প্রচ্ছদ শেষ পাতা

রূপালী কম্পোজিট লেদারের ৩৭৮ কোটি টাকা পাচার

ক্রিসেন্ট গ্রুপের প্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক: ক্রিসেন্ট গ্রুপের প্রতিষ্ঠান রূপালী কম্পোজিট লেদারওয়্যার লিমিটেডের বিরুদ্ধে প্রায় ৩৭৮ কোটি ৯ লাখ টাকা পাচারের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটি পণ্য রফতানি করলেও দেশে মুদ্রা আসেনি। এ ঘটনার মূল হোতা রূপালী কম্পোজিটের চেয়ারম্যান এমএ কাদের এবং তার স্ত্রী ও কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতানা বেগম। এছাড়া পাচারের সঙ্গে জনতা ব্যাংক লিমিটেডের ইমামগঞ্জ করপোরেট শাখার ১৩ কর্মকর্তাও জড়িত রয়েছেন।
১৫ জনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনে মামলার সুপারিশ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। সম্প্রতি এ ব্যাপারে মামলার সুপারিশ করা হয়। তবে এনবিআর এখনও অনুমোদন দেয়নি। দ্রুত অনুমোদন দিতে সম্প্রতি শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো. সহিদুল ইসলাম এনবিআর চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছেন। এনবিআর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, রূপালী কম্পোজিটসহ ক্রিসেন্ট গ্রুপের পাঁচটি প্রতিষ্ঠান প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা পাচার করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ লিমিটেড ৬৮ কোটি ৩৪ লাখ ৯৫ হাজার টাকা, লেক্সকো লিমিটেড ৭৪ কোটি ৩৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা, ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ৫০০ কোটি ৬৯ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করার অনুমতি চেয়ে এনবিআরকে চিঠি দেয় শুল্ক গোয়েন্দা। প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ারম্যান এমএ কাদের। অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের এ অভিযোগে চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর চকবাজার থানায় মামলা দায়ের ও এমএ কাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
রূপালী কম্পোজিটের চিঠিতে বলা হয়, রফতানির আড়ালে ক্রিসেন্ট গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান রূপালী কম্পোজিট লেদারওয়্যার লিমিটেডের বিরুদ্ধে টাকা পাচারের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগে বলা হয়, রূপালী কম্পোজিট জনতা ব্যাংক ইমামগঞ্জ করপোরেট শাখার কর্মকর্তাদের যোগসাজশে আইন লঙ্ঘন করে ১৯২টি রফতানি বিলের (এফডিবিপি) বিপরীতে ৩৮২ কোটি ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। এর মধ্যে ১৯০টি বিলের প্রাপ্য বিল ৩৭৮ কোটি ৯ লাখ টাকা প্রত্যাবসিত হয়নি বা দেশে আসেনি। অর্থাৎ রফতানির আড়ালে এ টাকা পাচার করা হয়েছে। পাচার খতিয়ে দেখতে এনবিআরের নির্দেশে শুল্ক গোয়েন্দার উপপরিচালক মো. পায়েল পাশার নেতৃত্বে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি দীর্ঘ তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দেয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কমিটি রূপালী কম্পোজিটের তিন বছরের তথ্য চেয়ে ২০১৮ সালের ৮ এপ্রিল জনতা ব্যাংকের ইমামগঞ্জ শাখার কাছে চিঠি দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে ক্রিসেন্ট গ্রুপ আদালতে রিট করলে আদালত তিন মাসের জন্য স্থগিত করে। পরে শুল্ক গোয়েন্দা লিভ টু আপিল করে। কর্মকর্তারা ইমামগঞ্জ শাখা পরিদর্শনে জানতে পারে শাখাটি রূপালী কম্পোজিটকে ত্রুটিপূর্ণ বিল ক্রয়ের মাধ্যমে এফডিবিপি ঋণ দেয়। রূপালী কম্পোজিটের পাচার উদ্ঘাটন করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি কমিটি গঠন করে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রূপালী কম্পোজিট ২০৮টি রফতানি বিল ক্রয় করেছে, যার টাকার পরিমাণ ৪১১ কোটি ১৬ লাখ টাকা। একই বছরের ৭ মার্চ পর্যন্ত ১৬টি বিলের বিপরীতে ২৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ফেরত এসেছে। ফলে এ টাকা সমন্বয় করা হয়। বাকি ১৯২টি বিলের বিপরীতে ৩৮২ কোটি ১০ লাখ টাকা সমন্বয় করা হয়নি; অর্থাৎ টাকা দেশে আসেনি।
জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তারা এতে সহযোগিতা করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন জনতা ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম (বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের ডিএমডি), ডিজিএম মুহাম্মদ ইকবাল, একেএম আসাদুজ্জামান ও কাজী রইস উদ্দিন আহমেদ, এজিএম মো. আতাউর রহমান সরকার, এসপিও মো. খায়রুল আমিন, মো. মাগরেব আলী, অফিসার ইনচার্জ (এক্সপোর্ট) মোহাম্মদ রুহুল আমিন, সিনিয়র অফিসার ইনচার্জ মো. সাইদুজ্জামান, মো. মনিরুজ্জামান ও মো. আবদুল্লাহ আল মামুন।
আরও বলা হয়, অর্থ পাচারের বিষয়ে রূপালী কম্পোজিটের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ জনতা ব্যাংকের ১৩ কর্মকর্তা বিবৃতি দেন। এতে টাকা পাচারের বিষয়টি স্পষ্ট উঠে আসে। মামলার অনুমতি প্রদানে চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি এনবিআর চেয়ারম্যানকে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। তবে গত ৭ মে অনুমতি দিতে আবারও চিঠি দেওয়া হয়। সহসাই অনুমোদন দেওয়া হবে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে। শুল্ক গোয়েন্দা ছাড়াও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পৃথকভাবে ক্রিসেন্ট গ্রুপের অর্থ পাচার তদন্ত করছে।

 

সর্বশেষ..