রিজার্ভ চুরির অর্থ ফেরাতে দুই ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা হবে: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি যাওয়া অর্থ ফেরত আনতে দুই ব্যাংককে আসামি করে মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেছেন, চুরি যাওয়া অর্থ ফেরত আনতে ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন (আরসিবিসি) ও যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।
গতকাল সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের তিন এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, মূল আসামি আরসিবিসি হলেও এই ঘটনার সঙ্গে অনেক দেশ জড়িত। এ মামলার জন্য আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত সময় রয়েছে। এখন বাংলাদেশ ব্যাংক করতে চাইছে। কারণ সময় দ্রুত কমে যাচ্ছে। আমাদের আইনজীবীরা এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করছেন। তিনি আরও বলেন, এছাড়া ব্যাংকিং খাতের জন্য একটি পরামর্শ দিয়ে যাব। তাতে অনেক কিছুই থাকবে। আজকের সভাটি অর্থনৈতিক ও ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির শেষ সভা ছিল বলেও জানান মুহিত।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে সুইফট কোডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার (১০১ মিলিয়ন) চুরি করে নেয় দুর্বৃত্তরা। এর মধ্যে দুই কোটি ডলার চলে যায় শ্রীলঙ্কা এবং আট কোটি ১০ লাখ ডলার চলে যায় ফিলিপাইনের জুয়ার আসরে। এ ঘটনার প্রায় এক মাস পর ফিলিপাইনের একটি পত্রিকার সংবাদের মাধ্যমে বিষয়টি বাংলাদেশ জানতে পারে। এ ঘটনা চেপে রাখতে গিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে গভর্নরের পদ ছাড়তে বাধ্য হন ড. আতিউর রহমান। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়েও বড় ধরনের রদবদল করা হয়। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক জোবায়ের বিন হুদা মানি লন্ডারিং আইনে ১০১ মিলিয়ন ডলার চুরির অভিযোগ এনে ১৫ মার্চ (২০১৬) মতিঝিল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় সিআইডিকে। তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর সিআইডি এ পর্যন্ত ২০ বার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদালতের কাছ থেকে সময় চেয়ে নিয়েছে।
রিজার্ভ চুরির ঘটনায় সরকার গঠিত সাবেক গভর্নর ফরাস উদ্দিনের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটির রিপোর্ট এখনও প্রকাশ করা হয়নি। একইভাবে রিজার্ভ চুরির ঘটনা নিয়ে রিজাল ব্যাংকের ওপর করা তদন্ত রিপোর্টও প্রকাশ করেনি ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিএসপি (ব্যাংককো সেন্ট্রাল এনজি ফিলিপাইনস)। ফলে বিশ্বব্যাপী আলোচিত এ ঘটনার ভেতরের অনেক তথ্যই প্রকাশিত হচ্ছে না।
উল্লেখ্য, চুরি যাওয়া অর্থের মধ্যে এখন পর্যন্ত ফেরত এসেছে এক কোটি ৪৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার। বাকি ছয় কোটি ৬৪ লাখ ডলার ফেরত পাওয়া যায়নি।