সুশিক্ষা

লেখাপড়া, খেলাধুলা সবই চলে একসঙ্গে বইয়ের ভুবন

ইকবাল রোডের মূল ভবনে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির বৃহৎ গ্রন্থাগারটি রয়েছে। এর অধীনে দুটি আলাদা ভবনে দুটি গ্রন্থাগার আছে। গ্রন্থাগারগুলোতে ৩৫ হাজার বিষয়ভিত্তিক বই, জার্নাল আছে। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির লাইব্রেরিতে এমারাল্ড ইনসাইট সফটওয়্যারের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) জার্নাল যে কোনো ছাত্রছাত্রী পড়াসহ ডাউনলোড করতে পারেন। তিন গ্রন্থাগারে দেড়শ’ আসন রয়েছে, জানালেন লাইব্রেরিয়ান নওশীন লায়লা। তিনি বলেন, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও গবেষকদের জন্য গ্রন্থাগার উম্মুক্ত থাকে। একজন শিক্ষার্থী লাইব্রেরি কার্ড দিয়ে সর্বোচ্চ চারটি বই সাত দিন করে বাসায় পড়ার জন্য নিতে পারেন। ভর্তির সময় যে দুই হাজার টাকা (ফেরতযোগ্য) লাইব্রেরি কার্ড বাবদ নেওয়া হয়, তা দিয়েই চার বছর তারা গ্রন্থাগার ব্যবহার করতে পারেন।

ছয়টি গবেষণাগার
বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবান ল্যাবটি ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। শহরকে সুন্দর ও বাস উপযোগী করে গড়ে তুলতে পরিবেশ, অবকাঠামো, শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, শিক্ষা-প্রযুক্তি নিয়েই মূলত এটি গবেষণা করে। গবেষণাগারের সমন্বয়ক মো. মাহমুদ হোসেন বলেন, ২০১৩ সালে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশের গার্মেন্ট শ্রমিকদের দুঃখ-দুর্দশা ও প্রাপ্তি নিয়ে গবেষণা করে আমরা তাদের প্রতিবন্ধকতা ও জীবন মানোন্নয়নের জন্য গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করেছি। ২০১৬ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সঙ্গে মিলে ‘নগর অ্যাপ’ তৈরি করেছি। এর মাধ্যমে নাগরিকরা সমস্যা, দুর্ভোগ সরাসরি সিটি করপোরেশনকে জানাতে পারবেন।(https://play.google.com/store/apps/details?id=com.orioninformatics.digitaldhaka&hl=en)  গুগল প্লে স্টোরে রয়েছে। গার্মেন্ট শ্রমিকদের আবাসনের জন্য মাসিক দুই হাজার টাকা কিস্তিতে ঘর তৈরি করা সম্ভব এ গবেষণার আলোকে ‘সুবর্ণ প্রাঙ্গণ’ প্রকল্প তৈরির জন্য আমরা গোলটেবিল করেছি। জনস্বাস্থ্যের ওপর বায়ুদূষণের প্রভাব নিয়ে গবেষণার পর সেমিনার করেছি। গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকা শহরের ২৫ শতাংশ অধিবাসী বায়ুদূষণের ক্ষতির শিকার। ২০১৭ সালে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সঙ্গে মিলে ‘ই-হার্ট অ্যাপ’ তৈরি করেছি। এর মাধ্যমে রোগীরা হৃৎস্পন্দন মাপতে পারবেন, হাসপাতালটির চিকিৎসকদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে পারবেন, সময়মতো ওষুধ খাওয়ার জন্য ইচ্ছামতো অ্যালার্ম সেট করতে পারবেন। তবে এটি এখনও গুগল প্লে স্টোরে দেওয়া হয়নি।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এখানেই প্রথম ‘থ্রিডি প্রিন্টার ল্যাব’ চালু হয়েছে। আরও আছে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং ল্যাব’, ‘ফার্মা ল্যাব’ ও ‘আর্কিটেকচার ল্যাব’ ও ‘ইনোভেশন ল্যাব’।
ইনোভেশন ল্যাবের পরিচালক (টেকনিক্যাল) কাজী তাইফ সাদাত বলেন, আমরা প্রযুক্তিপ্রেমী ছাত্রছাত্রীদের মূল আগ্রহের বিষয় রোবট নিয়ে কাজ করি। এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করছি। ভবিষ্যতে ন্যানো স্যাটেলাইট তৈরি করব।

ক্রিকেটে সেরা
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সহশিক্ষা কার্যক্রমের প্রতি জোর দিচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সাতটি ক্লাব রয়েছে বিইউ কালচারাল ক্লাব, বিইউ সোশ্যাল ক্লাব, বিইউ ডিবেট ক্লাব, বিইউ স্পোর্টস ক্লাব, বিইউ কম্পিউটার ক্লাব, বিইউ বিজনেস ক্লাব ও বিইউ ফার্মা ক্লাব। ডিবেট ক্লাবটি ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ক্লাবের সভাপতি ইংরেজি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক শেখ আলাউদ্দিন বলেন, সারা দেশের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে বিতর্কচর্চা জনপ্রিয় করাই আমাদের ক্লাবের মূল লক্ষ্য। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০১৬ সালে ‘বাংলাদেশের সড়কব্যবস্থা কতটুকু নিরাপদ’-এর পক্ষে-বিপক্ষে আমরা বিতর্ক প্রতিযোগিতা করেছি। আশা, পিপলস, স্টামফোর্ড ও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় সেখানে অংশ নিয়েছে। পরের বছর ‘নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনী রোড ম্যাপ আগামী নির্বাচনব্যবস্থার ওপর বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়িয়েছে’Ñএ শিরোনামে সরকারি দলে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিরোধী দলে আমরা ছিলাম। এটিএন বাংলার সংসদীয় ধারার ইউসিবি পাবলিক ডিবেটেও অংশ নিয়েছি। বিইউ সোশ্যাল ক্লাবের সভাপতি সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান, সহযোগী অধ্যাপক ও ‘ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরান্স সেল (আইকিউএসি)’র পরিচালক ড. এমএম এনামুল আজিজ বলেন, আমরা ২০১২ সালে বুড়িগঙ্গার বর্জ্য অপসারণ করেছি, ধানমন্ডি লেকের আবর্জনা পরিষ্কার করেছি। ২০১৪ সালে গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম কলেজে যৌন নিপীড়নের ওপর স্থানীয় শিক্ষকদের নিয়ে আলোচনা সভা করেছি। পরের বছর আদাবরের ঢাকা উদ্যানে ৫০০ গাছ রোপণ করেছি। গত বছর শীতে নেত্রকোনা, পঞ্চগড় ও কুড়িগ্রামের গরিব মানুষের মধ্যে এক হাজার ২০০টি কম্বল বিতরণ করেছি। এছাড়া রোহিঙ্গাদের মাঝে খাবার বিতরণসহ তাদের জন্য ১০০টি আধুনিক শৌচাগার তৈরি করে দিয়েছি।
ক্লাবগুলোর মধ্যে স্পোর্টস ক্লাবই সবচেয়ে জনপ্রিয়। এ ক্লাবের উদ্যোক্তা সংগঠক ও পরিচালক (টেকনিক্যাল) কাজী সাইফ সাদাত বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি সেমিস্টারে খেলোয়াড় কোটায় দুজন ছাত্রছাত্রী ভর্তি করা হয়। তারা বিনা খরচে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। কোটায় ভর্তি হওয়া উল্লেখযোগ্য খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছেনÑজাতীয় ক্রিকেট দলের পেসার মো. আল-আমিন হোসেন, কলাবাগান ক্রিকেট দলের শাওন খন্দকার, অগ্রণী ব্যাংক ও রংপুর বিভাগীয় দলের মেহরাব হোসেন জোশি, ট্যালেন্ট হান্ট ক্রিকেট ক্লাবের রাইয়ান আনাস অন্যতম। ফলে ভালো খেলোয়াড়রাই আমাদের দলে রয়েছে। বিইউ ক্রিকেট দলের ক্যাপ্টেন ও প্রাণ ভোমরা সাইমন আহমেদ প্রিমিয়ার লীগে অগ্রণী ব্যাংক, ন্যাশনাল লীগে রংপুর বিভাগের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান। ক্লাব ম্যানেজার সাদিক ইকবাল বলেন, আমরা ২০১৫ সালে ভারতের কলকাতায় অনুষ্ঠিত বিবেক কাপ টি-টোয়েন্টিতে ভারতের ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমিকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। ২০১৬ সালে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। ২০১৭ ও ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত যথাক্রমে চতুর্থ ও পঞ্চম ক্লেমন ইনডোর ইউনি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। এছাড়া সেজান কাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ও এলএমএস ইউনি ক্রিকেট টুর্নামেন্টেও অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। বিইউ কালচারাল ক্লাব বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা ছাড়াও নিয়মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে, জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনে বিশ্ববিদ্যালয়কে সাহায্য ও সহযোগিতা করে।

সর্বশেষ..