প্রচ্ছদ শেষ পাতা

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কাজে ধীরগতি

আট ডিএমডি পদ ফাঁকা

শেখ আবু তালেব: রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টরের (ডিএমডি) আট পদ ফাঁকা রয়েছে। এসব শূন্যপদ পূরণে বিভিন্ন ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপকদের মধ্যে পদোন্নতিযোগ্য ৩০ জনের একটি তালিকাও করা হয়েছিল। কিন্তু কয়েক মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। ফলে তাদের কাজের ভার পড়েছে অন্যান্য ডিএমডির ওপর। এতে ফাইল স্বাক্ষর দেরিতে হচ্ছে। অনেক বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পরামর্শ করায় কাজের গতিও কমে আসছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।
বর্তমানে ব্যাংক খাতে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের সংখ্যা ছয়টি। সর্বশেষ প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে অনুমোদন পেয়েছে। এর বাইরেও বিশেষায়িত ব্যাংক রয়েছে। এসব ব্যাংকের মহাব্যবস্থাপক পদ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদই পদোন্নতি দেয়। যদিও ডিএমডি পদে পদোন্নতি দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো শুধু সুপারিশ করে থাকে। জানা গেছে, আট পদে ডিএমডি নিয়োগ দিতে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে পদোন্নতিযোগ্য মহাব্যবস্থাপকদের তালিকা চায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।
বিভিন্ন ব্যাংকের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের আলোকে ৩০ মহাব্যবস্থাপকের প্রাথমিক তালিকা করা হয়। অতীতে এ পদে নিয়োগের বেলায় কর্মকর্তাদের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও জ্যেষ্ঠতা দেখা হতো। পাশাপাশি কর্মদক্ষতাকে বিবেচনা করা হতো। এবার ডিএমডি পদে নিয়োগ দিতে তৈরি করা বাছাই কমিটি স্বাক্ষাৎকার নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ওই বাছাই কমিটিতে অর্থমন্ত্রী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর রয়েছেন।
সূত্র জানায়, অতীতে সাক্ষাৎকার নেওয়ার কোনো নজির না থাকায় তা নিয়ে সমালোচনা ওঠে। অভিযোগ ওঠে, এতে স্বজনপ্রীতির ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে ভবিষ্যতে। ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ এ পদে বিতর্কিত লোকও চলে আসতে পারে। যোগ্যরা বাদ যেতে পারেন, যা নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
এজন্য চিঠি ইস্যু করেও সাক্ষাৎকার গ্রহণ থেকে বিরত থাকে বাছাই কমিটি। পরবর্তীকালে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, শুধু জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতেই ডিএমডি পদে নিয়োগ দেওয়া হবে না। দেখা হবে ব্যাংকিং বিষয়ে উদ্ভাবনী ক্ষমতা, যোগাযোগ দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, পেশাগত প্রশিক্ষণ ও জ্ঞান, সততা ও গ্রহণযোগ্যতা। এসব বিষয় যাচাই-বাছাই করেই নিয়োগ দেওয়া হবে ডিএমডি পদে।
এজন্য মহাব্যবস্থাপকদের এসিআর (গোপনীয় অনুবেদন) ও বিভিন্নভাবে খোঁজ-খবর নিয়ে সার্বিক যোগ্যতার ওপর একটি নম্বর দেওয়া হবে। বিভিন্ন যোগ্যতার মোট নম্বর হবে ১০০।
জানা গেছে, ডিএমডি নিয়োগে কোনো সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। বাছাই কমিটি সময়োপযোগী যে কোনো পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারে।
এদিকে পদ শূন্য হওয়ায় কাজের চাপ পড়েছে অন্য ডিএমডিদের ঘাড়ে। রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের এক ডিএমডি সম্প্রতি অবসরজনিত ছুটিতে গেছেন। তার স্থলে নিয়োগ না হওয়ায় অন্য এক ডিএমডিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ছুটিতে যাওয়া ডিএমডির বিভাগগুলোর।
ফলে বিভাগের কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে ডিএমডির সঙ্গে বৈঠক করতে হচ্ছে কর্মকর্তাদের। একই অবস্থা অন্যান্য ব্যাংকের বেলায়ও। জানা গেছে, অন্য বিভাগের কাজ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন ডিএমডিরা। কিছু কিছু স্পর্শকাতর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গেও পরামর্শ করতে হচ্ছে তাদের। অনেকে বুঝেশুনে ফাইলে স্বাক্ষর করছেন। এতেও দেরি হচ্ছে। এর বাইরে নিজের বিভাগের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি অন্য বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে মিটিং করতে হচ্ছে। এতে সময়-ব্যবস্থাপনায় জটিলতায় পড়ছেন তারা। ফলে ধীরগতিতে এগোচ্ছে দাফতরিক কার্যক্রম।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমনিতেই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তারপর জনবল ঘাটতি হলে বিষয়টি আরও প্রকট হয়ে উঠবে। এজন্য শীর্ষ পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ এ পদটিতে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। রাজনৈতিক বিবেচনায় না নিয়ে সৎ, যোগ্য ও দক্ষ ব্যাংকারদের নিয়োগ দেওয়া উচিত। এতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের কাজে গতি আসবে, যা ব্যাংক খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তারা।

সর্বশেষ..