রেলপথে জ্বালানি তেল পরিবহন: প্রতি ট্রিপে অপচয় চার হাজার লিটারের বেশি!

ইসমাইল আলী: বছরে ৫২ থেকে ৫৫ লাখ টন জ্বালানি তেল বিক্রি করে থাকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এ তেলের মাত্র তিন-চার শতাংশ রেলপথে পরিবহন করা হয়। তবে প্রতি ওয়াগনে তেল হ্যান্ডলিং লস হয় প্রায় শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ। আর এক ট্রিপে কমপক্ষে ৩০টি তেলবাহী ওয়াগন পরিবহন করে রেলওয়ে। এ হিসাবে এক ট্রিপেই চার হাজার ১৮৫ লিটার তেল অপচয় হয়।

রেলপথ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির ২৯তম সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। তবে তেল অপচয়ের দায় নিচ্ছে না রেলওয়ে।

তথ্যমতে, বিপিসির আমদানি করা তেলের ৯৫ শতাংশই নদীপথে পরিবহন করা হয়। এক্ষেত্রে ডিজেল ও কেরোসিনের হ্যান্ডলিং লস শূন্য দশমিক ১৭ শতাংশ। এছাড়া অকটেন ও পেট্রলের হ্যান্ডেলিং লস শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ। আর ফার্নেস অয়েলের হ্যান্ডেলিং লস শূন্য দশমিক ৭০ শতাংশ। তেল পরিবহনে এ পরিমাণ ক্ষতির দায় বহন করে বিপিসি। এর চেয়ে বেশি ক্ষতি হলে তা ট্যাংকার মালিকদের বহন করতে হয়।

এদিকে রেলপথে তেল পরিবহন হ্যান্ডেলিং লস হয় শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ। যদিও রেলপথে তেল পরিবহনে কোনো ক্ষতিই বহনে সংস্থাটি রাজি নয়। সম্প্রতি রেলপথ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, যে গাড়িতে তেল পরিবহন করা হয় তার ধারণক্ষমতা ৩১ হাজার লিটার। তেল পূর্ণ করার পর ঘণ্টাখানেক বিশ্রামে রাখা হয়। তেল স্থিরাবস্থায় আসার পর মেকানিক্যাল বিভাগের একজন পরিদর্শক, ট্রাফিক বিভাগের একজন, নিরাপত্তা বিভাগের একজন এবং তেল বিপণন বিভাগের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে পরিমাপ করা হয়। নিরাপত্তা কর্মীদের প্রহরায় তা শেডে সরবরাহ করা হয়। সিল খোলার সময় ট্রাফিকের একজন পরিদর্শক, নিরাপত্তা বিভাগের একজন ও তেল গ্রহণকারীদের একজনের উপস্থিতিতে সিল খুলে পাম্প করে রিজার্ভারে নেওয়া হয়। এক্ষেত্রে হ্যান্ডেলিং লস শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ। ছয় মাস পরপর তা চেক করা হয়।

যদিও রেলওয়ের হ্যান্ডেলিং লসের বিষয়ে একমত নন বিপিসির সিনিয়র ব্যবস্থাপক মো. আবু হানিফ। শেয়ার বিজকে তিনি বলেন, কাগজে-কলমে রেলওয়ে শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ হ্যান্ডেলিং দেখাতে পারে। তবে সংস্থাটি তেল পরিবহনে কোনো লস বহন করছে না। এজন্য বিপিসির পক্ষ থেকে কয়েক দফা প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা গ্রহণ করেনি রেলওয়ে। এছাড়া দুর্ঘটনায় ওয়াগন পড়ে গেলে যে তেলের ক্ষতি হয় তার দামও রেলওয়ে দ্রুত পরিশোধ করে না। এজন্য বছরের পর বছর ঘুরতে হয়।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) হাবিবুর রহমান বলেন, রেলে তেল পরিবহনের ক্ষেত্রে ওয়াগনের সিলকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সিল সম্পূর্ণ ঠিক থাকলে ওয়াগনে তেল কম হলো না বেশি হলো, তা রেলওয়ের দেখার বিষয় নয়। তবে সিল ভাঙা থাকলে তেল গ্রহণকারী কোম্পানির প্রতিনিধির উপস্থিতিতে তা পরিমাপ করা হয়। ওয়াগনে তেল কম থাকলে তার ক্ষতিপূরণ করে রেলওয়ে।

তিনি আরও বলেন, দুর্ঘটনায় তেল নষ্ট হলে তার দায় নেয় রেলওয়ে। এক্ষেত্রে বিপিসির অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়। কিছুটা সময় লাগলেও তার মূল্য পরিশোধ করে দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে রেলপথে জ্বালানি তেল পরিবহন করা হয় ৮৬৩ দশমিক ৮০ টন। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৭৫১ টন, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৭৪৬, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৫৫৯ ও ২০১১-১২ অর্থবছরে ৬১৬ টন।