হোম শেষ পাতা রোহিঙ্গাদের ত্রাণে সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্ত করার দাবি বিএনপির

রোহিঙ্গাদের ত্রাণে সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্ত করার দাবি বিএনপির


Warning: date() expects parameter 2 to be long, string given in /home/sharebiz/public_html/wp-content/themes/Newsmag/includes/wp_booster/td_module_single_base.php on line 290

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ত্রাণ বিতরণে বিশৃঙ্খলা চলছে অভিযোগ করে এ কাজে সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্ত করার দাবি জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানোর পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এর আগে সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতিও সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্ত করার দাবি করে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সেখানে কোনো ম্যানেজমেন্ট নেই, প্রায় ফেল করে যাচ্ছে। ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ বিশাল সমস্যা মোকাবিলায় সরকারের অবিলম্বে জাতীয় পর্যায়ে সব রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলোকে নিয়ে আলোচনা করে সব মানুষকে এখানে সম্পৃক্ত করাটা অত্যন্ত জরুরি। রোহিঙ্গাদের ত্রাণ ও সহায়তা দিতে বিএনপি কমিটির প্রধান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, সরকারের প্রতি আহ্বান জানাব, অবিলম্বে দেশি-বিদেশি যত সহযোগিতা ও অনুদান এসেছে, তা সুষ্ঠুভাবে বণ্টনের জন্য রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সেনাবাহিনী নিয়োগ করুন।

কয়েক দিন আগে রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিতে গিয়ে কক্সবাজারে স্থানীয় প্রশাসনের বাধা পায় বিএনপি। প্রশাসন এ প্রসঙ্গে বলছে, ত্রাণ বিতরণে ‘সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে’ বিএনপিকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পুনর্বাসনের কাজেও সেনাবাহিনীকে যুক্ত করার আহ্বান জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নাগরিকত্ব দিয়ে সসম্মানে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। এছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যুকে পুঁজি করে বিএনপি ‘রাজনীতি করছে’ বলে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের বক্তব্যের প্রতিবাদও জানান বিএনপি নেতারা।

মির্জা আব্বাস বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে কোনো রাজনীতি নয়, আসুন দল-মত নির্বিশেষে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে আর্তমানবতার সেবায় কাজ করি। জাতীয় দুর্যোগে যখন একসঙ্গে কাজ করা কর্তব্য, তখন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ত্রাণকাজে বাধা প্রদানের মতো নোংরামি থেকে বিরত থাকার জন্য আমি সরকার ও মাথা মোটা মন্ত্রীদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। বিএনপিকে বাধা দিলেও অন্য দলগুলোকে ত্রাণ বিতরণ করতে দিয়ে সরকার দ্বিমুখী আচরণ করছে বলে অভিযোগ করেন বিএনপি নেতা। ১৩ সেপ্টেম্বর আমাদের ত্রাণ বিতরণ করতে বাধা দেওয়া হলেও ১৪ সেপ্টেম্বর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদকে ত্রাণ বিতরণ করতে এবং মঞ্চ করে ব্যানার লাগিয়ে বক্তৃতা দিতে দেওয়া হয়েছে।

মির্জা আব্বাস আরও বলেন, ২২ ট্রাকের ত্রাণসামগ্রী স্থানীয় বিএনপির উদ্যোগে রোহিঙ্গাদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। আমরা সফরকালে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের ত্রাণ তৎপরতা দেখলেও সরকার ও আওয়ামী লীগের তেমন কোনো কার্যক্রম দেখিনি। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা চাঁদা নিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা অসহায় মানুষের কাছ থেকে ক্ষমতাসীনদের চাঁদাবাজির খবর শুনেছি। এ অপরাধে যুবলীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক বর্তমানে কারাগারে আছেন বলেও তিনি জানান। কেন্দ্রীয় ত্রাণ টিমের সঙ্গে কাজ করার অভিযোগে বিএনপির স্থানীয় ছয় নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার ও তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়ার নিন্দাও জানান মির্জা আব্বাস। নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু উপস্থিত ছিলেন।