিআরের অন্যান্য কমিশনারেট এগিয়ে আসবে বলে মনে করেন তিনি। এ অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে সময় সাশ্রয় হবে, ঘুষ-হয়রানি থাকবে না। সরকার যে প্রতিনিয়ত স্বচ্ছ হতে চায়, এটাই তার প্রমাণ।
স্বাগত বক্তব্যে এলটিইউ কমিশনার মো. মতিউর রহমান বলেন, এলটিইউ’র রাজস্ব আহরণ প্রবৃদ্ধি মে পর্যন্ত প্রায় ২১ দশমিক ৫৯ শতাংশ। অর্থবছর শেষে তা ২৪ শতাংশ হয়ে যাবে। তিনি এলটিইউ মোবাইল অ্যাপ ও এ দফতরের সাফল্য তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে এসিআই’র চেয়ারম্যান এম আনিসুদ্দৌলা, বিএটিবির চেয়ারম্যান গোলাম মাঈনুদ্দিনসহ এনবিআরের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।