সম্পাদকীয়

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বিশ্ব সম্প্রদায়ের ভূমিকা প্রত্যাশিত

সাময়িক নির্যাতন থেকে বাঁচাতে বাংলাদেশ মিয়ানমারের বিতাড়িত রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মানুষদের আশ্রয় দিয়ে উদারতা দেখিয়েছে। কিন্তু এত বিপুল মানুষের চাপ সামলানোর মতো সক্ষমতা বাংলাদেশের নেই। এরই মধ্যে নতুন করে রোহিঙ্গাদের নিয়ে নানা শঙ্কার জন্ম হচ্ছে। বিশেষ করে মাদক চোরাচালানসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার পাশাপাশি কক্সবাজারের স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে প্রায়ই বিবাদে জড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা, যা আমাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে নিঃসন্দেহে। এ জনগোষ্ঠীকে এখন বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি মনে করছেন কূটনীতিকরা। তাই তাদের প্রত্যাবাসনে আশু পদক্ষেপ দরকার বলেও মনে করছেন তারা। কিন্তু প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যে ধরনের ভূমিকা রাখা উচিত ছিল, তা পরিলক্ষিত হচ্ছে না বলেই প্রতীয়মান।
দৈনিক শেয়ার বিজে গতকাল ঢাকা নিযুক্ত ব্রিটিশ কূটনীতিককে উদ্ধৃত করে ‘রোহিঙ্গারা বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য হুমকি: ব্রিটিশ হাইকমিশনার’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে পাঠাতে সবাইকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন। এমনকি তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গারা শুধু বাংলাদেশের নয়, সারা বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। বিশ্বে অনেক সমস্যার মধ্যে রোহিঙ্গা সংকট অন্যতম।
এর আগে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলে আলোচনা হয়। সেখানেও রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে আলোচনা হয়। কিন্তু বিষয়গুলো কেবল আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। জাতিসংঘের মাধ্যমে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার মতো কোনো পদক্ষেপ এখনও নেওয়া হয়নি। যত দিন যাচ্ছে, রোহিঙ্গাদের নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার প্রক্রিয়া স্তিমিত হয়ে পড়ছে, যা বাংলাদেশের সার্বিক আর্থসামাজিক পরিবেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। রোহিঙ্গাদের বসবাসের ব্যবস্থা করতে গিয়ে এরই মধ্যে কয়েক হাজার একর জমির বন উজাড় হয়ে গেছে।
এদিকে রোহিঙ্গারা কৌশলে বাংলাদেশের পাসপোর্ট জোগাড় করে ফেলছে। গত কয়েক দিনে দেশের একাধিক স্থান থেকে বাংলাদেশি পাসপোর্টসহ বেশবিছু রোহিঙ্গা সদস্যকে আটক করা হয়েছে। সাধারণত তাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট পাওয়ার কথা নয়। এক্ষেত্রে পাসপোর্ট সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের বিভিন্ন ইউনিটকে আরও সচেতনভাবে কাজ করা উচিত বলে মনে করি। কারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে অনেকেই অপরাধপ্রবণ। তারা যদি বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে কোনো দেশে গিয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটন করে তাহলে তার দায় বর্তাবে বাংলাদেশের ওপর। ফলে আমাদের সঙ্গে নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হতে পারে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও ভূমিকা নেওয়া উচিত বলে মনে করি।

সর্বশেষ..