প্রথম পাতা

লক্ষ্যমাত্রার বেশি ধান কেনার সুপারিশ সংসদীয় কমিটির

নিজস্ব প্রতিবেদক: কৃষকদের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার ব্যবস্থা করার জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ধান কেনার ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। গতকাল সোমবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। একইসঙ্গে সরকারি-বেসরকারি, যে কোনো পর্যায়ে চাল আমদানি বন্ধের পাশাপাশি সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে চাল কেনা এবং মধ্যস্বত্বভোগীরা যাতে কোনো সুযোগ না পায় সেজন্য কঠোর নজরদারি রাখার সুপারিশ করেছে কমিটি।
সরকার ধান-চাল ক্রয়ের জন্য ২৫ এপ্রিল থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করলেও জেলায় ক্রয় অভিযান এখনও শুরু হয়নি। সরকারিভাবে এবার প্রতি কেজি ধান ২৬ টাকা এবং প্রতি কেজি চাল ৩৬ টাকায় কেনা হবে। চলতি বোরো মৌসুমে সরকারের ১০ লাখ টন সেদ্ধ বোরো চাল কেনার লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া ৩৫ টাকা কেজি দরে আরও দেড় লাখ টন বোরোর আতপ চাল, ২৬ টাকা কেজিতে দেড় লাখ টন বোরো ধান এবং ২৮ টাকা কেজি দরে ৫০ হাজার টন গম কিনবে সরকার।
বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নাসিম সাংবাদিকদের জানান, ‘এবার ধান উৎপাদন বেশি হয়েছে। এ জন্য সরকারকে বলেছি, দেড় লাখ টন ধান কেনার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তার চেয়ে বেশি কেনার জন্য।’ তিনি বলেন, ভর্তুকি দিয়ে হলেও চাল রফতানি করার সুপারিশ করেছে কমিটি। এছাড়া সরাসরি কৃষকদের নিকট থেকে ধান কেনার জন্য বলেছে, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীরা কোনো সুযোগ না পায়।’
এ সময় খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার জানান, ‘সারা দেশে ২০০টি পাঁচ হাজার টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ‘প্যাডি সাইলো’ নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার। এটি নির্মাণ করা হলে কৃষক সেখানে নিজের ধান শুকিয়ে বিক্রি করতে পারবে।’ এছাড়া আগামী এক মাসের মধ্যে এ প্রকল্পের প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, ধান যাতে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে কেনা হয় তা তদারকির জন্য ২০টি মনিটরিং টিম কাজ করবে। তারা কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করবে বলেও তিনি জানান।
সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে সারা বছর ভেজালবিরোধী অভিযান অব্যাহত রাখার সুপারিশ করা হয়। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম শক্তিশালী করতে লোকবল বৃদ্ধি এবং প্রতিটি জেলায় এর কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুপারিশও করা হয়।
মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার ছাড়াও ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু, আয়েন উদ্দিন এবং আতাউর রহমান খান অংশ নেন।
জানা গেছে, সরকারি ধান-চাল ক্রয় এখনও শুরু না হওয়ায় ফড়িয়ারা ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করে ধান কিনছে; ফলে কৃষকরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। সরকার প্রতি মণ বোরো ধান ১০৪০ টাকায় কিনলেও কৃষক পাচ্ছে তার চেয়ে অনেক কম। মজুদ তলানিতে ঠেকে যাওয়ার পর এখন চাল আমদানি বাড়াচ্ছে সরকার; চাল আসছে ভারত থেকেও। এখন বাজারে প্রতি মণ ধান বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায়। অথচ ধান কাটার একজন শ্রমিককে তার চেয়ে বেশি টাকা দিতে হচ্ছে। ধানের দাম নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেওয়ায় পাকা ক্ষেতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটিয়েছেন কৃষক।

ট্যাগ »

সর্বশেষ..