রিহ্যাবের গোলটেবিল বৈঠক পূর্বাচলকে ঢাকার দ্বিতীয় রাজধানী করার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক : দ্বিতীয় রাজধানী না থাকায় ঢাকায় বিভিন্ন অফিস বাড়ছে। লোকসংখ্যা বাড়ছে। এ অবস্থায় এখনই দ্বিতীয় রাজধানী গড়ার উদ্যোগ না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে ঢাকায় বসবাসকারীদের ভোগান্তি আরও বাড়বে। তাই বিশ্বের অন্য দেশের মতো ঢাকার পূর্বাচলকে দ্বিতীয় রাজধানী হিসেবে গড়ার আহŸান জানিয়েছেন আবাসন খাত বিশ্লেষকরা।
রাজধানীর ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী সেন্টারে গতকাল (শনিবার) ‘জাতীয় অর্থনীতিতে আবাসন খাত’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা সভায় ‘বাংলাদেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়তে দ্বিতীয় রাজধানীর বিকল্প নেই। পূর্বাচলকে দ্বিতীয় রাজধানী করা হলে পুরোনো ঢাকার চাপ কমবে’ বলে জানান বক্তারা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘অর্থনীতিতে আবাসন খাতের গুরুত্ব অনেক বেশি। এই খাতকে টিকিয়ে রাখতে হবে, কারণ এ খাতের সঙ্গে অনেক বিষয় জড়িত। বাসস্থান মানুষের মৌলিক অধিকার, সরকার এ অধিকার প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট। বাজেটে অপ্রদর্শিত আয় সঠিক পদ্ধতিতে প্রদর্শনের সুযোগ রাখা উচিত। হঠাৎ এটা বন্ধ করা ঠিক হবে না। আমি একে কালোটাকা বলব না, কারণ কোনো কারণে তিনি হয়তো এ টাকার কথা জানেননি। যখন জেনেছেন তখন তিনি সেটা প্রদর্শনের সুযোগ পেতে পারেন। সেটা যথাযথ নিয়মেই হবে।’
গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে পরিণত করতে হলে মানুষের নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি যারা প্রথমবারের মতো ফ্ল্যাট কিনবে তারা যেন ব্যাংক লোনের ব্যাপারে বিশেষ সুবিধা পায়। ভবন নির্মাণের অনুমতি নিতে গিয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) হয়রানির মুখে পড়তে হয়।’
হয়রানি প্রসঙ্গে কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, ‘রাজউক আরেক দুর্ভোগের নাম। ঘুষ দিতে পারলে ১৫ দিনে প্ল্যান পাস হবে, আর না দিতে পারলে এটা নেই সেটা নেই বলে ১০ বছর লাগাবে। এছাড়া বাড়ি বানাতে বিভিন্ন জাযগায় দৌড়াতে হয়, ১১টি মন্ত্রণালয় থেকে ছাড়পত্র নিতে হয়। এটাকে ওয়ান স্টপ সার্ভিসে আনতে হবে। হয়রানি দূর করতে হবে। জমির মূল্য ঠিক রাখার জন্য নীতিমালা করা ও জমি রেজিস্ট্রেশন ফি কমানো দরকার। সেইসঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও উন্নত হতে হবে।’
রাজউকের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী এমদাদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা দেখছি ফ্লাইওভারেও এখন বৃষ্টির পানি জমে থাকে, কারণ প্লানিংয়ে সমস্যা। এত বড় দায়িত্ব একার পক্ষে পালন করা সম্ভব নয়। এজন্য আলাদা ক্ষমতা দিয়ে একটা ডিপার্টমেন্ট করতে হবে, যেমন ভারতে দিল্লি ডেভেলপমেন্ট নামে পৃথক বিভাগ আছে। মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ এটা করেছে।’
আবাসন মালিকদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং সোসাইটি অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট তাসমিয়াহ নুহিয়া আহমেদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। বৈঠকটি সঞ্চালনা করেন টিভি উপস্থাপক জিল্লুর রহমান। রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অন্যদের মধ্যে সংসদ সদস্য নূরজাহান বেগম মুক্তা, রিহ্যাবের সিনিয়র সহসভাপতি নূরন্নবী চৌধুরী (শাওন), প্রথম সহসভাপতি লিয়াকত আলী ভুঁইয়া, দৈনিক আমাদের অর্থনীতি পত্রিকার সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান, বারভিডার সভাপতি হাবিব উল্লাহ ডন ও ঢাবির উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বক্তব্য রাখেন।