লক্ষ্মীপুরে বেড়েছে ধুনকের ব্যস্ততা

জুনায়েদ আহম্মেদ, লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরে লেপ-তোশক তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন ধুনকরা। শীত যতই ঘনিয়ে আসছে কারিগরদের ব্যস্ততা ততই বাড়ছে। ভোর হলেই মৌসুমি কারিগররা বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে লেপ-তোশক তৈরি ও পুরোনোগুলো সারানোর কাজ করে চলেছেন। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে তাদের এ ব্যস্ততা।

শীতের কয়েক মাস লেপ-তোশকের দোকানগুলোতে বিক্রি বেড়ে যায়। দোকানগুলোতে কেউ পুরোনো লেপ-তোশক মেরামত করেন, আবার কেউ নতুন লেপ-তোশক বানান। আর এসব সামগ্রী তৈরি, বাজারজাতকরণ ও বিক্রি করতে প্রায় কয়েক হাজার মৌসুমি শ্রমিক ও কারিগর এ পেশার সঙ্গে যুক্ত আছেন। তারা বাড়ি বাড়ি ঘুরে লেপ-তোশক সেলাই কিংবা সারাই করে থাকেন চুক্তির ভিত্তিতে। এছাড়া অনেকেই শহরের লেপ-তোশকের দোকানে কাজ নেন মাসিক বেতনে। জেলার ফেরিওয়ালারাও শীত মৌসুমে রিকশা-ভ্যানে লেপ-তোশক বিক্রি করেন। মহাজনদের কাছ থেকে কমিশনে কিনে গ্রামাঞ্চল আর শহরের পাড়ায় পাড়ায় বিক্রি করেন তারা।

জেলা শহরের লেপ-তোশক ব্যবসায়ী রহিম সওদাগর জানান, তুলার মান ও পরিমাণের ওপর নির্ভর করে লেপ তৈরির খরচ। একটি ডবল লেপ বানাতে তিন-চার কেজি তুলা লাগে। আর লেপ বানাতে সাধারণত কার্পাস তুলা ব্যবহার করা হয়। একজনের ব্যবহার-উপযোগী লেপের দাম ৪০০-৫৫০ টাকা, দুজনের ব্যবহার-উপযোগী লেপের দাম ৭০০-৮০০ টাকা। এছাড়া আরও বড় আকারের লেপ এক হাজার ৪০০ টাকা থেকে এক হাজার ৫০০ টাকায় পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে। তোশক ৭০০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। আর আকারভেদে প্রতিটা লেপ-তোশকের কারিগরদের মজুরি ২০০-৩০০ টাকা দিতে হয়। শীতের দু-তিন মাসে প্রত্যেক কারিগর ২০-২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করে থাকেন। এ বছর পুরোমাত্রায় শীত না আসতেই লেপ বেচাকেনা শুরু হয়েছে।

জেলার বিভিন্ন লেপ-তোশকের দোকান ঘুরে দেখা যায়, লেপ-তোশক তৈরির মূল উপাদান কার্পাস তুলা ১০০-১২০ টাকা, বোমা তুলা ৮০-১০০ টাকা, চাদর তুলা ৬০-৮০ টাকা এবং গার্মেন্ট তুলা ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। ক্রেতাদের চাহিদামতো দোকানিরা লেপ-তোশকের কাপড় ও তুলা দেখাতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। ধুনকরা মুখে কাপড় বেঁধে তুলা প্রক্রিয়াজাত করছেন, আবার কেউ লেপ-তোশকের কাভারের মধ্যে তুলা ভরছেন ও সেলাই করছেন।

ফেরি করে লেপ-তোশক বিক্রি করেন কামরুল হোসেন। তিনি জানান, বাবা-দাদার আমল থেকে এ কাজ করছেন। শীত এলে কাজের চাপ বেড়ে যায়। সকালে মহাজনের কাছ থেকে লেপ-তোশক নিয়ে রিকশাভ্যানে তুলে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বিক্রি করেন। রিকশাভ্যানের ভাড়া ও মহাজনের টাকা পরিশোধ করে দিনে ৩৫০-৫০০ টাকা পর্যন্ত আয় হয়। লেপ তৈরি করাতে আসা সদর উপজেলার দত্তপাড়া গ্রামের রাবেয়া বেগম জানান, কার্পাস তুলার একটি লেপের অর্ডার দিয়েছেন। কাপড়, তুলা ও মজুরি মিলে এক হাজার ২০০ টাকা খরচ পড়ছে।

শহরের তুলা ব্যবসায়ী নুর আমিন জানান, শীত মৌসুমের পুরো তিন মাস কারিগররা যে হারে লেপ-তোশক ও গদি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করেন, বছরের অন্য সময় তা হয় না। শীত এলে কদর বাড়ে কারিগর-ধুনকদের। বছরের প্রায় আট মাস তাদের অনেকটা অলস সময় কাটাতে হয়। এ সময় ভিন্ন পেশায় চলে যান অনেকেই।