সারা বাংলা

রানীনগরে খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ

প্রতিনিধি, নওগাঁ: নওগাঁর রানীনগরে খরা মৌসুমে খালে পানি সংরক্ষণ এবং কৃষি জমিতে পানি সেচের সুবিধার্থে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) আওতায় খাল খননের কার্যক্রম চলছে। তবে খাল খননে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে। খাল থেকে পানি সেচ করে খননের কথা থাকলেও পানির মধ্য থেকেই স্ক্যাবেটর দিয়ে খনন করা হচ্ছে। ফলে কি পরিমাণ খনন হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ উপজেলার কাশিমপুর ও গোনা ইউনিয়নের কুজাইল, দুর্গাপুর, সরগরামপুর, ভবানিপুর, এনায়েতপুর, গোনা ও খট্টেশ্বর গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার কৃষকের একমাত্র ফসল ইরি-বোরো। খরা মৌসুমে খালে পানি থাকে না। ফলে জমিতে ঠিকমতো পানি দেওয়া সম্ভব হয় না। তাই খরা মৌসুমে খালে পানি সংরক্ষণে রাখতে খাল খনন করা হচ্ছে। পানি শুকিয়ে খাল খনন করার কথা থাকলেও তা করা হচ্ছে না। আবার খননকৃত মাটি খালের পাড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলা হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে খালের পাড়ে রাখা মাটি আবারও খালে পড়ে ভরাট হয়ে যাবে। তবে কাজের শুরু থেকেই খাল খননে ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কুজাইল রেগুলেটর থেকে সরগরামপুর ও সাদোকালীর মাঠ (বিল) হয়ে রেলওয়ে চকের ব্রিজ চকবলরাম পর্যন্ত সাড়ে ছয় কিলোমিটার খাল খননের কাজ চলছে। কাজের বরাদ্দ ধরা হয়েছে এক কোটি ৪৬ লাখ ৬২ হাজার টাকা। খনন করা হবে খালের তলা ১০ মিটার, স্থানভেদে সাবেক গভীরতা এক মিটার বা তার কম এবং উপরের দিকে গড় ১৮-২০ মিটার।
দুর্গাপুর গ্রামের কৃষক আজিজার রহমান জানান, খাল যে পরিমাণ গভীর করার কথা তা করা হচ্ছে না। খালে পানি রেখেই মাটি কাটা হচ্ছে। পানির মধ্য থেকে কি পরিমাণ মাটি কাটা হচ্ছে তা বেঝা যাচ্ছে না। ধারণার ওপর স্ক্যাবেটর দিয়ে পানির মধ্য থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। আর খালের তলা তো সমান হওয়ার প্রশ্নই আসে না। খরা মৌসুমে পানি থাকার কথা থাকলেও তা হবে না। এতে সরকারের যে উদ্দেশ্য তা ভেস্তে যাবে।
স্ক্যাবেটর চালক সুমন জানান, তলা ৩২ ফুট, সেøাব ১০-১৫ ফুট, গভীরতা ৩-৪ ফুট করা হচ্ছে। পানির মধ্য থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। তবে গভীর হলেও সমান হচ্ছে না। কারণ পানিতে দেখা যাচ্ছে না।
নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার জানান, ডেল্টা প্ল্যানের আওতায় এ খালটি খনন করা হচ্ছে। সাড়ে ৬ কিলোমিটারের মধ্যে ইতোমধ্যে সাড়ে তিন কিলোমিটার খনন হয়েছে। তবে শিডিউলে যা আছে তা থেকে কিছুটা বেশিই খনন করা হচ্ছে। খালে কিছুদূর পর পর বাঁধ দিয়ে পানি শুকিয়ে ফেলা হচ্ছে। তবে বৃষ্টি কারণে সেখানে পানি জমে যাচ্ছে। কাজে কোন ধরনের অনিয়ম হচ্ছে না। এছাড়া পাড়ে যে মাটি রাখা আছে সেগুলো অনত্র সরিয়ে ফেলা হতে পারে অথবা মাটিগুলো সমান করে দিয়ে সেখানে গাছ লাগানো হতে পারে।

 

সর্বশেষ..