সারা বাংলা

রাজারহাটে আইএসপিপি-যত্ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ইনকাম সাপোর্ট প্রোগ্রাম ফর দ্য পুওরেস্ট (আইএসপিপি)-যত্ন প্রকল্পের তালিকা প্রণয়নের নামে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে। গরিব, দুস্থ ও অসহায় গর্ভবতী মা এবং শিশুদের বিনা মূল্যে প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করার নিয়ম থাকলেও উৎকোচ না দেওয়ায় তালিকা থেকে নাম বাদপড়া বঞ্চিত উপকারভোগীরা গত ৮ মে প্রকল্পের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থায়নে ও স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন আইএসপিপি যত্ন প্রকল্পের আওতায় দরিদ্র গর্ভবতী নারী এবং পাঁচ বছরে নিচে শিশুদের পুষ্টির পরিবর্তে নগদ অর্থ প্রদানের লক্ষ্যে রাজারহাট উপজেলার সাত ইউনিয়নের প্রায় ৯ হাজার ৮০০ পরিবার এ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হয়। প্রতিটি ইউনিয়নে গড়ে এক হাজার ৪০০ জনকে এ সুবিধা দেওয়া হবে। যাদের ৫০ শতাংশের নিচে জমি রয়েছে ওইসব দরিদ্র পরিবারের গর্ভবতী নারী ও শূন্য থেকে চার বছর কমবয়সী শিশু রয়েছে, তারাই এ প্রকল্পের সুবিধাভোগী হবে। সুবিধাভোগী গর্ভবতী নারী চারবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালে চার হাজার টাকা এবং টানা তিন বার হলে একটি বোনাস ভাতাও পাবেন।
শিশু জন্ম নেওয়ার পর ২৪ মাস পর্যন্ত মা ও শিশু এক হাজার ৪০০ টাকা করে পাবেন। এছাড়া প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত শিশুর বয়স চার বছর পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তিন মাস পর পর ৭০০ টাকা করে ভাতা পাবে। প্রকল্প চলাকালীন সুবিধাভোগীরা কমিউনিটি ক্লিনিকে তাদের উচ্চতা, ওজনসহ নিয়মিত পরীক্ষা করাতে আসলে এ অর্থ পাবেন।
এদিকে, জনপ্রতিনিধিরা অর্থের বিনিময়ে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের বাদ দিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে পাঁচ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে এ প্রকল্পে নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছ থেকে পাওয়া ফরম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদে জমা দেওয়া হলেও তাদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তালিকা থেকে বাদ পড়া দুই শতাধিক উপকারভোগী গত ৮ মে এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলার চাকিরপশার ইউপি চেয়াম্যান ভারপ্রাপ্ত সন্তোষ কুমার, বিদ্যানন্দ ইউপি চেয়ারম্যান তাইজুল ইসলাম, রাজারহাটের এনামুল হক ও ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ জানান, যত্ন প্রকল্পের কাজের স্বার্থে ইউনিয়ন পরিষদে অনেক ব্যয় হয়েছে।
এ বিষয়ে আইএসপিপি (যত্ন) প্রকল্পের উপজেলা সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাশেদুল হক প্রধান জানান, এ বিষয়ে একাধিক অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত চলছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সর্বশেষ..