লাগামহীন বাড়ছে সিভিও পেট্রোকেমিক্যালের শেয়ারদর

১২ কার্যদিবসে দর বৃদ্ধি ২১ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: লাগামহীনভাবে বাড়ছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিভিও পেট্রোকেমিক্যালের শেয়ারের দর। সর্বশেষ কার্যদিবসে গত বৃহস্পতিবার এ শেয়ারের দর বেড়েছে প্রায় ১০ টাকা। এর আগে গত ১২ কার্যদিবসে এর দরবৃদ্ধি পায় ২১ শতাংশ। কোনো ধরনের সংবেদনশীল তথ্য ছাড়া এ ধরনের দরবৃদ্ধি অস্বাভাবিক বলেই মনে করছেন বাজার-সংশ্লিষ্টরা।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ১২ কার্যদিবস আগে সিভিও পেট্রোকেমিক্যালের শেয়ারদর ছিল ১৯৩ টাকা। এরপর থেকে টানা বাড়তে থাকে এর দর, সর্বশেষ কার্যদিবসে এটি লেনদেন হয় ২৩৩ টাকায়। অর্থাৎ এ সময়ের মধ্যে প্রতিদিন গড় দরবৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় দুই শতাংশ হারে।

এদিকে বিষয়টি জানতে বারবার চেষ্টা করেও কর্তাব্যক্তিদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

সম্প্রতি ‘এ’ থেকে ‘বি’ ক্যাটেগরিতে নেমে গেছে প্রতিষ্ঠানটি। কোম্পানিটি ২০১৭ সালে দুই শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়ে ‘বি’ ক্যাটেগরিতে নেমে যায়।   ওই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয় তিন টাকা ৪২ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়ায় ১৪ টাকা ৫৭ পয়সা। এক্ষেত্রে আগের বছর একই সময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল সাত টাকা ৪০ পয়সা ও এনএভি ২০ টাকা ৫০ পয়সা।

এদিকে সিবিও পেট্রোকেমিক্যালের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শেয়ারটি নিয়ে কারসাজির ঘটনা ঘটেছেÑএমন আশঙ্কা করছেন অনেকে। এ প্রসঙ্গে রফিকুল ইসলাম নামে এক বিনিয়োগকারী শেয়ার বিজকে বলেন, ‘বেশকিছু দিন যাবৎ পুঁজিবাজারের সার্বিক পরিস্থিতি নাজুক। এ অবস্থায় বড় কোনো সংবেদনশীল তথ্য ছাড়া এ ধরনের দর বৃদ্ধি অস্বাভাবিক।’

প্রসঙ্গত ইতিপূর্বে জ্বালানি তেলে ভেজালের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে সিভিও পেট্রোকেমিক্যালে কাঁচামাল সরবরাহে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এতে কোম্পানিটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। উচ্চ আদালতের পরামর্শে দুপক্ষ আলোচনার মাধ্যমে পরে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে। এরপর বিপিসি কাঁচামাল সরবরাহের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। পরে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে থেকে সিলেট গ্যাস ফিল্ড সিভিও পেট্রোতে কনডেনসেট সরবরাহ শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, ১৯৯০ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এ প্রতিষ্ঠানটি ২০১৬ সমাপ্ত হিসাববছরে কোম্পানিটি ২৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে, যা আগের বছর ছিল ১৫ শতাংশ নগদ ও ২৫ শতাংশ বোনাস। সর্বশেষ বছরে প্রতিষ্ঠানটির লোকসান হয় ৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

প্রতিষ্ঠানটির মোট শেয়ারের মধ্যে ৫০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করছে পরিচালকরা। এছাড়া ২৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে। বাকি শেয়ারের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২০ দশমিক ৭৯ শতাংশ এবং বিদেশিদের কাছে রয়েছে শূন্য দশমিক ৬৫ শতাংশ। গত এক বছরের মধ্যে এ শেয়ার সর্বনিম্ন ১৭৬ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২৪৫ টাকায় লেনদেন হয়।