সম্পাদকীয়

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ান

রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনকে জাতিগত নির্মূলের ‘প্রকৃষ্ট উদাহরণ’ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, এর সমাধান না হলে তা পুরো এশিয়াকে অস্থিতিশীল করে তুলবে। গতকাল শেয়ার বিজে প্রকাশিত এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি আরও বলেছেন, মানবিক কারণে বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা তাদের জনগণকে আশ্রয় দিয়েছে এবং খাদ্য, চিকিৎসাসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদান করছে। বাংলাদেশ এ সমস্যার একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়। রোহিঙ্গারা যাতে নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ ভূমিতে ফিরে যেতে পারে সে জন্য সিআইসিএসহ সংশ্লিষ্টদের সমর্থন ও সহযোগিতা চান রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতির আহ্বান করায় বিষয়টিকে সিআইসিএ সদস্য রাষ্ট্রগুলো বেশ গুরুত্ব দেবে বলেই ধারণা। এখন সরকারকে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়ে সমস্যাটি তুলে ধরতে হবে। তাদের বোঝাতে হবে মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিয়ে দেশটির অভ্যন্তরীণ সংকট নতুন নয়। সভ্যতা ও মানবাধিকারের সব ধারণাকে লঙ্ঘন করে তাদের ওপর রাষ্ট্রীয় মদদে চালানো হয় চরম নৃশংস নির্যাতন। অতিষ্ঠ হয়ে লাখ লাখ মুসলিম রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। সামর্থ্য সীমিত হলেও বাংলাদেশ মানবিক কারণে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু এটি বিভিন্নভাবে বাংলাদেশের জন্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোহিঙ্গাদের আগমনে বাংলাদেশের পরিবেশ বিপর্যয় নিয়ে গত সেপ্টেম্বরে প্রতিবেদন প্রকাশ করে ইউনাইটেড ন্যাশনস ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনডিপি) ও ইউএন উইমেন। জাতিসংঘের এই দুই সহযোগী সংগঠনের প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের প্রতি মাসে প্রয়োজন ছয় হাজার ৮০০ টন জ্বালানি কাঠ। প্রতিটি পরিবারের বাড়ি তৈরিতে লাগছে প্রায় ৬০টি বাঁশ। এটিও আসছে প্রাকৃতিক বন থেকে। কুতুপালং ও বালিখালী ক্যাম্পে স্থাপিত হয়েছে সহস্রাধিক নলকূপ ও গভীর নলকূপ। এতে এক স্থান থেকে বেশি পানি উত্তোলনে পানির স্তর নেমে গেছে ১০০ মিটার নিচে। এ নিয়ে বিশ্বসম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সে অর্থে সমস্যার সমাধানে বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো তেমন সক্রিয় নয়।
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে না পারায় বিশ্বের শান্তিকামী মানুষ হতাশ। এ সংকট সমাধানে বড় বাধা হলো রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে কার্যকর ভূমিকা রাখছে না জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাশিয়া ও চীনের অনিচ্ছা। পরীক্ষিত বন্ধু হলেও আমরা দেশ দুটিকে প্রভাবিত করতে পারিনি। সমস্যাটি আঞ্চলিক সংকটে রূপ নেওয়ায় তা নিরসনে চীনই আমাদের সহায়তা করতে পারে। চীনের সঙ্গে সরাসরি কূটনৈতিক সহায়তায় তা সম্ভব না হলে সিআইসিএ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সাহায্যে তা করতে হবে।

সর্বশেষ..