সারা বাংলা

লক্ষ্মীপুরে জমে উঠেছে মৌসুমি ফলবাজার

জুনায়েদ আহম্মেদ, লক্ষ্মীপুর: মৌসুমি ফল আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু ও আনারসে ভরে গেছে লক্ষ্মীপুর। আর এসব ফল বেচাকেনায় ফল বিক্রেতাদের ব্যস্ততার পাশাপাশি মৌসুমি বিক্রেতাদেরও আনাগোনা বেড়েছে। প্রতিদিন মৌসুমি ফলের স্বাদ নিতে ক্রেতারা ফল দোকানগুলোতে ভিড় করছেন। ব্যবসা এতদিন মন্দা হলেও জ্যৈষ্ঠ মাসের শুরুতে বিক্রি বেড়েছে। আর এবার কেমিক্যালমুক্ত ফল ও প্রশাসনের নজরদারি থাকায় দাম নিয়েও ক্রেতারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
বছরের অন্য সময়ের তুলনায় মৌসুমি ফলের সমাহার এই জ্যৈষ্ঠ মাসে সবচেয়ে বেশি। মৌসুমি এসব ফল বিক্রির জন্য শহরের ফল দোকানগুলো ছাড়াও ফুটপাত ও অলিগলিতে ফলের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। চাহিদার পাশাপাশি লাভ ভালো হওয়ায় মৌসুমি ফল ব্যবসায়ীরাও খুশি। ফলের বাজারে এবার লিচুর আধিক্য সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।
সদর উপজেলার বৃহৎ বাণিজ্যিক এলাকা চন্দ্রগঞ্জ, বশিকপুর, দত্তপাড়া, জকসিন, রায়পুর পৌর শহর, হায়দরগঞ্জ, কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট, করুণানগর, রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার, রামগঞ্জ পৌর শহরসহ প্রায় সব বাজারে দেশীয় ফলের সরবরাহ বেড়েছে। এসব ফলের মধ্যে কাঁঠাল আকারভেদে ১০০-১৫০ টাকা, মণ্ডল (জামরুলের স্থানীয় নাম) প্রতিকেজি ৮০-১০০ টাকা, দেশীয় আম প্রতি কেজি ১৫০-১৬০ টাকা, পাহাড়ি আনারস প্রতিটি ৪০-৬০ টাকা, বাঙ্গি প্রতিটি ৫০-৬০ টাকা ও লিচু প্রতিশ’ ২০০-২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন রাস্তায় ও ছোট ছোট বাজারে এবং মোড়ে মোড়ে রিকশাভ্যানে ফেরি করে দেশি জাতের আম, আনারস, কাঁঠাল, মণ্ডলসহ মৌসুমি ফল বিক্রি হচ্ছে।
লক্ষ্মীপুরের পাইকারি ও খুচরা কয়েকটি ফলবাজার ঘুরে দেখা গেছে, খাগড়াছড়ি, রাজশাহী, দিনাজপুর, মৌলভীবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এখানে আম, লিচু, আনারস ও কাঁঠাল আনা হয়েছে। এসব ফল খুচরা বিক্রেতারা আড়তদারের কাছ থেকে কিনে নিচ্ছে।
গত শুক্রবার সকালে শহরের কয়েকটি ফলবাজার ঘুরে দেখা যায়, ১০০ লিচু ২০০-২৫০ টাকা, মাঝারি আকারের কাঁঠাল প্রতিটি ১০০ টাকা ও বড় আকারের ২০০-২৫০ টাকা এবং আনারস জোড়া ৪০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
শহরের উত্তর তেমুহনি এলাকায় লিচু বিক্রেতা মাসুদ জানান, রাজশাহীর লিচুতে কোনো ধরনের কেমিক্যাল নেই, মধুর মতো মিষ্টি, আর এ লিচুতে মাংস বেশি, বিচি ছোট। তবে দিনাজপুর ও রংপুরের বিখ্যাত চায়না-৩ লিচু এখনও বাজারে তেমন আসেনি।
সদর উপজেলার বশিকপুর বাজারের আম ব্যবসায়ী মাইন উদ্দিন জানান, গত কয়েক দিনের দাবদাহে বেচাকেনা তেমন ছিল না। গ্রামাঞ্চলের গাছের আম অনেকটাই পরিপক্ব হয়েছে। এসব আম পাইকারি কিনে তিনি ভ্যানে ফেরি করে খুচরা বিক্রি করছেন। আধাপাকা আম প্রতি কেজি ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এগুলো অনেকে আমসত্ত্ব ও চাটনি করে খাওয়ার জন্য কিনছেন।
সদর উপজেলার মান্দারী বাজারে ফল কিনতে এসেছেন প্রবাসী সোহেল মিয়া। তিনি জানান, সিয়াম সাধনার মাসে ইফতারে ফলের প্রতি সবারই আকর্ষণ থাকে। তবে এ বছর বাজারে পরিপক্ব আম, লিচু ও কাঁঠালের সরবরাহ থাকায় তিনি পরিবারের সবার জন্য এসব ফল কিনেছেন। ফলের বাজার যাতে রাসায়নিক কেমিক্যালমুক্ত (ফরমালিন) থাকে ও অধিক মুনাফা লাভের আশায় দাম নিয়ে কেউ যাতে কারসাজি করতে না পারে, সেজন্য বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার রাখতে হবে।
শহরের উত্তর তেমুহনী এলাকার ফল বিক্রেতা জামাল মিয়া জানান, রমজান উপলক্ষে মৌসুমি ফলের চাহিদা থাকলেও রমজান মাসের শুরুতে তেমন বিক্রি ছিল না। ফলে মৌসুমি ফল এনে অনেক লোকসান গুনতে হয়েছে। রমজান মাসের মাঝামাঝিতে এসে বেচাকেনা বেড়েছে।
লক্ষ্মীপুর বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ জানান, কেউ যাতে বিষযুক্ত ফল বাজারজাত করতে না পারে, সে ব্যাপারে আমরা সতর্ক। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন আমাদের প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা করছে। এরপরও যদি কোনো দোকানে কেমিক্যালযুক্ত ফল পাওয়া যায়, তবে সে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ বছর মৌসুমি ফলের ফলন ভালো হওয়ায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি রয়েছে। বিক্রেতারা মনে করছেন এবার ফল সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যেই থাকবে।

সর্বশেষ..