সারা বাংলা

রামগঞ্জে মিল্ক ভিটা কারখানায় খামারিদের বিক্ষোভ

প্রতিনিধি, লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড (মিল্ক ভিটা) কারখানার সামনে দুগ্ধ খামারিরা সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন। গতকাল শুক্রবার সকালে রামগঞ্জ পৌর শহরের কমরদিয়া মিল্কভিটা কারখানার সামনে প্রতিষ্ঠানটি স্থানান্তরের প্রতিবাদে উপজেলার অর্ধশত খামারি এ বিক্ষোভ করেন।
সূত্র জানিয়েছে, ২০০৫ সালে উপজেলার খামারিদের জন্য পাঁচ হাজার লিটার দুধ ধারণক্ষমতার একটি দুগ্ধ শীতলীকরণ কারখানা নির্মাণ করা হয়। কিন্তু গত ৬ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির উপ-সচিব শামছুল আলম স্বাক্ষরিত স্থানান্তর সংক্রান্ত একটি চিঠি রামগঞ্জ উপজেলা দুগ্ধ শীতলীকরণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট প্রেরণ করা হয়। চিঠিতে কেন্দ্রের ফার্মকুলার ও জেনারেটর পাংশা উপজেলায় স্থানান্তর করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।
গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্থানান্তর সংক্রান্ত চিঠি নিয়ে ঢাকা থেকে মিল্কভিটার সিনিয়র তত্ত্বাবধায়ক মান্নাফ আহম্মেদসহ চার কর্মকর্তা পণ্য পরিবহনের জন্য ট্রাকসহ ঘটনাস্থলে যান। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উপজেলার অর্ধশত দুগ্ধ খামারি কারখানার সামনে জড়ো হন। এ সময় খামারিরা রামগঞ্জ-শ্রীরামপুর সড়ক ঘণ্টাব্যাপী অবরোধ করে স্থানান্তরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেন।
রামগঞ্জ উপজেলার সবুজ বাংলা কেন্দ্রীয় দুগ্ধ সমবায় সমিতির রামগঞ্জ শাখার সভাপতি আনোয়ার হোসেন সেলিম বলেন, ‘গত ১০ বছর ধরে এখানে দুধ সরবরাহ করে আসছি। কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে খামার স্থাপন করেছি। একটি চালু কারখানা কোন কারণ ছাড়া স্থানান্তর হলে অনেক লোকসান গুণতে হবে।’
একই উপজেলার মাঝিরগাঁও দুগ্ধ সমবায় সমিতির সভাপতি আনোয়ার কবির বাচ্চু জানান, ‘অনেক স্থানে কারখানা বন্ধ হয়ে গেলেও চালু কারখানা স্থানান্তর প্রক্রিয়া ষড়যন্ত্র। আমাদের ৩০০ লিটারের চাহিদা দিলেও হঠাৎ করে এক হাজার লিটারের জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে।’
এ ব্যাপারে মিল্কভিটার সিনিয়র তত্ত্বাবধায়ক মান্নাফ আহম্মেদ জানান, ‘এ অফিসের ফার্মকুলার মেশিন ও জেনারেটর পাংশা মিল্কভিটায় স্থানান্তর করার জন্য শুক্রবার সকালে এসেছি। কিন্তু খামারিদের বিক্ষোভের কারণে আমাদের কাজ এখনও শুরু করতে পারিনি।’
জানতে চাইলে রামগঞ্জ দুগ্ধ শীতলীকরণ কেন্দ্রের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরহাদ আহম্মেদ জানান, খামারিদের কথা চিন্তা করে মিল্কভিটার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে তিনি অভিযোগ করেন, এখানে চাহিদা অনুযায়ী দুধ না পাওয়ায় কোম্পানির কর্মকর্তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সর্বশেষ..



/* ]]> */