লক্ষ্মীপুরের ১৮ বিদ্যালয়ে সততা স্টোর

জুনায়েদ আহম্মেদ, লক্ষ্মীপুর: দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিটি উপজেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘সততা স্টোর’ চালু করার নির্দেশনা দেয়। প্রাথমিকভাবে লক্ষ্মীপুরের ১৮ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তা চালু করা হয়। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা ও অর্থাভাবে বাকি বিদ্যালয়গুলোতে এখনও চালু হয়নি। লোকসানের কারণে দু’একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সততা স্টোর বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সততা স্টোর স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সততা স্টোরে শিক্ষার্থীদের জন্য খাবার ও নানা শিক্ষা উপকরণ রাখা থাকবে। কিন্তু কোনো বিক্রেতা থাকবে না। অবশ্য পরিকল্পনা ছিল পণ্য বিক্রির লাভের টাকা দিয়ে গরিব ও অসহায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের পোশাক, শিক্ষা উপকরণ, জুতা ও ওষুধসহ নানা সহায়তা দেওয়া হবে। কিন্তু লোকসানের কারণে পরিকল্পনা কার্যত বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না।
জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় মোট ১৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সততা স্টোর চালু রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১১টি, রায়পুরে তিনটি, রামগঞ্জে একটি, কমলনগরে দুটি ও রামগতিতে একটি চালু রয়েছে।
রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার পাইলট বিদ্যালয়ের সততা স্টোর গত বছরের ১৭ আগস্ট চালু হয়। বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে নীতিবাক্য সংবলিত ব্যানার, দাম নির্ধারণ করে তাকে সাজানো রয়েছে পণ্য, তালাবদ্ধ ক্যাশ বাক্স, টেবিলে রাখা আছে রেজিস্টার খাতা ও রয়েছে কয়েকটি চেয়ার। শিক্ষার্থীরা তাদের চাহিদামতো পণ্য নিয়ে নির্ধারিত দাম ক্যাশ বাক্সে রাখছে আর রেজিস্টার খাতায় ক্রেতার নাম, শ্রেণি ও রোল লিপিবদ্ধ করছে। তাকে সুসজ্জিতভাবে সাজানো রয়েছে হরেক রকমের পটেটো চিপস, বিস্কুট, চানাচুর, চকোলেট, সিঙ্গারা, আচার, সমুচা, বই, খাতা ও নানা শিক্ষাউপকরণসহ বিভিন্ন সামগ্রী।
সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, এটি আমাদের সম্পদ। তাই এটি সংরক্ষণ ও রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার। আমরা কেউ টাকা ছাড়া এখান থেকে কিছু নিই না। তবে ভাংতি টাকা না থাকলে পণ্য কিনতে ঝামেলা পোহাতে হয়।
প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ জানান, সততা স্টোরটি চালুর পর প্রথম কয়েক দিন কিছু শিক্ষার্থী টাকা না দিয়েই পণ্য নিয়ে যেত। বিষয়টি শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে বলা হয়েছে। তবুও সতর্কতার জন্য ক্লাস শেষে একজন শিক্ষককে তা পর্যবেক্ষণের জন্য বলা হয়েছে। তবে সততা স্টোর পরিচালনার ক্ষেত্রে সঠিক পরিকল্পনার অভাব রয়েছে।
এদিকে সদর উপজেলার মান্দারী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে গত বছর সততা স্টোর চালু করা হলেও বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের গেটের বাইরের বিভিন্ন দোকান থেকে নানা শিক্ষা উপকরণ ও খাবার কিনতে দেখা যায়।
প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন জানান, চালুর পর থেকে কয়েক মাস লাভবান হলেও পরবর্তী সময়ে টানা লোকসানের কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে সততা স্টোর। অবশ্য শুরুতে ব্যাপক সাড়া থাকলেও কিছু শিক্ষার্থীর নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। আর এজন্য সততা স্টোর পরিচালনায় পরিকল্পনার ত্রুটিকে দায়ী করেন তিনি।
এদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সততা স্টোরের তেমন কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি। কিন্তু কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নামমাত্র সততা স্টোর চালু রয়েছে। এছাড়া কয়েকটি বিদ্যালয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সততা স্টোরের ব্যাপারে সম্যক কোনো ধারণাও দিতে পারেনি।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু জাফর মো. সালেহ্ জানান, লক্ষ্মীপুরের অধিকাংশ পুরোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সততা স্টোর চালু আছে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের স্টুডেন্টস কাউন্সেলিংয়ের তত্ত্বাবধানে এটি পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া যেসব বিদ্যালয়ে সততা স্টোর এখনও চালু হয়নি, সে প্রতিষ্ঠানগুলোকে তা চালু করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।