লেনদেনের শীর্ষে ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিদায়ী সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের শীর্ষে রয়েছে ইন্ট্রাকো রিফুয়েলিং স্টেশন লিমিটেড। আলোচ্য সপ্তাহে কোম্পানিটির মোট ১১৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
গত সপ্তাহজুড়ে কোম্পানিটির মোট দুই কোটি ১৬ লাখ ৭২ হাজার ৭৯৮টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যার বাজারদর ১১৮ কোটি ৫৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকা, যা মোট লেনদেনের পাঁচ দশমিক ২৩ শতাংশ। শেয়ারদর আগের সপ্তাহের চেয়ে চার দশমিক শূন্য ছয় শতাংশ কমেছে।
কোম্পানির শেয়ারদর সর্বশেষ কার্যদিবসে দশমিক ৯৭ শতাংশ বা ৫০ পয়সা বেড়ে সর্বশেষ প্রতিটি ৫২ টাকা ৩০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ৫২ টাকা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনি¤œ ৫১ টাকা ২০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৫৪ টাকায় হাতবদল হয়। ওই দিন ২৬ লাখ ৯৯ হাজার ২৬৭টি শেয়ার মোট চার হাজার ২৬৮ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ১৪ কোটি ১৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা। তালিকাভুক্তির পর শেয়ারদর ৪১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ৬৬ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে।
কোম্পানিটির অনুমোদিত মূলধন ১০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৭৫ কোটি টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ ১৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা। কোম্পানিটির মোট শেয়ার রয়েছে সাত কোটি ৫০ লাখ। কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ৩০ দশমিক ৫১ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ২২ দশমিক ৪০ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বাকি ৪৭ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা বিবিধ খাতের কোম্পানি বাংলাদেশ ইক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেডের (বেক্সিমকো) মোট তিন কোটি ৩৮ লাখ ৪১ হাজার ৬৮৩টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যার বাজারদর ৯৩ কোটি চার লাখ ৬৫ হাজার টাকা, যা মোট লেনদেনের চার দশমিক ১১ শতাংশ। শেয়ারদর আগের সপ্তাহের চেয়ে চার দশমিক ২০ শতাংশ বেড়েছে।
কোম্পানির শেয়ারদর সর্বশেষ কার্যদিবসে দুই দশমিক ৪৮ শতাংশ বা ৭০ পয়সা কমে সর্বশেষ প্রতিটি ২৭ টাকা ৫০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল ২৭ টাকা ৩০ পয়সা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনি¤œ ২৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ২৮ টাকা ৩০ পয়সায় হাতবদল হয়। ওইদিন ৫৪ লাখ ৭২ হাজার ২৫৬টি শেয়ার মোট দুই হাজার ৪৬৩ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর ১৫ কোটি ১৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। গত এক বছরে শেয়ারদর ২২ টাকা থেকে ৩৬ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে।
১৯৮৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়ে কোম্পানিটি ‘এ’ ক্যাটেগরিতে অবস্থান করছে। ২০১৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সমাপ্ত হিসাববছরে কোম্পানিটি পাঁচ শতাংশ নগদ ও পাঁচ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। ওই সময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে এক টাকা ২৯ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি সম্পদমূল্য (এনএভি) হয়েছে ৭৬ টাকা ২৫ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা করেছে ১০২ কোটি ৬২ লাখ ১০ হাজার টাকা। ৩০ জুন ২০১৬ পর্যন্ত সমাপ্ত ১৮ মাসে ১৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছে। এ সময় ইপিএস হয়েছে এক টাকা ৫৬ পয়সা এবং এনএভি হয়েছে ৮৫ টাকা ৮৫ পয়সা। ওই সময় কর-পরবর্তী মুনাফা ছিল ১০৮ কোটি ১৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
এক হাজার কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে পরিশোধিত মূলধন ৮৩৪ কোটি ৫৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা। রিজার্ভের পরিমাণ পাঁচ হাজার ২০০ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।
কোম্পানিটির মোট ৮৩ কোটি ৪৫ লাখ ৮৯ হাজার ৪১০টি শেয়ার রয়েছে। ডিএসইর সর্বশেষ তথ্যমতে, কোম্পানির মোট শেয়ারের মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের কাছে রয়েছে ২০ দশমিক ১৫ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক ১৬ দশমিক ৮৭ শতাংশ, বিদেশি আট দশমিক ৯১ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর কাছে রয়েছে ৫৪ দশমিক শূন্য সাত শতাংশ শেয়ার।
তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড। কোম্পানিটির মোট তিন লাখ ১৫ হাজার ৮৪৬টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যার বাজারদর ৮০ কোটি ৪৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, যা মোট লেনদেনের তিন দশমিক ৫৫ শতাংশ। শেয়ারদর আগের সপ্তাহের চেয়ে চার দশমিক ৬৬ শতাংশ কমেছে।
কোম্পানির শেয়ারদর সর্বশেষ কার্যদিবসে এক দশমিক শূন্য তিন শতাংশ বা ২৬ টাকা কমে সর্বশেষ প্রতিটি দুই হাজার ৫০৬ টাকা ৫০ পয়সায় হাতবদল হয়, যার সমাপনী দর ছিল দুই হাজার ৫০৮ টাকা ৩০ পয়সা। দিনভর শেয়ারদর সর্বনি দুই হাজার ৫০৪ টাকা থেকে সর্বোচ্চ দুই হাজার ৫৫৫ টাকায় হাতবদল হয়। ওইদিন ৩৫ হাজার ১৪৯টি শেয়ার মোট দুই হাজার ৪৬৫ বার হাতবদল হয়, যার বাজারদর আট কোটি ৮৭ লাখ ৮০ হাজার টাকা। গত এক বছরে শেয়ারদর দুই হাজার ৩৫ টাকা থেকে তিন হাজার ৬৯০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে।
টপটেন তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানিগুলো হলো আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিউশন কোম্পানি, বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলস, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার, কুইন সাউথ টেক্সটাইল মিলস, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ এবং মুন্নু সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।