হোম প্রচ্ছদ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশে তুরস্কের ফার্স্ট লেডি

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশে তুরস্কের ফার্স্ট লেডি


Warning: date() expects parameter 2 to be long, string given in /home/sharebiz/public_html/wp-content/themes/Newsmag/includes/wp_booster/td_module_single_base.php on line 290

নিজস্ব প্রতিবেদক : রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পরিস্থিতি দেখতে তুরস্কের ফার্স্ট লেডি এমিন এরদোয়ান বাংলাদেশ সফর করেছেন। এ সময় দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেগলুত কাভাসোগলুও তার সঙ্গে ছিলেন। গতকাল দুপুরে তারা কক্সবাজারের কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন। এ শিবিরের নিবন্ধিত শরণার্থী ছাড়াও পাশের একটি অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবিরে যান তারা। এ সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম উপস্থিত ছিলেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তুর্কি ফার্স্ট লেডি এমিন এরদোয়ান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেগলুত কাভাসোগলু দুপুর ১২টায় কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখানে তাদের স্বাগত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। পরে তারা টেকনাফের কুতুপালংয়ের উদ্দেশে রওনা হন। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে তারা কথা বলেন।
এর আগে বুধবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ঢাকায় আসেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। রাত ৩টার দিকে একটি বিশেষ বিমানে শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তুর্কি ফার্স্ট লেডি এমিন এরদোয়ান। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম তাকে স্বাগত জানান বিমানবন্দরে। রোহিঙ্গা পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে গতকালই তুর্কি ফার্স্ট লেডি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজার থেকে ঢাকায় ফেরেন। ঢাকায় ফিরে তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন। মিয়ানমারের রাখাইনে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংস দমন-পীড়নের মুখে রোহিঙ্গারা স্রোতের মতো বাংলাদেশে ঢুকছে। এ পরিস্থিতিকে নজিরবিহীন বলছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। মানবিক সংকটকে গুরুত্ব দিয়ে এরই মধ্যে লাখো রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে।

এদিকে মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চি বলেছেন, তার সরকার সংঘাতকবলিত রাখাইন রাজ্যের প্রত্যেক নাগরিককে রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ‘এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল’-এর সঙ্গে আলাপকালে এ মন্তব্য করেন সু চি। তবে তিনি রাখাইন রাজ্যে নির্যাতনের শিকার সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিষয়ে কোনো কিছু বলেননি। রয়টার্সের খবরে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হয়ে রাখাইন থেকে এ পর্যন্ত দেড় লাখেরও বেশি মুসলিম রোহিঙ্গা সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া নাফ নদী পার হয়ে বাংলাদেশে আসতে গিয়ে এ পর্যন্ত নারী-শিশুসহ ৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এর আগে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি বা আরসা নামে একটি গোষ্ঠী গত ২৫ আগস্ট ভোরে রাখাইনের কয়েকটি পুলিশ চৌকিতে অতর্কিতে হামলা চালানোর খবর প্রকাশিত হয়। এ হামলার অভিযোগে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা অধ্যুষিত মংডু, রাথেডাং, বোথেডাং এলাকায় অভিযান চালায়। ওই সেনা অভিযানে এ পর্যন্ত চার শতাধিক বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে, যার বেশিরভাগই রোহিঙ্গা।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারে মোট ১১ লাখ রোহিঙ্গার বসবাস, যারা দীর্ঘদিন বৌদ্ধপ্রধান মিয়ানমারে জাতিগত নিপীড়নের শিকার। এ অবস্থায়ই অং সান সু চি মন্তব্য করেছেন, ‘আমাদের নাগরিকদের রক্ষা করতে হবে। আমাদের সবাইকে রক্ষা করতে হবে, যারা আমাদের দেশে আছে, এমনকি তারা আমাদের নাগরিক না হলেও।’

এর আগে ইয়াঙ্গুনে সফররত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন সু চি। ওই বৈঠকে সু চি বলেন, ‘অবশ্যই আমাদের সম্পদ যথাযথ নয় এবং পর্যাপ্তও নয়। কিন্তু আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের এটা নিশ্চিত করতে হবে, প্রত্যেকে আইনের সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী।’ আগের দিন মঙ্গলবার মিয়ানমারের নির্বাচিত নেতা হিসেবে সর্বোচ্চ পদাধিকারী (রাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা) অং সান সু চি ভুয়া তথ্যের অবাধপ্রবাহে মিয়ানমারের রাখাইনের পরিস্থিতি বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছিলেন