রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মূলধন পুনর্গঠনে আজ বৈঠক

সোহেল  রহমান : ঋণ কেলেঙ্কারিসহ নানা অনিয়মে অভিযুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত (বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত) ব্যাংকগুলোর মূলধন পুনর্গঠনে (পুনঃঅর্থায়ন) বরাবরের মতো এবারও উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আজ বুধবার সচিবালয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে নিয়ে বৈঠকে বসছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। এ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. ইউনুসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, দেশের সাধারণ জনগণের করের অর্থে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে পুনঃঅর্থায়নে বিভিন্ন মহলের সমালোচনা সত্ত্বেও চলতি অর্থবছরের বাজেটে এ খাতে দুই হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। আজকের বৈঠকে চিহ্নিত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর অনুকূলে কী পরিমাণ অর্থ ছাড় করা হবে, কোন ব্যাংক কী পরিমাণ অর্থ পাবে কিংবা আদৌ পাবে কি নাÑসে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে পুনঃঅর্থায়নের আওতায় ২০১৩-১৪ অর্থবছরে চার হাজার ১০০ কোটি টাকা, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে পাঁচ হাজার কোটি টাকা, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এক হাজার ৬০০ কোটি টাকা ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এক হাজার ৭০০ কোটি টাকা দিয়েছে সরকার।

ব্যাংকগুলোকে ঝুঁকিমুক্ত রাখার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্যাসেল-৩ অনুযায়ী  ব্যাংকগুলোকে বর্তমানে ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের ১০ শতাংশের পাশাপাশি দশমিক ৬২ শতাংশ হারে অতিরিক্ত মূলধন সংরক্ষণ করতে হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবমতে, গত সেপ্টেম্বর শেষে বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত (বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত) ছয় ব্যাংকের মোট মূলধন ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত চার বাণিজ্যিক ব্যাংকের মূলধন ঘাটতির পরিমাণ হচ্ছে সাত হাজার ৬২৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকে তিন হাজার ১৪০ কোটি টাকা, বেসিক ব্যাংকে দুই হাজার ৫২৩ কোটি টাকা, জনতা ব্যাংকে ঘাটতি এক হাজার ২৭৩ কোটি টাকা ও রূপালী ব্যাংকে ৬৯০ কোটি টাকা মূলধন ঘাটতি রয়েছে।

অন্যদিকে রাষ্ট্রায়ত্ত দুই বিশেষায়িত ব্যাংকে মূলধন ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে আট হাজার ২৮২ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাত হাজার ৫৪০ কোটি টাকা ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে (রাকাব) ৭৪২ কোটি টাকা মূলধন ঘাটতি রয়েছে।