কোম্পানি সংবাদ

লভ্যাংশ পাঠিয়েছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ও সিটি ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক: ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ সমাপ্ত হিসাববছরের জন্য ঘোষিত নগদ লভ্যাংশ পাঠিয়েছে ব্যাংক খাতের কোম্পানি মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড ও দি সিটি ব্যাংক লিমিটেড। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড: ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ১১ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয় তিন টাকা তিন পয়সা এবং ৩১ ডিসেম্বরে শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়ায় ২৩ টাকা ১৬ পয়সা। যা আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে তিন টাকা ৪৫ পয়সা ও ২০ টাকা ৫১ পয়সা।
এদিকে গতকাল কোম্পানিটির শেয়ারদর এক দশমিক ৪৮ শতাংশ বা ৫০ পয়সা কমে প্রতিটি সর্বশেষ ৩৩ টাকা ৩০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ৩৩ টাকা ৫০ পয়সা। ওইদিন কোম্পানিটির ১৩ লাখ ৯৯ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়। দিনজুড়ে ৪১ হাজার ৭৭৯টি শেয়ার মোট ৫৪ বার হাতবদল হয়। ওইদিন শেয়ারদর সর্বনি¤œ ৩৩ টাকা ৩০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৩৪ টাকা ১০ পয়সায় হাতবদল হয়। গত এক বছরে কোম্পানির শেয়ারদর ২৮ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ৪০ টাকা ৫০ পয়সায় ওঠানামা করে।
৩১ ডিসেম্বর ২০১৭ সালের সমাপ্ত হিসাববছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য সাড়ে ১২ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে, যা তার আগের বছরের চেয়ে দুই দশমিক পাঁচ শতাংশ কম। এ সময় কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে তিন টাকা ৮৯ পয়সা এবং এনএভি দাঁড়িয়েছে ২৩ টাকা আট পয়সা। এটি আগের বছর ছিল যথাক্রমে তিন টাকা ৩০ পয়সা ও ২২ টাকা ১৫ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা করেছিল ১৯৮ কোটি তিন লাখ ৪০ হাজার টাকা, যা আগের বছর ছিল ১৪৬ কোটি ৩৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। ‘এ’ ক্যাটেগরির কোম্পানিটি ২০০৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এক হাজার কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৫৭৩ কোটি ৩৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা। কোম্পানিটির মোট ৫৭ কোটি ৩৩ লাখ ৬৩ হাজার ৩৮টি শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৩৮ দশমিক এক শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ২৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে ৩৮ দশমিক ৫৫ শতাংশ শেয়ার।
দি সিটি ব্যাংক লিমিটেড: ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ছয় শতাংশ নগদ ও পাঁচ শতাংশ বোনাসসহ সর্বমোট ১১ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে দি সিটি ব্যাংক লিমিটেড। ওই সময় কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয় দুই টাকা ৩০ পয়সা এবং ৩১ ডিসেম্বরে শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য দাঁড়ায় ২৫ টাকা ৭৪ পয়সা। যা আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে তিন টাকা ৫৭ পয়সা ও ২৮ টাকা ৪০ পয়সা।
অন্যদিকে কোম্পানিটির প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ, ২০১৯) ইপিএস হয়েছে ৭৯ পয়সা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ৩৮ পয়সা। অর্থাৎ ইপিএস বেড়েছে ৪১ পয়সা। আর ৩১ মার্চ ২০১৯ তারিখে এনএভি দাঁড়িয়েছে ২৬ টাকা ২০ পয়সা। যা গত ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে ছিল ২৫ টাকা ৭৪ পয়সা।
এদিকে গতকাল ডিএসইতে শেয়ারদর অপরিবর্তিত থেকে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ২৮ টাকা ৪০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ২৮ টাকা ৪০ পয়সা। দিনজুড়ে আট লাখ ৫৫ হাজার ১৯৭টি শেয়ার মোট ৫১২ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর দুই কোটি ৪২ লাখ আট হাজার টাকা। দিনভর শেয়ারদর ২৮ টাকা থেকে ২৮ টাকা ৫০ পয়সায় লেনদেন হয়। এক বছরে শেয়ারদর ২২ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৩৬ টাকা ৩০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করে।
এর আগে ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরে বিনিয়োগকারীদের ১৯ শতাংশ নগদ ও পাঁচ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দেয়। যা তার আগের বছরে ছিল ২৪ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ। আলোচিত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে তিন টাকা ৯০ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ২৮ টাকা ৪০ পয়সা। যা আগের বছর একই সময় ছিল যথাক্রমে চার টাকা ৬৪ পয়সা ও ২৭ টাকা ৯৮ পয়সা।
কোম্পানিটি ১৯৮৬ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে বর্তমানে ‘এ’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। এক হাজার ৫০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৯৬৭ কোটি ৯৮ লাখ ৭০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ এক হাজার ৪৯৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, কোম্পানির মোট ৯৬ কোটি ৭৯ লাখ ৮৭ হাজার ২৯৭টি শেয়ার রয়েছে। কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে ৩০ দশমিক ২৯ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ২১ দশমিক ৭৩ শতাংশ, বিদেশি বিনিয়োগকারী ১২ দশমিক দুই এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে বাকি ৩৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ শেয়ার।

সর্বশেষ..