দুরে কোথাও

রাজারহাটের শাহি মসজিদ

প্রথা চলে গেছে নবাব, রাজা ও জমিদারের। নবাব, রাজা, জমিদার বংশের অস্তিত্ব ও বংশধরের সন্ধান পাওয়াও অনেক কঠিন। তারপরও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাজা, জমিদারদের তৈরি বাড়ি, কাচারি, পুকুর, মন্দির, গির্জা ও মসজিদ কয়েকশ বছরের ইতিহাস-ঐতিহ্য বহন করছে। ঠিক এমনই একটি কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার শাহি মসজিদ।

ধারণা করা হয়, এ মুসলিম নিদর্শন তিনশ বছর আগে জমিদার ছমির উদ্দিন তৈরি করেন। চুন, সুরকি দিয়ে তৈরি মসজিদে বিভিন্ন নকশায় করা তিনটি বড় গম্বুজ রয়েছে। তিনশ বছরের পুরোনো মসজিদটির দৈর্ঘ্য ৩৫ ফুট, প্রস্থ ১২ ফুট ও উচ্চতা প্রায় ৪০ ফুট। মসজিদের দেয়ালের পাশ ৩০ ইঞ্চি। দরজা তিনটি। বর্তমানে এটি মেকুরটারি ব্যাপারীপাড়া শাহি মসজিদ নামে পরিচিত।

মসজিদটির প্রতিষ্ঠাতা হাজী ছমির উদ্দিন সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট লিখিত কোনো তথ্য-উপাত্ত না থাকলেও উত্তরসূরিদের দাবি, তিনি ১৭০০ সালে ভারতের আসাম রাজ্যের কোচবিহার হতে রাজারহাটে আসেন। রাজারহাটের বিখ্যাত পাঙ্গারাজার অধীনে বেশ কয়েকটি জোতের জমিদার ছিলেন ছমির উদ্দিন। জমিদারি প্রথার অবসান ঘটিয়ে তার বংশ ‘ব্যাপারী’ নাম ধারণ করে।

বর্তমানে ব্যাপারী বংশের তত্ত্বাবধানে শাহি মসজিদটি পরিচালিত হচ্ছে। মসজিদের আশপাশের জায়গা ধীরে ধীরে উঁচু হওয়ায় শাহি মসজিদ নিচের দিকে চলে যাচ্ছে।

মুসল্লিদের জায়গা সংকুলানের জন্য সামনের দিকে সংযুক্ত নতুন মসজিদ ঘর তৈরি করা হচ্ছে। সরকার উদ্যোগী হলে তিনশ বছরের ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি সংরক্ষণ করা সম্ভব।

 

আমানুর রহমান খোকন, কুড়িগ্রাম

সর্বশেষ..