প্রচ্ছদ প্রথম পাতা বাজার বিশ্লেষণ

লভ্যাংশ ভালো দেওয়ায় বহুজাতিক ও দামি শেয়ারে আগ্রহ বাড়ছে

রুবাইয়াত রিক্তা: সপ্তাহের শেষদিনে পুঁজিবাজারের লেনদেন নেতিবাচকভাবে শেষ হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন কমেছে ১২৩ কোটি টাকা। দর কমেছে ৬৬ শতাংশ কোম্পানির। তা সত্ত্বেও ডিএসইতে প্রধান সূচক ডিএসইএক্সের দুই পয়েন্টের বেশি উত্থান হয়। আর সূচকের এই উত্থানে মূল ভূমিকা রেখেছে বেশি দামি শেয়ারগুলো। এর মধ্যে শীর্ষে ছিল ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি (বিএটিবিসি) লিমিটেড। গতকালও কোম্পানিটির প্রায় ৫৪ কোটি টাকা লেনদেনের পাশাপাশি দর বেড়েছে ২১০ টাকা ৬০ পয়সা। এছাড়া ব্র্যাক ব্যাংক, রেনাটা ও গ্রামীণফোনের দরবৃদ্ধিও সূচক ইতিবাচক করতে ভূমিকা রেখেছে। গতকাল সবচেয়ে বেশি দামি ১২ কোম্পানির শেয়ারের মধ্যে ১০টির দর বেড়েছে। বছর শেষে ভালো লভ্যাংশ দেওয়াতে বিনিয়োগকারীরা এখন দাম বেশি হলেও বহুজাতিক ও ভালো কোম্পানির দিকে ঝুঁকছে। বৃহৎ খাতগুলোতে ছিল দরপতনের আধিক্য। ছোট খাতগুলোর মধ্যে সিরামিক, পাট, ভ্রমণ ও অবকাশ খাত তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে ছিল।
লেনদেনের শীর্ষে ছিল ব্যাংক খাত। এ খাতে লেনদেন হয় মোট লেনদেনের ১৮ শতাংশ বা প্রায় ১০৭ কোটি টাকা। এ খাতে মাত্র ২৬ শতাংশ কোম্পানির দর ইতিবাচক ছিল। ব্র্যাক ব্যাংকের ৪৪ কোটি টাকা লেনদেনের পাশাপাশি দর বেড়েছে চার টাকা ২০ পয়সা। কোম্পানিটি লেনদেন ও দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশের মধ্যে অবস্থান করে। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ২৫ কোটি টাকা লেনদেন হয়, দর বেড়েছে ৩০ পয়সা। প্রকৌশল, ওষুধ ও রসায়ন এবং খাদ্য খাতে ১১ শতাংশ করে লেনদেন হয়। ওষুধ ও রসায়ন খাতে ৩৭ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। এ খাতের রেকিট বেনকিজার ও গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইন দরবৃদ্ধির শীর্ষ দশে উঠে আসে। স্কয়ার ফার্মার সাড়ে ১৮ কোটি টাকা লেনদেন হয়। প্রকৌশল খাতে ২২ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। সিঙ্গার বিডির ১৪ কোটি টাকার বেশি লেনদেনের পাশাপাশি দর বেড়েছে ছয় টাকা ৩০ পয়সা। বিএটিবিসির কারণে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে লেনদেন বেড়েছে। এ খাতে ৩১ শতাংশ কোম্পানির দর ইতিবাচক ছিল। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে লেনদেন হয় ১০ শতাংশ। এ খাতের ইউনাইটেড পাওয়ারের সাড়ে ২৭ কোটি টাকা লেনদেন হয়। দর বেড়েছে দুই টাকা ৪০ পয়সা। বহুজাতিক কোম্পানি লিন্ডে বিডির দর ২৮ টাকা ১০ পয়সা বেড়েছে। অপর বহুজাতিক কোম্পানি বাটা শু’র দর ৫৮ টাকা ২০ পয়সা বেড়েছে, লেনদেন হয় সাড়ে ১৩ কোটি টাকা। রেকিট বেনকিজারের দর ১৫৪ টাকা ৫০ পয়সা, গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনের দর ৬৫ টাকা ও রেনাটার দর ৩২ টাকা ২০ পয়সা বেড়েছে। এছাড়া ভ্রমণ ও অবকাশ ও পাট খাতে ৬৭ শতাংশ এবং সিরামিক খাতে ৬০ শতাংশ কোম্পানির দর বেড়েছে। তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে কোনো কোম্পানির দর বাড়েনি।

সর্বশেষ..