সম্পাদকীয়

রাষ্ট্রীয় সংস্থা থেকে পাওনা আদায়ে ব্যবস্থা নিন

এক রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান অন্য রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের পাওনা পরিশোধে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয় না, এমন অভিযোগ পুরোনো। এমন দৃষ্টান্ত গতকালের শেয়ার বিজে প্রকাশিত প্রতিবেদন ‘পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল: চার সংস্থার কাছে পাওনা ছয় হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা’। এতে বলা হয়, জ্বালানিপণ্য আমদানি ও সরবরাহকারী রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সহযোগী বিপণন প্রতিষ্ঠান পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম ও যমুনা অয়েলের সরকারি চার সংস্থা বাংলাদেশ বিমান, রেলওয়ে, বিসিআইসি ও পিডিবির কাছে পাওনা ছয় হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা।
খবরে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এ পাওনা পরিশোধে উদ্যোগ নেই সংস্থাগুলোর। আমরা মনে করি, এ ক্ষেত্রে দায় কেবল দেনাদার প্রতিষ্ঠানের নয়, পাওনাদারেরও গাফিলতি রয়েছে। হয়তো দুই পক্ষের বোঝাপড়ায় বকেয়া অপরিশোধিত থাকছে। অথচ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তির ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয় না। উদাহরণ, অপরিশোধিত থাকলে জামানত থেকে ভ্যাট কেটে নেয় সরকারি প্রতিষ্ঠান। আমরা মনে করি, পাওনা পরিশোধ না করলে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়েও এভাবে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
লোকসানি হওয়ায় বিমান ও বিসিআইসি বকেয়া পরিশোধে ব্যর্থ হয়। কিন্তু পিডিবি ও বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছ থেকে পাওনা অপরিশোধিত থাকার কারণ নেই। বর্তমানে বেসরকারি পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিলের বকেয়া তেমন নেই। প্রি-পেইড মিটার চালু হওয়ায় বকেয়া থাকার সুযোগও কম। কিন্তু সরকারি পর্যায়ে অনেক বকেয়া। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্র থেকে যে বরাদ্দ পায়, তাতে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধেরও অর্থ রয়েছে, কিন্তু তারা পরিশোধ করছে না। আবার বিতরণ সংস্থাগুলো শৈথিল্য দেখাচ্ছে বকেয়া আদায়ে। তবে এ অজুহাতে বিপিসির কাছে বকেয়া রাখবে, এটিও যুক্তিযুক্ত নয়। বিমান গত এক দশকে এক টাকাও পাওনা পরিশোধ করেনি। ফলে এ পাওনা বেড়েই চলেছে। রেলওয়ে বাকিতে তেল কেনে। অথচ সংস্থটিতে তেল চুরির অভিযোগ রয়েছে।
চার রাষ্ট্রীয় সংস্থার উৎপাদন ও সেবা প্রদানে সব বাজেটে বরাদ্দ ও ভর্তুকি দেয় সরকার। কিন্তু বরাদ্দ পেয়েও অন্য সংস্থার বকেয়া পরিশোধ করছে না। আমরা মনে করি, পণ্য ও সেবার মান বাড়ানো এবং অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করলে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানও লাভজনক করা যায়; তখন বকেয়া পরিশোধ করা সম্ভব হবে।
সরকারি, আধাসরকারি ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিদ্যুৎসেবা বাবদ সরকারের দেওয়া বরাদ্দ যেন বিল পরিশোধে ব্যবহার হয়। নির্দিষ্ট সময় পরপর বকেয়া আদায় পরিশোধ-সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ এবং অগ্রগতি মূলায়ন করা গেলে রাষ্ট্রীয় সংস্থার দেনা পরিশোধ হবে। এ বিষয়ে দায়িত্বশীল হতে হবে সংশ্লিষ্টদের।

সর্বশেষ..



/* ]]> */