প্রচ্ছদ শেষ পাতা

লভ্যাংশে পিছিয়েছে অধিকাংশ ব্যাংক

সন্তোষজনক রিটার্ন পাচ্ছেন না শেয়ারহোল্ডাররা

মুস্তাফিজুর রহমান নাহিদ: ২০১৮ সাল শেষে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য দেওয়া পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর গড় লভ্যাংশ বাড়লেও পৃথকভাবে কমেছে অধিকাংশ ব্যাংকের লভ্যাংশ প্রদান। মূলত ডাচ্-বাংলা ব্যাংক তার শেয়ারহোল্ডারদের ১৫০ শতাংশ বোনাস শেয়ার দেওয়ায় এ খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর গড় লভ্যাংশের হার বেড়েছে। কিন্তু অধিকাংশ ব্যাংক এ হারের ধারেকাছে কোনো অঙ্কের লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারেনি। ফলে ওইসব ব্যাংকে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।
বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকের সংখ্যা ৩০টি। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০১৮ হিসাববছর শেষে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে ১৬টি আগের বছরের চেয়ে কম লভ্যাংশ দিয়েছে। সাত প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশ প্রদানের হার আগের মতোই রয়েছে। আর আগের বছরের তুলনায় বেশি লভ্যাংশ দিয়েছে মাত্র পাঁচটি ব্যাংক। এছাড়া দুটি ব্যাংক লভ্যাংশ দেয়নি।
এ বিষয়ে আলাপকালে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বলেন, পুঁজিবাজারের সবচেয়ে শক্তিশালী খাত হওয়া সত্ত্বেও ব্যাংকগুলো কয়েক বছর ধরে আশানুরূপ লভ্যাংশ দিচ্ছে না। যে কারণে এ খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহে ভাটা পড়েছে। তবে পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের অভিমত, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ব্যাংকগুলো মুনাফা বাড়াতে হিমশিম খাচ্ছে। মুনাফা থেকে ঋণের বিপরীতে নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণ এবং করপোরেট কর পরিশোধের পর ব্যাংকের নিট মুনাফা কমে গেছে। যার প্রভাব পড়েছে ব্যাংকের লভ্যাংশে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, কিছু ব্যাংকের মুনাফা কম হওয়ার কারণ প্রধানত প্রভিশন সংরক্ষণ। এ কারণে প্রতিষ্ঠানগুলোর নিট মুনাফা কমে গেছে। আয় কম হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠান বোনাস শেয়ার দিয়ে লভ্যাংশের হার ঠিক রেখেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০১৮ সালে লভ্যাংশের হার হ্রাস পাওয়া ব্যাংকগুলো হলো: ট্রাস্ট ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, এমটিবি, ঢাকা ব্যাংক, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক ও ওয়ান ব্যাংক। এছাড়া এবি ব্যাংক ও আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ প্রদান করেনি। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর লভ্যাংশ প্রদানের হার আগের মতোই আছে।
এ প্রসঙ্গে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ বলেন, মূলত বেশিরভাগ ব্যাংকের মুনাফা কমে যাওয়ায় তারা কাক্সিক্ষত লভ্যাংশ প্রদান করতে পারছে না। মনে হয় না এটি তাদের ইচ্ছাকৃত। মুনাফা কমে গেলে তারা কীভাবে ভালো লভ্যাংশ দেবে।
নিট মুনাফা ব্যাংকের প্রকৃত মুনাফা। পরিচালন মুনাফা থেকে ঋণের বিপরীতে নির্ধারিত হারে নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণ ও করপোরেট কর পরিশোধের পর ব্যাংকগুলোর নিট মুনাফার হিসাব হয়। নিট মুনাফার ওপর ভিত্তি করে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলো লভ্যাংশ দিয়ে থাকে। অবশ্য লভ্যাংশ ঘোষণার আগে নিট মুনাফা থেকে একটি অংশ ‘বিধিবদ্ধ রিজার্ভ’ হিসেবে মূলধনে নিতে হয়। দেশের বেসরকারি ব্যাংকের অধিকাংশই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত। ফলে এসব ব্যাংকের মুনাফা নিয়ে বিনিয়োগকারী ও পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্টদের আগ্রহ বেশি থাকে।
প্রসঙ্গত, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত অধিকাংশ ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) কমেছে। ২০১৮ সালের আর্থিক বছর শেষে ১৯ ব্যাংকের ইপিএস আগের চেয়ে কমে গেছে। তবে ইপিএস কমলেও এ সময়ে (২০১৮) আগের বছরের চেয়ে গড় লভ্যাংশ বেড়েছে। বছরের ব্যবধানে গড় লভ্যাংশ বেড়েছে প্রায় দেড় শতাংশ।

সর্বশেষ..