সম্পাদকীয়

রেমিট্যান্সের প্রণোদনা দিতে জটিলতা অপ্রত্যাশিত

বিদেশে কর্মরত লাখো বাংলাদেশির পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমদানি, রফতানি বাণিজ্যের পাশাপাশি নানা কার্মকাণ্ডে এর ভূমিকা অনেক। তাদের পাঠানো অর্থ দেশের অসংখ্য পরিবারের সম্বল। রেমিট্যান্স প্রবাহের গুরুত্ব তাই কারোর অজানা নয়। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে চলতি অর্থবছরের বাজেটে প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু এটি বাস্তবায়নে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে সিদ্ধান্তহীনতা ও কালক্ষেপণ দেখা যাচ্ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে রেমিট্যান্স প্রবাহে। অথচ প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়বে বলে অনেকে মনে করছেন।

গতকালের দৈনিক শেয়ার বিজে ‘রেমিট্যান্সে প্রণোদনার জন্য আরও দু-তিন মাস অপেক্ষা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, রেমিট্যান্স পাঠালে সরকার ঘোষিত দুই শতাংশ প্রণোদনা অবশ্যই পাওয়া যাবে। তবে নির্ভরযোগ্য কোনো পদ্ধতি দাঁড় করাতে না পারায় অর্থবছরের এক মাসের মাথায়ও প্রণোদনা দেওয়া শুরু হয়নি। আরও দু-তিন মাস সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। বিষয়টি হতাশাজনক। এভাবে সময়ক্ষেপণ এবং সিদ্ধান্তহীনতার কারণে ভালো উদ্যোগেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অথচ এ সুবিধা পাওয়ার আশায় অনেক প্রবাসী অর্থ পাঠানো বন্ধ রেখেছেন। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টির জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্টরা দায় এড়াতে পারে না।

বাজেট ঘোষণার পর থেকেই রেমিট্যান্সে প্রণোদনা দেওয়া বিষয়ে এক ধরনের টানাপড়েন দেখা যাচ্ছে। এর আগে অর্থ মন্ত্রণালয়ের চাওয়া মোতাবেক মতামত দিলেও কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি বলে দাবি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় রেমিট্যান্সে প্রণোদনার পরিবর্তে সার্ভিস চার্জ কমানোর পরামর্শ দিয়েছে। সব মিলিয়ে এটি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। অবশ্য অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ১ জুলাই থেকে এটি কার্যকর হয়েছে। তবে এগুলোকে ফাংশনাল করার জন্য কিছু সময় লাগে। তার কথা অবশ্যই যুক্তিযুক্ত। তবে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এত সময়ক্ষেপণের বিষয়টি বোধগম্য নয়।

রেমিট্যান্স প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হলে বা কমে গেলে কতটা ক্ষতির কারণ হতে পারে-তা সংশ্লিষ্টদের অজানা নয়। অবশ্য অর্থমন্ত্রী বলেছেন, এখন দেশে কেউ রেমিট্যান্স পাঠালে যেহেতু বাজেটে পাস হয়েছে, সেহেতু ছয় মাস পরে হলেও প্রণোদনা পাবেন। তবে এ ব্যাপারটি এখনও অবগত নন প্রবাসীরা। ফলে তারা রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে কালক্ষেপণ করছেন। বিষয়টি দ্রুত স্পষ্ট করা প্রয়োজন। এছাড়া জটিলতা পরিহার করে অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে বলে আমরা আশা করি। এক্ষেত্রে কোনো সমন্বয়হীনতা থাকলেও তা দ্রুত দূর করা জরুরি।

সর্বশেষ..