লভ্যাংশ ঘোষণা

লভ্যাংশ পাঠিয়েছে ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স

নিজস্ব প্রতিবেদক: ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য ঘোষিত লভ্যাংশ পাঠিয়েছে বিমা খাতের কোম্পানি ইউনাইটেড ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, কোম্পানির ঘোষিত বোনাস লভ্যাংশ বিনিয়োগকারীদের বেনিফিশিয়ারি ওনার (বিও) অ্যাকাউন্টে (ফোলিও এবং পেপার শেয়ারহোল্ডার ব্যতিত) শেয়ার তথ্য সংরক্ষণকারী সংস্থা সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে ঘোষিত নগদ লভ্যাংশ বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার নেটওয়ার্কের (বিইএফটিএন) মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হয়েছে।
বিমা খাতের এ কোম্পানিটি ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সাত দশমিক পাঁচ শতাংশ নগদ ও পাঁচ দশমিক ৯৫ শতাংশ বোনাসসহ সর্বমোট ১৩ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ওই সময় কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) করে দুই টাকা ১৮ পয়সা এবং ৩১ ডিসম্বেরে শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়ায় ৩২ টাকা ৯৫ পয়সা। যা আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে দুই টাকা ৪১ পয়সা ও ২৯ টাকা ৯৭ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কোম্পানিটির ইপিএস কমেছে ২৩ পয়সা। ইপিএস কমার পেছনে পুনর্বিমাকরণের প্রিমিয়াম প্রদান, অধিক দাবির ইঙ্গিত, অধিক ব্যয় এবং ইউনাইটেড ফাইন্যান্স লিমিটেডের অংশীদারী সম্পর্কের ডি-রিকগনাইজেশনকে দায়ী করছে বিমা খাতের এ কোম্পানিটি। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নগদ অর্থপ্রবাহ (এনওসিএফপিএস) কমেছে ৬৫ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ সমাপ্ত হিসাববছরে এনওসিএফপিএস হয়েছে ৪২ পয়সা। যা আগের বছর একই সময় ছিল এক টাকা সাত পয়সা। ডিরেক্ট প্রিমিয়াম আন্ডাররাইটিং কমায় এনওসিএফপিএস কমেছে বলে জানা গেছে। এছাড়া ইন্টারন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড (আইএএস)-২৮ অনুযায়ী ইউনাইটেড ফাইন্যান্সের সঙ্গে অ্যাসোসিয়েট রিলেশনশিপ রিকগনাইজেশনের পর ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড (আইএফআরএস)-৯ অনুসারে ফেয়ার মার্কেট ভ্যালুতে ওই কোম্পানির শেয়ারে ইনভেস্টমেন্ট করার জন্য শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য বেড়েছে।
এদিকে গতকাল কোম্পানিটির শেয়ারদর এক দশমিক ৮৮ শতাংশ বা এক টাকা ২০ পয়সা কমে প্রতিটি সর্বশেষ ৬২ টাকা ৫০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ৬৩ টাকা। দিনজুড়ে ৪১ হাজার ৫২৯টি শেয়ার মোট ১৫০ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ২৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা। দিনজুড়ে শেয়ারদর সর্বনিন্ম ৬২ টাকা ৫০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৬৪ টাকা ৯০ পয়সায় হাতবদল হয়। এক বছরে শেয়ারদর ১৯ টাকা ৩০ পয়সা থেকে ৮৮ টাকা ২০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে।
এর আগে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরে কোম্পানিটি ১১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। ওই সময় ইপিএস হয়েছে দুই টাকা ৪১ পয়সা এবং এনএভি হয়েছে ২৯ টাকা ৯৭ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৬ সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কোম্পানিটি ১১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে, যা আগের বছর ছিল ছয় শতাংশ নগদ ও পাঁচ শতাংশ বোনাস। এ সময় কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে দুই টাকা ৮৭ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ২৮ টাকা ৬৪ পয়সা। এটি আগের বছরের একই সময় ছিল যথাক্রমে তিন টাকা ১১ পয়সা ও ২৭ টাকা ৭৫ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে ১২ কোটি চার লাখ ৯০ হাজার টাকা, যা আগের বছর ছিল ১২ কোটি ৪৩ লাখ ১০ হাজার টাকা। ‘এ’ ক্যাটেগরির কোম্পানিটি ১৯৯০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়।

সর্বশেষ..