স্পোর্টস

রিজার্ভ ডে না থাকায় যা বলছে আইসিসি

ক্রীড়া ডেস্ক: চলতি বিশ্বকাপ এখনও অর্ধেক পথও পেরোয়নি। কিন্তু এরই মধ্যে বৃষ্টির মুখে পড়েছে বেশ কয়েকটি ম্যাচ। ভেসে গেছে অবশ্য তিনটি ম্যাচ। বৈশ্বিক এ টুর্নামেন্টে এবারই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ম্যাচ হয়েছে পরিত্যক্ত। এর আগে এমন ঘটনা দুবার করে দেখা গিয়েছিল, ১৯৯২ ও ২০০৩ বিশ্বকাপে।
ইংল্যান্ডের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আগেই ছিল চলতি বছরের জুন-জুলাইয়ে বৃষ্টির সম্ভাবনার ইঙ্গিত। তারপরও আইসিসি চলতি বিশ্বকাপের রাউন্ড রবিন লিগে রাখেনি কোনো রিজার্ভ ডে। যে কারণে সমালোচনায় পড়েছে সংস্থাটি। ঠিক তখনই বিশ্ব ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ডেভিড রিচার্ডসন মুখ খুললেন। এক বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, টুর্নামেন্টের দৈর্ঘ্যরে কথা চিন্তা করেই রিজার্ভ ডে রাখা হয়নি। এ টুর্নামেন্টের সঙ্গে আরও অনেক কিছু জড়িয়ে আছে, যা অত্যন্ত জটিল। সবকিছু চিন্তা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রিজার্ভ ডে না থাকায় ম্যাচ পরিত্যক্ত হলে দু’দলের মধ্যে পয়েন্ট সমানভাগে ভাগ করে দেওয়ার আর কোনো উপায় নেই। সেটাই হচ্ছে। যে কারণে দলগুলোর হতাশা বাড়ছে। তাই প্রশ্ন উঠেছে: সব যেনেশুনে কেন নেই রিজার্ভ ডে। এ ব্যাপারে রিচার্ডসন বলেছেন, ‘বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচের জন্য রিজার্ভ ডে রাখলে টুর্নামেন্টের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পাবে এবং এটা আয়োজন করা অনেক জটিল হয়ে যাবে। এর সঙ্গে পিচ তৈরি, দলগুলোর তত্ত্বাবধান, ভেন্যু পাওয়া, টুর্নামেন্টের কর্মচারী, স্বেচ্ছাসেবক, ম্যাচ কর্মকর্তা, সম্প্রচার, সরবরাহকারী এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভ্রমণকারী দর্শকদের ম্যাচে থাকার সঙ্গে প্রভাব রয়েছে। রিজার্ভ ডে’তে বৃষ্টি হবে না তারও তো কোনো নিশ্চয়তা নেই।’
আইসিসির প্রধান নির্বাহী রিচার্ডসন রিজার্ভ ডে না থাকার কারণ হিসেবে কিছু সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছেন, ‘প্রতি ম্যাচে ১২০০ মানুষ ম্যাচের প্রতিক্ষণের সঙ্গে জড়িত থাকে। এই ১২০০ মানুষ নিয়েই আমাদের এক ভেন্যু থেকে অন্য ভেন্যুতে যেতে হয়। সবকিছু মিলিয়ে জটিল একটি বিষয়কে আরও বড় করা সম্ভব ছিল না।’
তবে সেমিফাইনাল ও ফাইনালে রিজার্ভ ডে’র ব্যবস্থা রেখেছে আইসিসি। কিন্তু এ ব্যবস্থা পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে না থাকায় সমালোচনার মুখে পড়েছে আইসিসি। রিচার্ডসন তারপরও বলছেন, ‘সবকিছু বিবেচনা করেই আমরা নক আউট পর্বে রিজার্ভ ডে রেখেছি। যেখানে একটি ম্যাচ আসলেই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বর্তমানে একেবারেই অদ্ভুত আবহাওয়া চলছে। গত দুদিনে আমরা প্রায় গড়ে এক মাসের বৃষ্টি দেখে ফেলেছি। অথচ জুন ইংল্যান্ডের তৃতীয় শুষ্ক মাস হওয়ার কথা।’
এখন পর্যন্ত এবারের বিশ্বকাপে পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ-দক্ষিণ আফ্রিকা ও বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়েছে। ক্রিকেটপ্রেমীরা আশঙ্কা করছেন, এমন পরিণতি আরও বেশ কয়েকটি ম্যাচেও হতে পারে।

 

সর্বশেষ..



/* ]]> */