এসএমই

লালমনিরহাটের পাপোশ ইউরোপে

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার পূর্ব দৈলজোড় গ্রামের নারীদের তৈরি পাপোশ রফতানি হচ্ছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। জানা গেছে, দিন দিন বাড়ছে এ পাপোশের চাহিদা। এ পাপোশ কারখানায় কাজ করে হতদরিদ্র পরিবারের নারীরা হচ্ছেন স্বাবলম্বী।
একসময় পরিবারের সদস্যদের জন্য দুবেলা দুমুঠো খাবার জোটানো ছিল কষ্টসাধ্য। এমনকি মাথা গোঁজার ঠাঁই বলতে ছিল একমাত্র খড়ের ঘর। বোঝাই যাচ্ছে, নারীদের নিজস্ব উপার্জন বলতে কিছু ছিল না। স্বামীর রোজগারেই চলত সংসার। ফলে সংসারে অভাব-অনটন সব সময় লেগে থাকত। কিন্তু গত কয়েক বছরে পরিবারগুলোর আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। আর তা সম্ভব হয়েছে ক্লাসিক্যাল হ্যান্ডমেইড প্রডাক্টস বিডি নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পাপোশ কারখানায় কাজের মাধ্যমে। এ কারখানায় দরিদ্র ২৫ নারী পাপোশ তৈরির কাজ করছেন; এখন তারা সবাই স্বাবলম্বী। তাদের জীবনে এসেছে সচ্ছলতা। তাদের সন্তানরা স্কুলে লেখাপড়া করছে। অনেকে টিনের ঘর বানিয়েছেন। প্রতিদিন একেকজন কর্মী সাত থেকে আটটি পাপোশ তৈরি করেন ওই কারখানায়। একটি পাপোশ তৈরির মজুরি ২৮ টাকা। এ হিসেবে এখন একেকজন কর্মী দিনে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন।
পাপোশ শ্রমিকরা জানান, এ কারখানা তাদের স্বাবলম্বী করে তুলেছে। সংসারের প্রয়োজনে আর্থিক সহায়তা করতে পারছেন তারা। খড়ের বদলে তুুলেছেন টিনের নতুন ঘর। ছেলেমেয়েদের পাঠাচ্ছেন স্কুল-কলেজে। সব মিলিয়ে তাদের জীবন থেকে দূর হয়েছে ‘অভাব’ শব্দটি। এখন সবাই তারা স্বাবলম্বী।
ক্ল্যাসিক্যাল হ্যান্ডমেইড প্রডাক্টস বিডি’র সুপারভাইজার রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার তত্ত্বাবধানে এ কারখানায় মাসে প্রায় চার হাজার পিস পাপোশ তৈরি হচ্ছে। এখানকার তৈরি পাপোশ খুবই উন্নতমানের হওয়ায় ইউরোপের দেশগুলোয় চাহিদা রয়েছে।
ম্যানেজার বুলবুল আহমেদ জানান, আমাদের প্রতিনিধিরা ইউরোপের আইপিআর, ওয়ার্ল্ড মার্কসহ বিভিন্ন বায়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করে পাপোশগুলো রফতানি করেন। আমি মনে করি, উদ্যোক্তা বা সংস্থা এ ব্যবসায় এগিয়ে এলে তারাও পাপোশ রফতানি করে আয় করতে পারবে বৈদেশিক মুদ্রা।

সর্বশেষ..