সম্পাদকীয়

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কমাতে উদ্যোগ নিন

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সাধারণ মানুষ বিশেষ করে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেশি। কেননা এসব প্রতিষ্ঠানের দায় রাষ্ট্রই বহন করে বলে নিশ্চয়তা থাকে, অন্তত আমানত খোয়ানোর শঙ্কা নেই। কিন্তু রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আগের মতো নেই। এ ব্যাংকগুলো সে আস্থা ধরে রাখতে দায়িত্বশীল নয় বলেই প্রতীয়মান। গতকাল শেয়ার বিজের প্রধান প্রতিবেদন ‘খেলাপি ঋণের ৫১ শতাংশই রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচ ব্যাংকের: শীর্ষ ১০ ব্যাংকের কাছে ৬৬ শতাংশ’ যেন সেটিই প্রমাণ করছে।
খেলাপি ঋণ ব্যাংক খাতের নতুন সমস্যা নয়। বর্তমানে এটি এ খাতের প্রধান সমস্যা। খেলাপি ঋণ ক্রমেই বেড়ে যাওয়া প্রমাণ করে এ সমস্যা নিরসনে নেওয়া ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। খেলাপি ঋণ আদায়ে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। ব্যাংকগুলো যে ঝুঁকি পর্যালোচনা ছাড়াই ঋণ দিয়েছে বা দিচ্ছে কিংবা আমানতের চেয়ে বেশি ঋণ দিচ্ছে সেটির প্রতিকারে ব্যবস্থা নেওয়া চাই। কেন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো একক গ্রহীতাকে বিপুল ঋণ জোগানোর আগে সতর্ক হচ্ছে না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। আগের অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘ঋণখেলাপিদের লজ্জা নেই’। ‘লজ্জা নেই’ বলে খেলাপিরা ঋণ পরিশোধ করছেন না, তা সত্য। এও সত্য, তবুও ঋণ পাচ্ছেন ঋণখেলাপিরা। ঋণগ্রহীতাদের অনেকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী অথবা প্রভাবশালী কারও সহায়তায় ঋণ পান। ফলে তা পরিশোধ না করার সুযোগ নেন তারা। ঋণখেলাপি ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের উপযুক্ত শাস্তি না হওয়ায় প্রতি বছর অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ বাড়ে। খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যর্থ কোনো ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দৃষ্টান্ত নেই। তাই খেলাপি ঋণের তালিকা বড় হচ্ছে ক্রমেই।
এদিকে করের টাকায় প্রতি বছর রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মূলধন জোগাতে হচ্ছে সরকারকে। আর এ কারণে ব্যাংকগুলোর মূলধন ঘাটতি নিচ্ছে প্রকট রূপ। ঘাটতিও মেটানো হচ্ছে অগ্রহণযোগ্য উপায়ে।
যে কোনো ঋণের ক্ষেত্রে এক টাকা খেলাপি হলেও ওই গ্রাহকের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে জানানো বাধ্যতামূলক। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে জমা দিচ্ছে। এখন ক্রেডিট কার্ডে ঋণ নিয়ে কেউ এক টাকার খেলাপি হলেও সে তথ্য থাকছে সিআইবিতে। হালনাগাদ তথ্য থাকা সত্ত্বেও খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়া দুঃখজনক। তাই বলা যায়, খেলাপি ঋণ বেড়ে যাওয়ার দায় এড়াতে পারে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে ব্যবস্থা নিতে হবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটিকেই।

সর্বশেষ..