রাজস্ব আহরণ নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকতেই পারে

চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী যে সন্তুষ্ট নন, সে বিষয়ে তিনি রাখঢাক করেননি। এর প্রথম পাঁচ মাসে শুল্ক, কর, মূসকসহ রাজস্ব আহরণের যে খবর পাওয়া গেল, তাকে খুব হতাশাজনকও বলা যাবে না। বছরের শুরুর দিকে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী যাওয়ার ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যর্থতা প্রতিবারই দেখতে পাওয়া যায়। এ নিয়ে বেশি উদ্বেগও বোধকরি যথার্থ নয়। তবে এবার উদ্বিগ্ন হওয়ার বাড়তি কারণ রয়েছে। তা হলো, নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর হওয়ার কথা ছিল চলতি অর্থবছর থেকে। সেটি হলে সার্বিক রাজস্ব আদায় পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে, সে দৃষ্টিকোণ থেকেই লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছিলেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন মহলের আপত্তির মুখে জাতীয় বাজেট পাসের আগমুহূর্তে ওই আইনের কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়। অনেকে তখন বলেছিলেন, তাহলে তো রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রাও কমানো দরকার। কিন্তু সেটি করা হয়নি। এক্ষেত্রে জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সরকারের রাজনৈতিক বিবেচনা কাজ করলেও জনপ্রশাসন পরিচালনাসহ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থকড়ি কোত্থেকে আসবে তারও সদুত্তর মেলেনি। অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী হচ্ছে না বলে খবর এবং তাতে অর্থমন্ত্রীর কিছুটা দুশ্চিন্তা প্রকাশে ওই প্রশ্নটি নতুন করে সামনে আসবে। অর্থমন্ত্রী কিন্তু বাজেট পাসের পরও খোলাখুলি বলেছিলেন রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা কী করে অর্জিত হবে, তা নিয়ে তিনি চিন্তিত।
নতুন ভ্যাট আইনের অধীনে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার বাড়তি রাজস্ব আদায়ের পরিকল্পনা ছিল এনবিআরের। এটা আসলে ছিল সরকারেরই পরিকল্পনা। হিসাবে দেখা যাচ্ছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে ঘাটতির পরিমাণ প্রায় পৌনে ৯ হাজার কোটি টাকা। ২০ হাজার কোটি টাকা বাড়তি রাজস্বের প্রায় অর্ধেক দেখা যাচ্ছে আদায় হয়নি গত পাঁচ মাসে এভাবে কেউ কেউ বিষয়টিকে দেখতে চাইতে পারেন। অর্থমন্ত্রীর অবশ্য ধারণা, ‘এ অবস্থাটা থাকবে না বদলাবে’। অর্থবছরের শেষ সময়টা আসতে থাকলে পরিস্থিতি প্রতিবছরই বদলাতে থাকে; রাজস্ব কর্মকর্তারাও তৎপর হতে থাকেন। অর্থমন্ত্রী ও তার সহকর্মীরা এবার নিশ্চয়ই তাদের কাছ থেকে আরও বেশি তৎপরতা দাবি করবেন। এনবিআরে নতুন একজন এসেছেন চেয়ারম্যান পদে। তাকেও সরকার ঘোষিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এনবিআরকে সক্রিয় করে তুলতে হবে। এনবিআর-বহির্ভূত কিছু রাজস্ব আহরণের ব্যাপারও রয়েছে। তবে অর্থমন্ত্রী যেভাবে বললেন, লক্ষ্যমাত্রা কমাবেন না সে অবস্থানে বোধহয় শেষ পর্যন্ত থাকতে পারবেন না তিনি। প্রতি অর্থবছরেই কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা একটু বাড়িয়ে ধরা হয়, যাতে এর কাছাকাছি যাওয়া যায়। রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা সংশোধনও করা হয়; কখনও কখনও একাধিকবার। সরকারের আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ছয় মাস পরও কিন্তু সেটা করা যেতে পারে। তবে মনে হচ্ছে, বাজেট বাস্তবায়নে বাড়তি অর্থকড়ির ব্যবস্থা করতে সরকারকে ঘাটতি অর্থায়নে জোর দিতেই হবে। এ অবস্থায় অপচয়মূলক ব্যয় কমানোটা তার বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত। অর্থমন্ত্রী কিন্তু এটাও বলেছেন, ‘মানুষ কর (আয়কর) দিতে আগ্রহী’। কর, বিশেষত আয়করের অর্থের সদ্ব্যবহার তো সবারই কাম্য।