লক্ষ্মীপুরে সরবরাহ বাড়লেও কমেনি সবজির দাম

জুনায়েদ আহম্মেদ, লক্ষ্মীপুর: লক্ষ্মীপুরের বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়লেও কমছে না দাম। পাইকারি বাজারে কিছুটা দাম কমলেও খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েনি। বাজারে হরেক রকমের সবজির সরবরাহে ক্রেতারা খুশি হলেও দাম বেশি হওয়ায় তারা হিমশিম খাচ্ছেন। তবে সবজিতে ঘাটতি, পচন ও শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় একটু বেশি দামে বিক্রি করতে হয় বলে জানান বিক্রেতারা।

লক্ষ্মীপুর পৌর কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, লালশাক, পুঁইশাক, পালংশাক, মুলাশাক, লাউ শাকসহ নানা ধরনের সবজি উঠেছে। আঁটিভেদে শাকের দাম রাখা হচ্ছে ১০ থেকে ২০ টাকা। বাজারে কেজিপ্রতি টমেটো ৮৫-৯০ টাকা, শিম ১০০-১২০ টাকা, মুলা ৪৫-৫০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০-৩৫ টাকা, ফুলকপি ৩০-৩৫ টাকা, লাউ ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া অন্যান্য সবজির মধ্যে প্রতি কেজি ঢেঁড়স ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, পেঁপে ২০ টাকা, ঝিঙ্গা ৫০ টাকা, কাকরোল ৪০ টাকা, শসা ৪০-৫০ টাকা, বেগুন ৫০-৬০ টাকা, বরবটি ৪০-৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা করে।

গ্রামে গ্রামে ফেরি করে শীতকালীন সবজি বিক্রেতাদের সংখ্যাও দিন দিন বেড়েছে। স্থানীয় বাজারগুলোতে শীতকালীন সবজি ভরপুর হলেও দাম বেশি হওয়ায় চাহিদামতো কিনতে পারছেন না ক্রেতারা। মরিচের দাম কমলেও পেঁয়াজ ও আদার দাম কমেনি। অপরিবর্তিত রয়েছে মাংস ও মুরগিসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম। তবে সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে ইলিশসহ বিভিন্ন দেশি প্রজাতির মাছের দাম।

সদর উপজেলার জকসিন বাজারের পাইকারি সবজি বিক্রেতা আজাদ মিয়া জানান, লক্ষ্মীপুরের বাজারগুলোয় শীতকালীন সবজি অধিকাংশই কুমিল্লা ও লাকসাম থেকে আনতে হয়। ফলে যাতায়াত ও আনুষঙ্গিক খরচ বেড়ে যায়। এ জেলার কৃষকদের উৎপাদিত সবজি বাজারে আসতে আরও সপ্তাহখানেক সময় লাগবে, তখন দাম কমবে। পৌর শহরে ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করেন আলমগীর জানান, বাজারে নতুন সবজির সরবরাহ বাড়ায় বেচা-বিক্রি বেড়ে গেছে। এখন ব্যবসায় লাভও হচ্ছে বেশি। তবে এখানকার চাষিদের শীতকালীন সবজি এখনও বাজারে না আসায় অন্য জেলা থেকে আসা সবজি অধিক দামে কিনে বিক্রি করতে হচ্ছে। সদর উপজেলার মান্দারী বাজারের একাধিক খুচরা সবজি বিক্রেতা জানান, সরবরাহ বাড়লেও পাইকারিতেই আগাম শীতের সবজির দাম বেশি। ফলে তারাও বাড়তি দরেই বিক্রি করছেন সবজি।

শহরের সবজি ক্রেতা জামাল হোসেন জানান, শহরের প্রতিটি সবজির দোকানে শীতকালীন সবজির দাম বেশি। কোনো দোকানেই নেই মূল্য তালিকা। ফলে প্রতিনিয়ত ক্রেতারা ঠকছেন। এছাড়া নিত্যপণ্যের দর নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাজার তদারকিরও ব্যবস্থা নেই। বাজার তদারকি জোরদার হলে সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেত।