সারা বাংলা

লক্ষ্মীপুরে অধিকাংশ ইটভাটা স্থাপনে মানা হয়নি নীতিমালা

Dhaka is extremely overpopulated capital city of Bangladesh. Because of drought, famine, water salinity around the country encouraged mass migration to Dhaka. In reality, the city itself lost its capacity to accommodate more people. Brick kilns are taking places into green spaces and growing more high rising buildings everywhere around city. No one can find a place to have a pure breath. The main river Buriganges in the city is nearly dead because of huge industrial pollution. Though Bangladesh is proceeding towards industrialization it requires being very careful regarding environmental impacts. Otherwise the whole nation has to suffer in the long run.

জুনায়েদ আহম্মেদ, লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুর জেলায় দেড় শতাধিক ইটভাটা রয়েছে। এসব ইটভাটা স্থাপনে বেশিরভাগেই মানা হয়নি সরকারের কোনো নীতিমালা। মৌসুমের শুরুতেই কয়েকটি ইটভাটায় প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করলেও দৃশ্যত কোনো ইটভাটাই তাদের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করেনি। বরং অবৈধ এসব ইটভাটার মালিকরা বাংলাভাটা নামের সমিতি করে চাঁদা তুলে কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে ইট তৈরি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
জানা গেছে, সদর উপজেলা, কমলনগর, রামগতি, রায়পুর ও রামগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দেড় শতাধিক ইটভাটা গড়ে উঠেছে। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৩ অনুযায়ী, আবাসিক এলাকা ও কৃষিজমির এক কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ। পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ও লাইসেন্স ছাড়াই ঘনবসতি এলাকাগুলোতে পরিবেশ দূষণ করে গড়ে উঠছে এসব ইটভাটা। পরিবেশ রক্ষায় সনাতনি পদ্ধতির পরিবর্তে জিগজ্যাগ পদ্ধতিতে ভাটা নির্মাণের জন্য নির্দেশনা থাকলেও ইটভাটা কর্তৃপক্ষ নানান অজুহাতে তা করছে না। ভাটাগুলোর পাশে রয়েছে ধানক্ষেত। আর ১০০ থেকে ১৫০ গজের মধ্যে রয়েছে জনবসতি, বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থাপনা।
একদিকে কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে তৈরি করা হচ্ছে ইট। অন্যদিকে অবৈধভাবে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। ফলে দিন দিন পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য বিপন্ন হচ্ছে। কৃষিজমি, বসতবাড়ি, স্কুল-কলেজ ও ইউনিয়ন পরিষদের কাছাকাছি ইটভাটা নির্মাণের ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে। এসব ইটভাটায় কয়লার পরিবর্তে অবাধে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। ব্যবহার করা হচ্ছে টিনের তৈরি চিমনি। অপরদিকে এসব ইটভাটায় পোড়ানো কাঠ স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করায় জেলার বনজ সম্পদও উজাড় হয়ে যাচ্ছে। অধিকাংশ ভাটার মালিক স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় অপরিকল্পিতভাবে ভাটা গড়ে উঠলেও সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতে সাহস পায় না।
রামগঞ্জ উপজেলার নাগরাজারামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে ছানা উল্ল্যাহ ব্রিকস নামে একটি ইটভাটা রয়েছে। এ ইটভাটায় গিয়ে দেখা যায়, সূর্যের প্রখর তাপের মাঝেও আট বছর বয়সী আবদুর রহিম ইটভাটায় কাজ করছে। সে প্রতিদিন তিন হাজার ইট ভাটায় সোজা করে রাখে। শুধু আবদুর রহিমই নয়, এরকম আরও ৩০-৪০ শিশু কাজ করছে একেকটি ভাটায়। অথচ আইন বলছে, ১২ বছরের নিচের কোনো শিশুকে দিয়ে কাজ করানো যাবে না। শুধু রামগঞ্জ নয়, জেলার বেশিরভাগ ইটভাটায় ১২ বছরের কম বয়সী শিশুরা কাজ করছে। এসব শিশু ইট তৈরি, ইট সোজা করা ও ইট টানার কাজ করে থাকে। প্রত্যেক শিশু ২০ কেজি বা তারও বেশি ওজনের সমান ছয় থেকে আটটি কাঁচা ইট মাথায় করে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যেসব শিশু ইটের কারখানায় কাজ করে, তাদের অধিকাংশই কুমিল্লা, লাকসাম ও নোয়াখালী থেকে এসেছে। শিশুদের অভিভাবকদের অনেক ভাটার মালিক দাদন দিয়েছে। শিশুদের বাবা-মা কারখানা মালিকদের কাছ থেকে ছয় মাসের জন্য ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা নিয়েছেন। এ টাকা নেওয়ার কারণে পড়াশোনা বাদ দিয়ে ইটের কারখানায় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে এসব শিশু। এসব শিশু ভাটাতেই ঘুমায়। ভোরে ঘুম থেকে উঠে চলে যায় ইটখোলায়। টানা কাজ করে বিকাল ৪টা পর্যন্ত।
২০১৩ সালের ২০ নভেম্বর বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন-২০১৩ প্রকাশিত হয়। নতুন আইনের ধারা-১-এর উপধারা-২ অনুযায়ী ২০১৪ সালের ১ জুলাই থেকে এটি কার্যকর করার বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত রয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী দেশের সব পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন এলাকার ইটভাটা ২০১৪ সালের ৩০ জুনের মধ্যে বন্ধ অথবা অন্যত্র স্থানান্তরের জন্য নির্দেশনা রয়েছে। ইটভাটা মালিকদের এ কাজে উৎসাহিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ঋণ সহায়তা প্রদানের ঘোষণা সত্ত্বেও আধুনিক পদ্ধতিতে পরিবেশবান্ধব ইটভাটা স্থাপনে এগিয়ে আসেননি ভাটা মালিকরা।
জেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি অহিদ উদ্দিন মাস্টার জানান, জেলায় বর্তমানে ১২০টির মতো ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে ৯২টি ইটভাটা অবৈধ। আইন মেনে যারা ভাটা করেছেন, তাদের মধ্যে আমাদের সমিতিতে অন্তর্ভুক্ত ২২টি। আর যারা বাংলাভাটার মালিক, তাদের সমিতির সদস্য করা হয়নি।
জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল জানান, ইটভাটায় শিশু শ্রমিক ও অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চলছে। তবে অবৈধ কোনো ইটভাটা চলতে দেওয়া হবে না।

সর্বশেষ..



/* ]]> */