হোম সম্পাদকীয় রেলে সুদৃষ্টি অব্যাহত থাকুক

রেলে সুদৃষ্টি অব্যাহত থাকুক


Warning: date() expects parameter 2 to be long, string given in /home/sharebiz/public_html/wp-content/themes/Newsmag/includes/wp_booster/td_module_single_base.php on line 290

গতকালের শেয়ার বিজে প্রকাশিত ‘ইন্দোনেশিয়া থেকে ২০০ কোচ কেনায় চুক্তি সই’ শিরোনামের রিপোর্টটি দেশের রেল খাতের জন্য সুখবর। ইতোমধ্যে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার ২৭০টি বগি রেলবহরে যুক্ত হয়েছে। এ থেকে স্পষ্টতই বোঝা যায়, সরকার এ খাতে গুরুত্ব বাড়াচ্ছে।

দেশের যোগাযোগব্যবস্থায় রেল খাতের উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া কতটা প্রয়োজনÑসরকার তা অনুধাবন করতে পেরেছে। এর প্রমাণ বহন করে ২০১১ সালে পৃথক রেলপথ মন্ত্রণালয় গঠন। এছাড়া রেলওয়ের উন্নয়নে সরকার প্রতিবছর বরাদ্দ বাড়িয়ে চলেছে।

সড়কপথের চেয়ে রেল যোগাযোগ বেশি নিরাপদ ও কম ব্যয়হুল। এ কারণে রেল পরিবহন জনসাধারণের কাছে জনপ্রিয়ও বটে। বর্তমানে দেশের ৪৪টি জেলায় রেল সংযোগ রয়েছে। কিন্তু মানসম্মত সেবার অভাবে ও নির্দিষ্ট কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে এ খাত অনেকটাই পিছিয়ে। স্বাধীনতা-পরবর্তী কয়েক দশকে সড়কব্যবস্থার উন্নয়নে যতটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, সে তুলনায় অবহেলায় থেকেছে রেল পরিবহন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় রেলপথে যাত্রীর চাপ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। এ থেকে ধরে নেওয়া যায়, রেল খাতের প্রতি সরকারের পাশাপাশি যাত্রীদেরও আগ্রহ বাড়ছে। এজন্য নতুন কোচ কেনা যথোপযুক্ত সিদ্ধান্ত বৈকি।

পণ্য পরিবহনও রেলওয়ের আয়ের বড় উৎস। তাই যাত্রীবাহী ট্রেনের পাশাপাশি পণ্যবাহী রেলসেবা উন্নয়নেও যথোচিত গুরুত্ব দিতে হবে। বর্তমানে রেলপথ পণ্য পরিবহনে পিছিয়ে আছে, এ ব্যাপারটি কর্তৃপক্ষ বিবেচনায় নেবে বলেই আমরা আশা করব। কোচ কেনাসহ বিভিন্ন খাতে রেলের বাড়তি ব্যয় কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার জন্যও এটি প্রয়োজন।

রেল অধিদফতরের হাজার হাজার একর জমি অব্যবহত বা অপব্যবহৃত রয়েছে। সেদিকেও দৃষ্টি দেওয়া চাই। ঢাকা-চট্টগ্রাম ডাবল লাইনের মতো দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রেলরুট সম্প্রসারণের মাধ্যমে এসব জমির সদ্ব্যবহার করা যেতে পারে। এর সঠিক ব্যবহারে রেলের লোকসানের বোঝাও কিছুটা কমানো যায়। বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা রেলস্টেশনগুলো সংস্কারের পর চালুর ব্যবস্থাও নিতে হবে। এর বাণিজ্যিক সম্ভাবনা অবশ্য দেখা দরকার।

সরকার প্রণীত রেল খাতের মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় ২৩৫টি প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা রেল যোগাযোগ উন্নয়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা যায়। আধুনিক যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে রেলের সম্ভাবনাকে পূর্ণাঙ্গভাবে কাজে লাগাতে এ মাস্টারপ্ল্যানের আওতাধীন প্রতিটি প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। প্রকল্পগুলো যেন সর্বতোভাবে পরিবেশবান্ধব হয়, সেটিও আমলে নিতে হবে।

যোগাযোগ ব্যবস্থা বাদেও আর্থসামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে রেলব্যবস্থা। এর উন্নতি হলে কম সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ রাজধানীসহ অন্যান্য বড় শহরে যাতায়াত করতে পারবে। এতে রাজধানীতে মানুষের চাপ কমবে এমন সম্ভাবনাও কম নয়। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগও বাড়ছে আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি হারে। এক্ষেত্রেও রেল হতে পারে দক্ষ ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। ইতোমধ্যে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সঙ্গে রেলপথ উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে। খাতটিতে সরকারের সুনজর অব্যাহত থাকলে আশা করা যায়, অচিরেই দেশে একটি আধুনিক ও সক্রিয় রেলকাঠামো গড়ে উঠবে।