সম্পাদকীয়

রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে জনশক্তির দক্ষতা বাড়ানো হোক

দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বেড়ে চলেছে। বাড়ছে বিনিয়োগ। বেড়ে চলেছে আমদানি ব্যয়। কিন্তু জিডিপির অনুপাতে কমছে রেমিট্যান্স। অর্থনীতি বড় হওয়া ও দেশের বিনিয়োগ বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে রেমিট্যান্স কমে আসা স্বাভাবিক হলেও, গতি এখানে ছন্দ হারিয়েছে। কিন্তু পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতের চিত্র পর্যালোচনা করলে আমরা আমাদের দেশের রেমিট্যান্স হ্রাসের হারটিকে সুখকর বিষয় বলে বিবেচনা করতে পারি না। রেমিট্যান্স কমে আসার পরিপ্রেক্ষিত বিবেচনায় আমাদের শ্রমশক্তির অদক্ষতা কিংবা স্বল্প দক্ষতার বিষয়টি নিশ্চয় বিবেচনা করতে হবে। তবে আরও অনেক কার্যকারণ রয়েছে। সেগুলো সঠিকভাবে অনুসন্ধানে মানসম্পন্ন গবেষণা ও সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করার কোনো বিকল্প নেই।
দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ‘জিডিপির অনুপাতে কমছে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, গত পাঁচ বছরে গড়ে সাত শতাংশ বার্ষিক জিডিপি বৃদ্ধির অনুপাতে হ্রাসমান রেমিট্যান্সের আনুপাতিক দূরত্ব বিপরীত গতিতে বেড়ে হয়েছে চার দশমিক ১৪ শতাংশ। এ চিত্র নিশ্চয় জিডিপির প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আহরণে সবচেয়ে বড় উৎস রেমিট্যান্স। দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও প্রবাসী বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রেখে চলেছে। রেমিট্যান্স দেশের মোট রিজার্ভের ৬৭ শতাংশ অবদান রাখার মাধ্যমে বরাবর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে করে শক্তিশালী। কিন্তু সেই শক্তি ক্রমেই কমছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে আমদানি ব্যয়ে রেমিট্যান্স ৪৩ শতাংশের বেশি অবদান রাখলেও গত অর্থবছরে এ সক্ষমতা মাত্র ২৭ শতাংশে নেমে আসে।
কী কারণে রেমিট্যান্সি কমে যাচ্ছেÑসে বিষয়ে যথাযথ গবেষণা হচ্ছে না। বাইরে যাওয়া জনশক্তির বেশিরভাগই অদক্ষ। দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণগুলো মান ও বিশ্বস্ততায় প্রশ্নবিদ্ধ। অর্থনীতির আকার বড় হওয়ায় বিনিয়োগ বাড়লেও এ জনশক্তি দেশের বিভিন্ন উন্নয়নকাজে অবদান রাখতে পারছে না। সরকারি ও বেসরকারি খাতে বিদেশ থেকে দক্ষ জনশক্তি আনা হচ্ছে। কিন্তু আমাদের জনশক্তি বিদেশে গিয়ে এরূপ ভূমিকা রাখতে পারছে না। ফলে রেমিট্যান্সে তো নয়ই, দারিদ্র্য বিমোচনেও তারা ব্যর্থ হচ্ছে। জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বায়রার মতে, প্রশিক্ষণে আধুনিক সুবিধা এবং পর্যাপ্ত ট্রেনিং সেন্টার না থাকায় মোট পাঠানো জনশক্তির অর্ধেকই অদক্ষ। বিএমটিএ’র হিসাবে ২০১৪ সালে বিদেশগামী মোট শ্রমিকের ৩৪ দশমিক ৯৫ শতাংশ ছিল দক্ষ। ২০১৫ ও ২০১৬ সালে পরিমাণটি কিছুটা বাড়লেও ২০১৭ সালে তা সবচেয়ে বেশি কমে ৩৩ দশমিক ৩৪ শতাংশে নেমে এসেছে। এ পরিস্থিতিতে দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে বলেই আমাদের বিশ্বাস।

সর্বশেষ..